তালেবানি পতাকা; ছবিঃ ডিডব্লিউ
মেলবোর্ন, ৯ জুলাই-
আফগানিস্তানে নারীদের ওপর দমন–পীড়নের অভিযোগে তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা ও প্রধান বিচারপতি আবদুল হাকিম হাক্কানির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। হেগভিত্তিক এই আদালত জানিয়েছে, আখুন্দজাদা ও হাক্কানি মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার যৌক্তিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর দেশটিতে নারীদের শিক্ষা, কাজ ও চলাফেরার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। এর আওতায় ১২ বছরের বেশি বয়সী মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়, অধিকাংশ পেশায় নারীদের কাজের সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়, কোনো পুরুষ অভিভাবক ছাড়া নারীদের দূরে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয় এবং নারীদের প্রকাশ্যে কথা বলাও সীমিত করে ফেলা হয়।
আইসিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, জনগণের ওপর নানা বিধিনিষেধ চাপিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তালেবান বিশেষভাবে নারী ও কন্যাশিশুদের লিঙ্গ পরিচয়ের ভিত্তিতে টার্গেট করেছে এবং তাদের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করেছে। জাতিসংঘ এসব পদক্ষেপকে লিঙ্গভিত্তিক বর্ণবাদের শামিল বলে অভিহিত করেছে।
তবে তালেবান সরকার দাবি করে আসছে, তারা ইসলামি শরিয়া ও আফগান সংস্কৃতির আলোকে নারীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করছে।
২০১৬ সাল থেকে তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী আফগানিস্তান ত্যাগ করার পর তিনি ইসলামিক আমিরাতের নেতৃত্বে আসেন। ১৯৮০-র দশকে সোভিয়েত দখলদারির সময়ও তিনি ইসলামি প্রতিরোধে অংশ নিয়েছিলেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত আবদুল হাকিম হাক্কানি ছিলেন তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় তালেবানের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।
আইসিসি সাধারণত গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনে, যখন সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়। তবে এই আদালতের নিজস্ব কোনো পুলিশ বাহিনী নেই; গ্রেপ্তার কার্যকর করার দায়িত্ব সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর থাকে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রথমবারের মতো এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি করিম খান। তিনি দাবি করেছিলেন, তালেবান নেতৃত্ব শুধু নারী ও মেয়েদের ওপর নিপীড়নই নয়, বরং লিঙ্গ পরিচয় বা প্রকাশে অনুপযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও পরিকল্পিত নিপীড়ন চালিয়েছে। এমনকি আফগানিস্তানে কেউ নারী অধিকারের পক্ষে কথা বললেও তার বিরুদ্ধে দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে স্বাগত জানিয়েছে। একইসঙ্গে তারা তালেবানের আরও অপরাধ, ইসলামিক স্টেটের খোরাসান শাখা, সাবেক আফগান নিরাপত্তা বাহিনী এবং মার্কিন সেনাদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রেও বিচারের আওতা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, আফগানিস্তানে সহিংসতা ও দায়মুক্তির দীর্ঘস্থায়ী চক্র ভাঙতে হলে সব পক্ষের ভুক্তভোগীদের ন্যায়ের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
সুত্রঃ বিবিসি