মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
ওটিএন বাংলা ডেস্ক- মেলবোর্ন ৭ জুলাই- “সে কুকুরের চেয়েও বেশি বাধ্য… যদি এরকম বোকা আর কয়েকটা আসে!”—নতুন এক ভিডিও গেমের এক নারী চরিত্রের এই উক্তিই চীনে লিঙ্গ বৈষম্য নিয়ে নতুন বিতর্ক উস্কে দিয়েছে।
‘রিভেঞ্জ অন গোল্ড ডিগারস’ নামের এই লাইভ-অ্যাকশন গেমে পুরুষ খেলোয়াড়রা এমন সম্পর্কের ফাঁদে পড়ে, যেখানে ছলনাময়ী নারী সঙ্গী অর্থের লোভে সম্পর্ক গড়ে। খেলোয়াড় কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, তার ওপর ভিত্তি করেই গল্পের পরবর্তী ধাপ নির্ধারিত হয়।
গত জুনে প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গেমটি গেমিং প্ল্যাটফর্ম স্টিমে বিক্রির শীর্ষে ওঠে। তবে খুব দ্রুতই সমালোচনার মুখে পড়ে। অনেকেই বলছেন, এই গেম অপমানজনক নারী-ছবি ও ক্ষতিকর লিঙ্গ-ধারণাকে উৎসাহিত করছে। অন্যদিকে সমর্থকরা বলছেন, ভালোবাসার নামে প্রতারণা সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করাই গেমটির উদ্দেশ্য।
সমালোচনার তাপে পরদিনই গেমটির নির্মাতারা চুপিসারে এর নাম বদলে রাখেন ‘ইমোশনাল অ্যান্টি-ফ্রড সিমুলেটর’। কিন্তু এতেও বিতর্ক থামেনি। গেমের প্রধান পরিচালক, হংকংয়ের চলচ্চিত্র নির্মাতা মার্ক হু-কে চীনের একাধিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গেম নির্মাতারা জোর দিয়ে বলছেন, তাদের উদ্দেশ্য কখনোই “নারীদের লক্ষ্যবস্তু করা” নয়, বরং আধুনিক সম্পর্কের সীমানা ও ‘গ্রে এরিয়া’ নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনার সুযোগ তৈরি করা।
সমালোচকরা বলছেন, ‘গোল্ড ডিগার’ শব্দটিই নারীর প্রতি বিদ্বেষের প্রতিফলন। “আপনার ধনী প্রেমিক থাকলে আপনাকে গোল্ড ডিগার বলা হয়। সাজতে চাইলে গোল্ড ডিগার বলা হয়। কখনো তো কারও দেওয়া এক গ্লাস পানীয় গ্রহণ করলেও এই তকমা জোটে,” বলেন শু।
তবে কিছু খেলোয়াড় আবার সমালোচনাকে বাড়াবাড়ি মনে করছেন। ৩১ বছর বয়সী ঝুয়াং মেংশেং নামের একজন বলেন, “এই গেম মোটেও বলছে না যে সব নারীই লোভী। এখানে নারী-পুরুষ উভয়েই গোল্ড ডিগার হতে পারে।”
তবুও গেমটিতে সব ‘গোল্ড ডিগার’ চরিত্রই নারী—কখনো অনলাইন ইনফ্লুয়েন্সার, কখনো উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোক্তা, যাদের প্রধান উদ্দেশ্য পুরুষদের দিয়ে উপহার আর অর্থ আদায়।
“কোনও পুরুষ আপনাকে ভালোবাসে কি না জানতে চান? দেখুন সে কত খরচ করে,”—গেমের এক চরিত্রের উক্তি।
এই গেমটি স্থানীয় সংবাদপত্র মাধ্যম গুলোর বিভাজন করে দিয়েছে। হুবেই প্রদেশের একটি সংবাদপত্র বলেছে, “এটি পুরো নারী সম্প্রদায়কে প্রতারক হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে।” অন্যদিকে বেইজিং ইয়ুথ ডেইলি এটিকে ‘সৃজনশীলতা’ হিসেবে প্রশংসা করেছে। তাদের যুক্তি, প্রেমের নামে প্রতারণায় শুধু গত বছরেই ২ বিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ২৭৯ মিলিয়ন ডলার) আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
তীব্র বিতর্ক সত্ত্বেও গেমের বিক্রি আকাশছোঁয়া। এটি এখন চীনের পিসি গেমের শীর্ষ দশে পৌঁছে গেছে, এমনকি ‘ব্ল্যাক মিথ: উকং’কেও ছাড়িয়ে গেছে, যা সবচেয়ে সফল চীনা গেম হিসেবে খ্যাত।
২৮ বছর বয়সী এক তরুণ বলেন, “আমি বুঝি না কেন মানুষ এত ক্ষেপছে। আপনি যদি নিজেকে গোল্ড ডিগার না ভাবেন, তাহলে এটা নিয়ে এত আঘাত পাওয়ার কী আছে?”
অনেকেই অনলাইনে দাবি করছেন, এই গেমটির ভাবনা এসেছে এক বাস্তব ঘটনা থেকে। ইন্টারনেটে ‘ফ্যাট ক্যাট’ নামে পরিচিত এক চীনা যুবক প্রেমে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। তার মৃত্যু ঘিরে অনলাইনে ‘গোল্ড ডিগার’ তকমার বন্যা বয়ে যায়। অনেকে তার প্রাক্তন বান্ধবীকে দায়ী করলেও পুলিশ এই অভিযোগ উড়িয়ে দেয়।

সমালোচকদের মতে, গেমটির মূল ধারণাটিই লিঙ্গবৈষম্যমূলক, কারণ এখানে সব ‘গোল্ড ডিগার’ চরিত্রই নারী। বিবিসি
বিবিসির সঙ্গে কথা বলা নারী খেলোয়াড়রা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এই গেম চীনা সমাজে বিদ্যমান সমস্যাজনক লিঙ্গধারণাকে আরও পাকাপোক্ত করছে। সেখানে এখনো নারীর স্থান ‘সংসার সামলানো’ আর পুরুষের কাজ ‘উপার্জন’।
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিও এমন ধারণাকে সমর্থন করে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বারবার নারীদের “ভালো স্ত্রী আর মমতা”র ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
সরকার নারী অধিকার নিয়ে সরব কর্মীদেরও কঠোর হাতে দমন করছে।
একজন নারী বলেন, “এ ধরনের গেম কেবল নারী-পুরুষের মধ্যে শত্রুতা বাড়ায়। আবারও নারীদের এমনভাবে দেখানো হচ্ছে যেন টিকে থাকার জন্য তাদের পুরুষদের তুষ্ট করতে হবে।”
সূত্র: কেলি এনজি, বিবিসি নিউজ, সিঙ্গাপুর এবং অ্যাবেল উ, বিবিসি চাইনিজ, হংকং
বাংলা অনুবাদ: প্রদীপ রায়, ওটিএন বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au