ডেঙ্গুতে ৪২ হাজারের বেশি আক্রান্ত, মৃত্যু ১১৭
বাংলাদেশে চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪২ হাজার ৫৯০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে…
মেলবোর্ন, ৩১ আগষ্ট- চীন এমন এক সামরিক কুচকাওয়াজ আয়োজন করতে যাচ্ছে যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা হাজির থাকবেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থাকছেন না অতিথি তালিকায়।
আগামী ৩ সেপ্টেম্বর বেইজিংয়ের রাস্তাঘাট পরিণত হবে বিশাল সামরিক মিছিলের মঞ্চে। চীনের নতুন সামরিক শক্তি প্রদর্শনের এ আয়োজন হবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের আত্মসমর্পণের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে। শোভাযাত্রায় অংশ নেবে ১০ হাজারের বেশি সেনা, ১০০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান এবং শত শত ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান। এতে এমন কিছু আধুনিক অস্ত্রও প্রদর্শন করা হবে, যেগুলো আগে কখনো প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
এই মহড়া শুধু সামরিক সক্ষমতাই নয়, বরং কাকে কাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে সেটিও আন্তর্জাতিকভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে এ কুচকাওয়াজে উপস্থিত থাকবেন। এতে চীনের আন্তর্জাতিক প্রভাব কতটা বেড়েছে, তা আবারও স্পষ্ট হবে।
শি, পুতিন ও কিম একসঙ্গে বসবেন কি না তা স্পষ্ট নয়। তবে তাদের একসঙ্গে উপস্থিতি নিজেই একটি শক্ত বার্তা দিচ্ছে—তারা আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চাইছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে।
পুতিনের সফর শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে। রুশ প্রেসিডেন্ট এর আগে শিকে নিজের “সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু” বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। অন্যদিকে কিম জং উনের এই সফরকে উত্তর কোরিয়ার জন্য এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি সচরাচর বিদেশ সফর করেন না। এবারই প্রথম তিনি বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক মঞ্চে প্রকাশ্যে হাজির হচ্ছেন। এর মাধ্যমে এমন এক নতুন শক্তিশালী অক্ষশক্তির ইঙ্গিত মিলছে, যেখানে পশ্চিমা দেশগুলো নেই।
এটি যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ তৈরি করবে এবং ট্রাম্পকে বিব্রত করবে। কারণ এই আয়োজনে কোনো মার্কিন বা পশ্চিম ইউরোপীয় নেতা থাকছেন না। তবে স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার সাবেক দুই লেবার পার্টির প্রিমিয়ার বব কার ও ড্যান অ্যান্ড্রুস যোগ দেবেন, যদিও দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ যাচ্ছেন না।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন পশ্চিমা নেতারা কেন নেই—সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। তিনি শুধু জানিয়েছেন, “চীন এই আয়োজন করছে ইতিহাসকে স্মরণ করতে, শহীদদের সম্মান জানাতে, শান্তিকে লালন করতে এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে।”
শি, পুতিন ও কিমের এই উচ্চপর্যায়ের উপস্থিতি ঘটছে এমন এক সময়ে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য শুল্ক, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এবং তাইওয়ান ও দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে।
গত মে মাসে শি জিনপিং প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, বেইজিং রাশিয়ার পাশে দাঁড়াবে পশ্চিমা দেশগুলোর “আধিপত্যবাদী চাপের” বিরুদ্ধে। তিনি আরও বলেন, রাশিয়া-চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নিয়ন্ত্রণ নীতিকে প্রতিহত করতে তারা সমন্বয় জোরদার করবে।
প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প প্রকাশ্যে জানালেও যে তিনি ভবিষ্যতে শি ও কিমের সঙ্গে বৈঠক করতে চান, তবে এর কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি। এর আগে তিনি পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন ইউক্রেন যুদ্ধবিরতির চুক্তি আনতে, কিন্তু ব্যর্থ হন। এতে ট্রাম্পকে কূটনৈতিকভাবে পুতিনের কাছে দুর্বল মনে হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
এই পরিস্থিতিতে শি জিনপিং কার্যত কোনো কথা না বলেও ট্রাম্পকে বার্তা দিয়েছেন—তার কাঙ্ক্ষিত অতিথিরা বেইজিংয়ে হাজির হচ্ছেন, হোয়াইট হাউসের নিমন্ত্রণ এড়িয়ে।
সুত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au