জয়ের পর উত্তপ্ত বাংলা, ভাঙচুর-দখলের অভিযোগে রাজনৈতিক অস্থিরতা
মেলবোর্ন, ৫ মে- পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ফলতা থেকে কৃষ্ণনগর, এমনকি প্রশাসনিক সদর দপ্তর নবান্ন পর্যন্ত…
মেলবোর্ন, ৪ সেপ্টেম্বর- মধ্যপ্রাচ্য এখন সময়ের সবচেয়ে ‘সংবেদনশীল ও বিপজ্জনক’ পরিস্থিতির মুখোমুখি। বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন দিক থেকে ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও উত্তেজনা এ অঞ্চলে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। এতে মুখোমুখি হবে ইসরায়েল, ইরান এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্ররা। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এই উত্তেজনার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে।
ফিলিস্তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ আশরাফ আকা মনে করেন, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ঘোষণা নতুন সংঘাতের সূচনা করতে পারে। তাদের মতে, ইয়েমেন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদি এই হামলা হয়, তবে এটি শুধু গাজার যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করবে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলকেও ব্যাহত করতে পারে।
লেবানন ও সিরিয়ার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হামলা এবং মিসর ও জর্ডানের প্রতি উসকানিমূলক নীতি গোটা অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। লেবানিজ লেখক মরতাদা সামাভি বলেন, ইসরায়েলের প্রধান লক্ষ্য গাজায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও লেবাননের প্রতিরোধ শক্তিকে নিরস্ত্র করা। তার মতে, দেশটি এখন ‘উত্তপ্ত দিনগুলোর’ মুখোমুখি হতে চলেছে। একইসঙ্গে তিনি মনে করেন, জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের পর ইরানও নতুন সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অর্থাৎ পরিস্থিতি যে কোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে।
তেহরানের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ হাদি ইসা দালুল জানান, ইসরায়েল এখনো সরাসরি ইরানের ভেতরে বড় হামলা চালাতে পারেনি। তারা মূলত সীমান্তবর্তী এলাকায় ড্রোন নেটওয়ার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার ওপর নির্ভর করছে। তবে ইরান এসব নেটওয়ার্ক ভেঙে দিয়েছে, ফলে ইসরায়েলের কৌশল সীমিত হয়ে পড়েছে।
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েল একা ইরানের মুখোমুখি হতে পারবে না। আরেক গবেষক সালেহ আল-কাজউইনি বলেন, ইরানের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া ইসরায়েলের জন্য এক ধরনের সতর্কবার্তা। তবে ইসরায়েলকে কখনোই পুরোপুরি বিশ্বাস করা যায় না, কারণ তাদের মূল লক্ষ্য গোটা অঞ্চলের প্রতিরোধ শক্তি ভেঙে দেওয়া।
বাগদাদের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মুখলিদ আল-দার্ব মনে করেন, ইরানপন্থি ফ্রন্টের সবচেয়ে দুর্বল সংযোগ হলো ইরাক। যদি ইরাক সক্রিয়ভাবে ইরানকে সমর্থন করে, তবে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। এর ফলে দেশটির ভেতরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভেঙে পড়বে এবং সুপ্ত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।
গবেষক হোসেইন আল-দিক মনে করেন, আসন্ন সংঘাত অতীতের যে কোনো লড়াইয়ের চেয়ে ‘বেশি সহিংস ও নির্ধারক’ হতে পারে। তার দাবি, এ যুদ্ধে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকেও টার্গেট করা হতে পারে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ইসরায়েলকে ‘সবুজ সংকেত’ দিয়েছে। ফলে সব ফ্রন্টে একই অস্ত্রনীতির প্রয়োগ করাই এখন দুই দেশের প্রধান কৌশল।
বিশেষজ্ঞরা সবাই একমত যে মধ্যপ্রাচ্য এখন সবচেয়ে বিপজ্জনক এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। তবে যুদ্ধ শুরুর সঠিক সময় নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। ইসরায়েলের লক্ষ্য প্রতিরোধ শক্তিকে ভেঙে দেওয়া, আর ইরানের লক্ষ্য আঞ্চলিক মিত্রদের ধরে রাখা। এ অবস্থায় ইরাক, লেবানন বা সিরিয়ার মতো ভঙ্গুর রাষ্ট্রগুলো সহজেই বড় শক্তির সংঘাতের ময়দানে পরিণত হতে পারে।
সামান্য একটি ভুল পদক্ষেপই পুরো অঞ্চলকে ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: শাফাক নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au