ভেনেজুয়েলায় ৭ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, নিহত বেড়ে ২২৯৫
মেলবোর্ন,২ জুলাই- ভয়াবহ দুই দফা ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৯৫ জনে। আহত হয়েছেন ১১ হাজারের বেশি মানুষ এবং এখনও প্রায়…
মেলবোর্ন, ১১ সেপ্টেম্বর- মাত্র ৭২ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার ছয়টি দেশে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। একদিকে গাজায় হামলার মাত্রা দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, অন্যদিকে সীমান্ত পেরিয়ে কাতার, লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন ও তিউনিসিয়াতেও আঘাত হেনেছে দেশটির সেনারা। এতে গোটা অঞ্চলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
গত মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো কাতারের রাজধানী দোহায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত গাজার যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে বসা হামাস নেতাদের বৈঠকই ছিল নিশানা। তবে হামাসের শীর্ষ নেতারা প্রাণে রক্ষা পেলেও নিহত হন অন্তত ৬ জন। এদের মধ্যে রয়েছেন হামাস নেতা খলিল আল-হায়ার ছেলে, তার কার্যালয়ের পরিচালক, তিন দেহরক্ষী এবং এক কাতারি নিরাপত্তাকর্মী।
হামলার পর ওয়েস্ট বে লাগুন এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, আকাশে কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এ অঞ্চলটি কাতারের অন্যতম কূটনৈতিক ও আবাসিক এলাকা, যেখানে রয়েছে দূতাবাস, আন্তর্জাতিক স্কুল ও বাণিজ্যিক স্থাপনা।
একই সময় গাজায়ও চলছে নিরবচ্ছিন্ন বিমান হামলা।
মৃতদের মধ্যে ত্রাণ নিতে যাওয়া অন্তত ১৪ জন এবং অনাহারে মারা যাওয়া ছয়জনও রয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই শিশু ছিল।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ৬৫৬ জনে। এর মধ্যে অন্তত ৪০৪ জন অনাহারে মারা গেছেন। অনেকে এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন।
সোমবার লেবাননের বেকা ও হারমেল এলাকায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলা চালায়। এতে অন্তত ৫ জন নিহত হন। ইসরায়েলের দাবি, তারা হিজবুল্লাহর অস্ত্রভাণ্ডারকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, তবে স্বাধীনভাবে এ তথ্য যাচাই করা যায়নি।
এরপর মঙ্গলবার বৈরুতের দক্ষিণে বারজা গ্রামে ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে এক হিজবুল্লাহ সদস্য আহত হন।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেই এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার গভীর রাতে সিরিয়ার হোমস বিমানঘাঁটি ও লাতাকিয়ার সেনা শিবিরে হামলা চালায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে দেশের সার্বভৌমত্বের নগ্ন লঙ্ঘন আখ্যা দিয়েছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, শুধু চলতি বছরেই ইসরায়েল প্রায় ১০০ বার সিরিয়ায় হামলা চালিয়েছে—৮৬টি বিমান হামলা ও ১১টি স্থল হামলায় ধ্বংস হয়েছে ১৩৫টি স্থাপনা, নিহত হয়েছেন অন্তত ৬১ জন।
তিউনিসিয়ার সিদি বউ সাইদ বন্দরে সোমবার রাতে গাজা ত্রাণবাহী জাহাজ ফ্যামিলি বোটে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে জাহাজে আগুন ধরে গেলেও যাত্রীরা অক্ষত থাকেন।
পরদিন রাতে তিউনিসিয়ার জলসীমায় যুক্তরাজ্যের পতাকাবাহী আলমা নামের আরেকটি জাহাজে হামলা হয়। জাহাজে আগুন লাগলেও প্রাণহানি ঘটেনি।
এই দুটি জাহাজই ৫০টির বেশি নৌযানের অংশ, যারা ইসরায়েলের অবরোধ ভেঙে গাজায় ত্রাণ পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
বুধবার ইয়েমেনের রাজধানী সানায়ও বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। লক্ষ্য ছিল হুতি বিদ্রোহীদের স্থাপনা। এতে সানা বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগেও মে ও আগস্টে একই বিমানবন্দর ও হুতি সরকারের শীর্ষ নেতাদের ওপর হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল।
বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র তিন দিনে ছয় দেশে ধারাবাহিক হামলা ইসরায়েলের আঞ্চলিক আগ্রাসনের প্রমাণ। কাতারে হামলা কেবল ফিলিস্তিন প্রশ্নকেই নয়, বরং উপসাগরীয় কূটনীতিক সম্পর্ককেও নতুন মোড় দিয়েছে।
আরব দেশগুলো একযোগে এর নিন্দা জানালেও, ইসরায়েল দাবি করছে—তাদের সামরিক অভিযান কেবলমাত্র “নিরাপত্তার স্বার্থে”। তবে বাস্তবে এসব হামলায় নিহত হচ্ছে অসংখ্য বেসামরিক মানুষ, ধ্বংস হচ্ছে অবকাঠামো, বাড়ছে মানবিক বিপর্যয়।
সূত্র: আল–জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au