গাজায় খাবারের জন্য হাহাকার। ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৭ আগষ্ট- ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ ও চলমান হামলার কারণে ফিলিস্তিনের গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) সতর্ক করেছে, সেখানে কমপক্ষে ১০ লাখ নারী ও কিশোরী চরম অনাহারের মুখে পড়েছেন।
শনিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, গাজার নারী ও মেয়েরা গণঅনাহার, সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তারা জীবন বাঁচাতে বাধ্য হচ্ছেন বিপজ্জনক কৌশল নিতে যেমন, খাবার ও পানি খুঁজতে এমন জায়গায় যেতে হচ্ছে, যেখানে যেকোনো সময় হামলা বা গুলিতে নিহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ইউএনআরডব্লিউএ অবিলম্বে অবরোধ তুলে নেওয়া ও বড় আকারে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

খাবারের জন্য লড়ছে গাজার ক্ষুধার্ত শিশুরা। ছবি: এবিসি নিউজ
আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে গাজা ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল সব সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ায় সহায়তার ট্রাকগুলো আটকে আছে সীমান্তে। সীমিত আকারে যে সরবরাহ ঢুকছে, তা লাখো ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য অত্যন্ত অপ্রতুল।

গাজায় প্রায় ১০ লাখ মানুষ চরম ক্ষুধার্ত অবস্থায় আছেন, আর অন্তত ৭০ হাজার শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। ছবিঃ রয়টার্স
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছিল, গাজার মোট ২৪ লাখ মানুষের মধ্যে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ কয়েকদিন ধরে কোনো খাবার পাচ্ছে না।
২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৬১ হাজার ৯০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজা এখন দুর্ভিক্ষের কিনারায়। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মামলা চলছে। গত নভেম্বরে আদালত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করে। গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও বিচারের মুখোমুখি হয়েছে।
সুত্রঃ আনাদোলু