দেশের মানবাধিকার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন সাউথ এশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটসের কর্মকর্তারা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৪ সেপ্টেম্বর- অভ্যুত্থান–পরবর্তী বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও নারীদের ওপর হামলা এবং মব সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন সাউথ এশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস (এসএএইচআর)।
সংগঠনটির মতে, গণহারে হত্যা মামলা দায়ের, অভিযুক্তদের জামিন থেকে বঞ্চিত করা, বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ও ফাঁকফোকর সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। এই অস্থিরতা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
বুধবার(৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পান্থপথে দৃকপাঠ ভবনে “আ ইয়ার অব ট্রানজিশন ইন বাংলাদেশ” শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। বক্তব্য দেন সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক দীক্সা ইল্লাঙ্গাসিংহে। তিনি বলেন, জুলাই–পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দৃশ্যমানভাবে অবনতি ঘটেছে। জননিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে নিরাপত্তা বাহিনী মব, প্রতিহিংসামূলক আক্রমণ এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব হলো সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সে জন্য সংবিধান, বিচারব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে জরুরি সংস্কার করা প্রয়োজন।

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটে মোট ১৯ টি হিন্দু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; ছবিঃ ওটিএন বাংলা
তিনি আরও বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। হিন্দু, আহমদিয়া, সুফি মতাবলম্বীসহ অন্যান্য ধর্মীয় গোষ্ঠী, সমতল ও পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী, লিঙ্গভিত্তিক সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী এবং নারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী, ধর্মীয় সংগঠন এবং সংগঠিত মবের উদ্দেশ্যমূলক আক্রমণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বছরের জুলাই মাসে গণ–অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শুরু করে এসএএইচআর। এ লক্ষ্যে গত ২৮ আগস্ট তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে আসে। তাঁরা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, অন্যান্য উপদেষ্টা, সংস্কার কমিশনের সদস্য, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব আলোচনার ভিত্তিতেই আজকের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে।

গণ অধিকার পরিষদসহ কয়েকটি দলের নেতাকর্মীরা সম্প্রতি জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে। ছবিঃ সংগৃহীত
এসএএইচআরের মতে, পূর্ববর্তী স্বৈরশাসনের সময় প্রণীত দমনমূলক আইনের অব্যাহত প্রয়োগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর অব্যাহত হামলা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য কমিশনের অচলাবস্থা, নাগরিক সমাজের মধ্যে ক্রমবর্ধমান মেরুকরণ ও বিভক্তি গভীর উদ্বেগ তৈরি করছে।

মবের হানায় পণ্ড ‘প্রজন্ম ৭১’ এর অনুষ্ঠান। ছবিঃ সংগৃহীত
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এসএএইচআরের কো–চেয়ারম্যান রশমি গোস্বামী, সংগঠনটির সদস্য সারূপ ইজাজ এবং বাংলাদেশ ব্যুরো মেম্বার সাঈদ আহমেদ।
সুত্রঃ প্রথম আলো