নির্বাচন কমিশনের ‘ঘূর্ণিঝড়ে’ লন্ডভন্ড মমতার সাজানো প্রশাসন
মেলবোর্ন, ১৬ মার্চ- ভারতের নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রীতিমত যুদ্ধে শামিল ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।…
মেলবোর্ন, ১১ সেপ্টেম্বর- মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা তাদের কর্মসূচি থেকে চীনা নাগরিকদের সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৈধ মার্কিন ভিসা থাকা সত্ত্বেও এখন থেকে তারা নাসার কোনো কর্মশালা, গবেষণা, সভা কিংবা ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নিতে পারবেন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওয়াশিংটন-বেইজিং প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন এক মহাকাশ প্রতিযোগিতার রূপ নিয়েছে, আর এই সিদ্ধান্ত তারই প্রতিফলন।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত ৫ সেপ্টেম্বর থেকে চীনা নাগরিকদের নাসার অভ্যন্তরীণ ডেটা সিস্টেম, প্রকল্প-সংক্রান্ত সভা, গবেষণা নেটওয়ার্ক ও যেকোনো ধরনের সরাসরি বা ভার্চুয়াল প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাধারী চীনা গবেষকরা বিশ্ববিদ্যালয়, কনট্রাক্টর বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নাসার প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পেতেন। তবে এখন সেই পথও পুরোপুরি বন্ধ।
নাসার মুখপাত্র বেথানি স্টিভেন্স এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন—
“নাসা চীনা নাগরিকদের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ নিয়েছে। আমাদের কর্মসূচির নিরাপত্তা রক্ষায় স্থাপনা, উপকরণ ও নেটওয়ার্কে তাদের শারীরিক ও সাইবার প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে।”
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই মানুষসহ চাঁদে মিশন পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এ নিয়ে দুই পরাশক্তির মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
নাসার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক শন ডাফি সম্প্রতি এক ভাষণে বলেন—
“আমরা এখন দ্বিতীয় মহাকাশ প্রতিযোগিতায় আছি। চীন যেন আমাদের আগে চাঁদে না পৌঁছায়—সেটি কোনোভাবেই হতে দেওয়া হবে না। অতীতের মতোই আমেরিকা মহাকাশে নেতৃত্ব দেবে।”
এরই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র চীনা গবেষকদের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন সিনেটর টেড ক্রুজ বুধবার এক সম্মেলনে বলেন—
“যুক্তরাষ্ট্রকেই মহাকাশে নিয়ম তৈরির নেতৃত্ব দিতে হবে।”
তিনি দাবি করেন, বোয়িংয়ের স্পেস লঞ্চ সিস্টেম এবং লকহিড মার্টিনের ওরিয়ন ক্যাপসুল এর মাধ্যমে আমেরিকান মহাকাশচারীরাই আবার চাঁদে ফিরবেন এবং মঙ্গলের পথে নেতৃত্ব দেবেন—চীনারা নয়।
ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাসার এ সিদ্ধান্ত তাদের জন্য এক নতুন ধাক্কা। কারণ বর্তমানে সংস্থাটি বাজেট ঘাটতি, কর্মী সংকোচন ও মহাকাশ অনুসন্ধান কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে চাপের মুখে আছে।
এছাড়া সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জলবায়ু গবেষণা বাজেটে বড় কাটছাঁট করেছে। বাতিলের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কার্বন ডাই-অক্সাইড পর্যবেক্ষণকারী দুটি স্যাটেলাইটের। একইভাবে নাসার আর্থ সায়েন্স প্রোগ্রামেও বড় ধরনের অর্থ কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে, ট্রাম্প ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ ও পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও খারাপ করে তুলেছে। এর প্রভাব এখন মহাকাশ খাতেও পড়ছে।
নাসার এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করছে যে, যুক্তরাষ্ট্র চীনের মহাকাশ অগ্রযাত্রাকে ঠেকাতে সর্বোচ্চ কৌশলগত অবস্থান নিতে চাইছে। মহাকাশ প্রযুক্তি ও অনুসন্ধানে নেতৃত্ব ধরে রাখাই এখন ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে চীনও দ্রুত গতিতে চাঁদ ও মঙ্গলের মিশনে এগিয়ে চলেছে। ফলে আগামী কয়েক বছর মহাকাশে শীতল যুদ্ধের নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র : ব্লুমবার্গ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au