আইসিইউতে ধর্ষণের শিকার শিশু, মাদ্রাসা সুপার আটক
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ১০ বছর বয়সী মাদ্রাসা পড়ুয়া এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সাইদুর রহমানকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।…
মেলবোর্ন, ২ সেপ্টেম্বর- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত আটবার প্রেসিডেন্ট অফিসে থাকাকালীন মৃত্যুবরণ করেছেন। ২৪৮ বছরের ইতিহাসে চারজন প্রাকৃতিক কারণে এবং চারজন আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। প্রতিবারই উত্তরাধিকারীর প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে অনুসৃত হয়েছে।
সবশেষ প্রেসিডেন্ট যিনি ক্ষমতায় থাকাকালীন নিহত হন তিনি ছিলেন জন এফ. কেনেডি। ১৯৬৩ সালের নভেম্বরে টেক্সাসে মোটরকেডে চলার সময় তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। কেনেডির হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী (২৫তম সংশোধনী) যোগ করা হয়, যা ১৯৬৭ সালে গৃহীত হয়। এতে বলা হয়েছে: “প্রেসিডেন্ট অফিস থেকে অপসারিত হলে, মারা গেলে বা পদত্যাগ করলে ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট হবেন।”
প্রেসিডেন্ট মারা গেলে কী হয়?
প্রেসিডেন্ট মারা গেলে প্রথমেই বিষয়টি জানানো হয় ভাইস প্রেসিডেন্টকে। এরপরই তিনিই নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। ১৯৬৩ সালে কেনেডি নিহত হওয়ার পর লিন্ডন বি. জনসন এয়ার ফোর্স ওয়ানের ভেতরেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন।
এরপর সরকারি ঘোষণা দেওয়া হয় এবং জাতীয় পতাকা অন্তত ৩০ দিনের জন্য অর্ধনমিত রাখা হয়। যদি প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটন ডিসিতে মারা না যান, তবে তাঁর মরদেহ রাজধানীতে আনা হয়। মরদেহ আমেরিকার পতাকায় আচ্ছাদিত অবস্থায় সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ক্যাপিটল রোটান্ডায় রাখা হয়। এই আয়োজন ব্রিটিশ রানি এলিজাবেথের মরদেহ শ্রদ্ধা জানানোর ব্যবস্থার মতো।
প্রেসিডেন্ট সরকারি পদে থাকলেও তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মূল পরিকল্পনা করে পরিবার। কারও অন্ত্যেষ্টি তিন দিন ধরে চলে, আবার কারও সাত দিন পর্যন্ত চলে। রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া আন্তর্জাতিকভাবে সম্প্রচারিত হয়, যেখানে বিশ্বনেতারাও অংশ নেন।
কবর দেওয়ার সময় ৫০ রাউন্ড বন্দুক স্যালুট দেওয়া হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের প্রতীক। প্রেসিডেন্ট যেখানে ইচ্ছা সেখানে সমাহিত হতে পারেন। অনেকেই আর্লিংটন সেমেট্রিতে সমাহিত হন, যেখানে প্রায় চার লাখ সাবেক সেনা ও রাজনীতিবিদের কবর রয়েছে।
উত্তরাধিকারীর ধাপ
প্রেসিডেন্ট মারা গেলে প্রথম উত্তরাধিকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন ভাইস প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন দেন, যাঁকে কংগ্রেসের দুই কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দ্বারা অনুমোদিত হতে হয়।
যদি ভাইস প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তবে স্পিকার অব দ্য হাউস দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ক্রমানুসারে দায়িত্ব যায়: সেনেটের প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি অব স্টেট, সেক্রেটারি অব ট্রেজারি, সেক্রেটারি অব ডিফেন্স, অ্যাটর্নি জেনারেল, সেক্রেটারি অব দ্য ইন্টেরিয়র, সেক্রেটারি অব এগ্রিকালচার, সেক্রেটারি অব কমার্স, সেক্রেটারি অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস, সেক্রেটারি অব হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট, সেক্রেটারি অব ট্রান্সপোর্টেশন, সেক্রেটারি অব এনার্জি, সেক্রেটারি অব এডুকেশন, সেক্রেটারি অব ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স এবং সবশেষে সেক্রেটারি অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি।
যেসব প্রেসিডেন্ট অফিসে মারা গেছেন
উইলিয়াম হেনরি হ্যারিসন: ৪ এপ্রিল ১৮৪১ সালে মারা যান।
জ্যাকারি টেলর: ১৮৫০ সালে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে মারা যান।
আব্রাহাম লিংকন: ১৪ এপ্রিল ১৮৬৫ সালে জন উইল্কস বুথের গুলিতে নিহত হন।
জেমস এ. গারফিল্ড: ১৮৮১ সালে চার্লস জি. গুইতো-র গুলিতে আহত হয়ে কয়েক সপ্তাহ পর মারা যান।
উইলিয়াম ম্যাককিনলি: ১৯০১ সালে লিয়ন জোলগজ-এর গুলিতে নিহত হন।
ওয়ারেন জি. হার্ডিং: ১৯২৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় হৃদরোগে মারা যান।
ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট: ১২ এপ্রিল ১৯৪৫ সালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মারা যান।
জন এফ. কেনেডি: ২২ নভেম্বর ১৯৬৩ সালে টেক্সাসে মোটরকেড চলার সময় লি হার্ভি অসওয়াল্ডের গুলিতে নিহত হন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au