রাজধানীর মালিবাগে সোহাগ পরিবহনের কাউন্টার ও মালিকপক্ষের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে একদল সন্ত্রাসী। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৪ সেপ্টেম্বর- বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মালিবাগে সোহাগ পরিবহনের কাউন্টার ও মালিকপক্ষের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে একদল সন্ত্রাসী। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে সোহাগ পরিবহনের পরিচালক আলী হাসান তালুকদার পলাশসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কাউন্টারের ড্রাইভার মাসুদ গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, রাত ১১টার দিকে দুই যুবক মালিবাগ কাউন্টারের সামনে সিগারেট খাচ্ছিলেন। কাউন্টারের কর্মচারীরা তাদের অন্যত্র গিয়ে ধূমপান করতে বললে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। কিছুক্ষণ পর ওই দুই যুবক ফিরে এসে ৬০ থেকে ৭০ জনের একটি দল নিয়ে কাউন্টারে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায়, কাউন্টারের কাচ ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং কয়েকজন যাত্রীকেও মারধর করে।
হামলার সময় আতঙ্কে আশপাশের লোকজন দৌড়ে সরে যায়। পরে সন্ত্রাসীরা মালিক আলী হাসান তালুকদার পলাশের বাসার গেটেও হামলা চালায়। তবে ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি।
সোহাগ পরিবহন মালিকপক্ষ অভিযোগ করেছে, রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি তালুকদার বিল্লালের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়েছে। মালিকপক্ষের সদস্য মাজেদুল হক নাদিম বলেন, “পলাশ ভাইকে আক্রমণ করা হয়েছে, গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, বাসার গেটেও হামলা হয়েছে। ড্রাইভার মাসুদের শরীরে অসংখ্য কোপ লেগেছে।”
এদিকে রমনা মডেল থানার ডিউটি অফিসার এআই আশরাফুল ইসলাম জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯–এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ওসি তদন্তসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে যান।
ঘटनাস্থল থেকে রমনা মডেল থানার এসআই মো. নাহিদ বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ৬০–৭০ জন সন্ত্রাসী কাউন্টারে এসে স্টাফদের এলোপাতাড়ি মারপিট করেছে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুজনকে গুরুতর জখম করেছে। আহতদের সিরাজুল ইসলাম মেডিকেলসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হামলার নেপথ্যের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।