অস্ট্রেলিয়া জুড়ে অ্যানজাক (ANZAC) ডে পালিত
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল: ২৫ এপ্রিল শনিবার অস্ট্রেলিয়া জুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদা, নীরবতা এবং গভীর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে অ্যানজাক (ANZAC) ডে। ভোরের প্রথম প্রহর থেকেই…
মেলবোর্ন, ৭ সেপ্টেম্বর- অস্ট্রেলিয়ার চরম দক্ষিণপন্থি ও নব্য–নাৎসি গোষ্ঠীগুলো কীভাবে বিদেশি উগ্রবাদী সংগঠন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে নিজেদের কার্যক্রম চালাচ্ছে, তার প্রমাণ মিলেছে বিপুল পরিমাণ ফাঁস হওয়া নথি ও অনলাইন বার্তায়। এসব নথিতে দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়ান নব্য–নাৎসিরা বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের কৌশল অনুসরণ করেছে এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগও রেখেছে।
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় নব্য–নাৎসি সংগঠন
মেলবোর্নভিত্তিক ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট নেটওয়ার্ক (NSN) বর্তমানে দেশটির সবচেয়ে বড় নব্য–নাৎসি গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত। সংগঠনটি নিজেদেরকে একটি রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। তাদের কর্মকাণ্ডে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে বিদেশি উগ্রবাদী সংগঠনের প্রভাব।
এর আগে অস্ট্রেলিয়ার আরেকটি সংগঠন অ্যান্টিপোডিয়ান রেজিস্ট্যান্স–এর সদস্যরা NSN গঠন করে। ওই দলটি শুরু থেকেই ঘোষণা দিয়েছিল, তারা “অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল অ্যাকশন” তৈরি করতে চায়।
২০১৯ সালে কুখ্যাত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম Iron March–এর ব্যবহারকারীদের ফাঁস হওয়া বার্তাগুলো প্রকাশিত হলে এসব যোগসূত্র আরও পরিষ্কার হয়। বার্তাগুলো থেকে জানা যায়, অস্ট্রেলিয়ান নব্য–নাৎসিরা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন যেমন অ্যাটমওয়াফেন ডিভিশন, ন্যাশনাল অ্যাকশন এবং সোনেনক্রিগ ডিভিশন–এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। শুধু যোগাযোগই নয়, তাদের কৌশলও হুবহু নকল করত।
সাম্প্রতিক সময়ে মেলবোর্নে একাধিক অভিবাসনবিরোধী সমাবেশে NSN সদস্যদের সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি একটি ফার্স্ট নেশনস (আদিবাসী) প্রতিবাদ ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে চারজনকে আহত করে সংগঠনের সদস্যরা। আদিবাসী নেতারা এ ঘটনাকে সরাসরি সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে ঘোষণা করার দাবি তুলেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বহুসাংস্কৃতিক ও মানবাধিকার সংগঠন ইতিমধ্যেই NSN–কে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে দেশটির বর্ণবৈষম্যবিষয়ক কমিশনার গিরিধারন শিবরামন জানিয়েছেন, গোষ্ঠীগুলো সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকি হলেও এখনো আইনি কাঠামোর মধ্যে তাদের নিষিদ্ধ করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য
গবেষকরা বলছেন, নব্য–নাৎসি গোষ্ঠীগুলো মূলত দুইভাবে কাজ করে—
অনলাইনে তারা গর্ব করে বলেছে যে, তাদের প্রচারণা পোস্টার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও খবর হয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মিডিয়ার নজর কাড়ার পাশাপাশি জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো।
অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা ASIO সতর্ক করেছে, নব্য–নাৎসি ও শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী গোষ্ঠীগুলো ধীরে ধীরে মূলধারায় প্রবেশের চেষ্টা করছে। সবচেয়ে বড় হুমকি আসছে সেই সব একক উগ্রবাদীদের কাছ থেকে, যারা সরাসরি কোনো সংগঠনের সঙ্গে জড়িত না হলেও তাদের অনুপ্রেরণায় সহিংসতা ঘটাতে পারে।
ASIO প্রধান মাইক বার্গেস বলেছেন,
“আমরা আশা করছি, জাতীয়তাবাদী ও বর্ণবাদী উগ্রপন্থিরা আরও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালাবে। সবচেয়ে বড় বিপদ হলো প্রান্তিক অনুসারীরা, যারা এককভাবে সন্ত্রাসী হামলা চালাতে পারে।”
অস্ট্রেলিয়ার সংখ্যালঘু ও অভিবাসী সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে ইতিমধ্যেই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এশিয়ান, ভারতীয় ও আফ্রিকান অস্ট্রেলিয়ান সংগঠনগুলো বলছে, নব্য–নাৎসি গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক কার্যকলাপ ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। তারা NSN–কে সরাসরি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au