সর্বশেষ

উত্তাল ফ্রান্সে ২ লাখ মানুষের বিক্ষোভ

  • 3:31 am - September 12, 2025
  • পঠিত হয়েছে:১৩৪ বার
ফ্রান্সের লিওঁ শহরে সরকারের বাজেট পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করলে তাদের ওপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। ছবি: এএফপি

মেলবোর্ন, ১২ সেপ্টেম্বর- ফ্রান্সে আবারও রাস্তায় নেমেছে জনতা। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সারাদিনজুড়ে দেশজুড়ে ২ লাখের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। তারা মহাসড়ক অবরোধ করে, ব্যারিকেডে আগুন ধরায় এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের মূল ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু—প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ, রাজনৈতিক অভিজাত শ্রেণি এবং সরকারের কঠোর ব্যয় সংকোচন পরিকল্পনা।

অস্থিরতা সামাল দিতে দেশজুড়ে মোতায়েন করা হয় ৮০ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী। রাজধানী প্যারিসে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ পুলিশ বারবার টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। শুধু প্যারিস থেকেই প্রায় ২০০ জনকে আটক করা হয়।

আন্দোলনের মূল স্লোগান: “সবকিছু বন্ধ করে দাও”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ‘ব্লকোঁ তু’ বা “সবকিছু বন্ধ করে দাও” আন্দোলনের নেতারা এ বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন। গত মে মাসে ডানপন্থী এক গোষ্ঠীর উদ্যোগে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে পরে যোগ দেয় বামপন্থী ও কট্টর বামপন্থীরা।

বিক্ষোভের দিনই প্রেসিডেন্ট মাখোঁ নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রক্ষণশীল নেতা সেবাস্তিয়ান লেকোর্নুকে দায়িত্ব দেন। আগের প্রধানমন্ত্রী সংসদে অনাস্থা প্রস্তাবে পদ হারান, কারণ তাঁর ব্যয় সংকোচন পরিকল্পনা জনমনে ছিল অত্যন্ত অজনপ্রিয়।

সরকার ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছে, বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় ৪৪ বিলিয়ন ইউরো (৫২ বিলিয়ন ডলার) ব্যয় সংকোচন করা হবে। বর্তমানে ফ্রান্সের বাজেট ঘাটতি ইইউর নির্ধারিত সীমার প্রায় দ্বিগুণ এবং ঋণের পরিমাণ জিডিপির ১১৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।

প্যারিসের পরিবহন সংস্থা আরএটিপির সিজিটি ইউনিয়নের কর্মকর্তা ফ্রেড বলেন—

“সমস্যার মূল মাখোঁ নিজে, মন্ত্রীরা নয়। তাঁকেই পদত্যাগ করতে হবে।”

  • পশ্চিমাঞ্চলের নঁতে: জ্বলন্ত টায়ার ও ডাস্টবিন দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশ টিয়ারগ্যাস ছুড়ে অবরোধ সরায়।
  • রেনে শহর: একটি বাসে আগুন ধরানো হয়।
  • দক্ষিণাঞ্চলীয় মনপেলিয়ে: গোলচত্বরে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়, পুলিশ টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে।
  • রাজধানী প্যারিসে: তরুণরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ অবরোধ করে, ডাস্টবিনে অগ্নিসংযোগ হয়, শপিংমলের কাছে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। কাছাকাছি একটি ভবনে আগুন ধরে গেলে ফায়ার সার্ভিস ছুটে আসে।

বিক্ষোভে ছাত্রছাত্রী ও তরুণদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজধানীর গার দ্যু নর্দ স্টেশনের বাইরে শত শত তরুণ–তরুণী জড়ো হয়ে মাখোঁবিরোধী স্লোগান তোলে।
এক তরুণের হাতে প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—“ধনাঢ্য অভিজাতদের প্রজাতন্ত্র”।

  • এমা মেগুরদিশিয়ান, ১৭ বছর বয়সী ছাত্রী:

“আমরা আওয়াজ তুলতে এসেছি। সরকার বুঝুক, আমরা আর সহ্য করতে পারছি না। আমরা অন্য ধরনের সরকার চাই।”

  • অ্যালিস মরিন, ২১ বছর বয়সী ছাত্রী:

“আগের প্রজন্ম আমাদের জন্য রেখে গেছে জঘন্য পৃথিবী, জঘন্য সরকার। আমাদের লড়াই করতে হবে। পুরোনো পৃথিবীর ছাইয়ের ওপর আমাদের নাচতে হবে।”

২০১৮–১৯ সালে ফ্রান্সজুড়ে আলোচিত ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন হয়েছিল কর বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে। সেই আন্দোলন সরকারকে কয়েক বিলিয়ন ইউরোর নীতি পরিবর্তনে বাধ্য করেছিল।

তবে সমাজবিজ্ঞানী আঁতোয়ান ব্রিস্তিয়েল মনে করেন, এবারকার আন্দোলনে প্রজন্মগত পার্থক্য স্পষ্ট—

“ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনে শ্রমিক ও অবসরপ্রাপ্তদের আধিক্য ছিল। আর এবার তরুণ প্রজন্মই নেতৃত্ব দিচ্ছে। তারা সামাজিক ন্যায়বিচার, বৈষম্য হ্রাস এবং নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা চায়।”

ফ্রান্সে একদিকে ব্যয় সংকোচনের চাপ, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ মিলে মাখোঁ সরকারের ওপর প্রবল চাপ তৈরি করেছে। যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রেতাইয়ো দাবি করেছেন, “যারা দেশ অচল করতে চেয়েছিল, তারা ব্যর্থ হয়েছে”, তবুও বিশ্লেষকেরা বলছেন—এই বিক্ষোভ ফ্রান্সে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

উত্তাল ফ্রান্সে ২ লাখ মানুষের বিক্ষোভ

মাখোঁর ব্যয় সংকোচন পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আগুন–অবরোধ, নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা

ফ্রান্সে আবারও রাস্তায় নেমেছে জনতা। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সারাদিনজুড়ে দেশজুড়ে ২ লাখের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। তারা মহাসড়ক অবরোধ করে, ব্যারিকেডে আগুন ধরায় এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের মূল ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু—প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ, রাজনৈতিক অভিজাত শ্রেণি এবং সরকারের কঠোর ব্যয় সংকোচন পরিকল্পনা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, অস্থিরতা সামাল দিতে দেশজুড়ে মোতায়েন করা হয় ৮০ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী। রাজধানী প্যারিসে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ পুলিশ বারবার টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। শুধু প্যারিস থেকেই প্রায় ২০০ জনকে আটক করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ‘ব্লকোঁ তু’ বা “সবকিছু বন্ধ করে দাও” আন্দোলনের নেতারা এ বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন। গত মে মাসে ডানপন্থী এক গোষ্ঠীর উদ্যোগে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে পরে যোগ দেয় বামপন্থী ও কট্টর বামপন্থীরা।

বিক্ষোভের দিনই প্রেসিডেন্ট মাখোঁ নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রক্ষণশীল নেতা সেবাস্তিয়ান লেকোর্নুকে দায়িত্ব দেন। আগের প্রধানমন্ত্রী সংসদে অনাস্থা প্রস্তাবে পদ হারান, কারণ তাঁর ব্যয় সংকোচন পরিকল্পনা জনমনে ছিল অত্যন্ত অজনপ্রিয়।

সরকার ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছে, বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় ৪৪ বিলিয়ন ইউরো (৫২ বিলিয়ন ডলার) ব্যয় সংকোচন করা হবে। বর্তমানে ফ্রান্সের বাজেট ঘাটতি ইইউর নির্ধারিত সীমার প্রায় দ্বিগুণ এবং ঋণের পরিমাণ জিডিপির ১১৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।

প্যারিসের পরিবহন সংস্থা আরএটিপির সিজিটি ইউনিয়নের কর্মকর্তা ফ্রেড বলেন—

“সমস্যার মূল মাখোঁ নিজে, মন্ত্রীরা নয়। তাঁকেই পদত্যাগ করতে হবে।”

বিক্ষোভের চিত্র: আগুন–অবরোধ–ভাঙচুর

  • পশ্চিমাঞ্চলের নঁতে: জ্বলন্ত টায়ার ও ডাস্টবিন দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশ টিয়ারগ্যাস ছুড়ে অবরোধ সরায়।
  • রেনে শহর: একটি বাসে আগুন ধরানো হয়।
  • দক্ষিণাঞ্চলীয় মনপেলিয়ে: গোলচত্বরে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়, পুলিশ টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে।
  • রাজধানী প্যারিসে: তরুণরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ অবরোধ করে, ডাস্টবিনে অগ্নিসংযোগ হয়, শপিংমলের কাছে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। কাছাকাছি একটি ভবনে আগুন ধরে গেলে ফায়ার সার্ভিস ছুটে আসে।

বিক্ষোভে ছাত্রছাত্রী ও তরুণদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজধানীর গার দ্যু নর্দ স্টেশনের বাইরে শত শত তরুণ–তরুণী জড়ো হয়ে মাখোঁবিরোধী স্লোগান তোলে।
এক তরুণের হাতে প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—“ধনাঢ্য অভিজাতদের প্রজাতন্ত্র”।

  • এমা মেগুরদিশিয়ান, ১৭ বছর বয়সী ছাত্রী:

“আমরা আওয়াজ তুলতে এসেছি। সরকার বুঝুক, আমরা আর সহ্য করতে পারছি না। আমরা অন্য ধরনের সরকার চাই।”

  • অ্যালিস মরিন, ২১ বছর বয়সী ছাত্রী:

“আগের প্রজন্ম আমাদের জন্য রেখে গেছে জঘন্য পৃথিবী, জঘন্য সরকার। আমাদের লড়াই করতে হবে। পুরোনো পৃথিবীর ছাইয়ের ওপর আমাদের নাচতে হবে।”

২০১৮–১৯ সালে ফ্রান্সজুড়ে আলোচিত ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন হয়েছিল কর বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে। সেই আন্দোলন সরকারকে কয়েক বিলিয়ন ইউরোর নীতি পরিবর্তনে বাধ্য করেছিল।

তবে সমাজবিজ্ঞানী আঁতোয়ান ব্রিস্তিয়েল মনে করেন, এবারকার আন্দোলনে প্রজন্মগত পার্থক্য স্পষ্ট—

“ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনে শ্রমিক ও অবসরপ্রাপ্তদের আধিক্য ছিল। আর এবার তরুণ প্রজন্মই নেতৃত্ব দিচ্ছে। তারা সামাজিক ন্যায়বিচার, বৈষম্য হ্রাস এবং নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা চায়।”

ফ্রান্সে একদিকে ব্যয় সংকোচনের চাপ, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ মিলে মাখোঁ সরকারের ওপর প্রবল চাপ তৈরি করেছে। যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রেতাইয়ো দাবি করেছেন, “যারা দেশ অচল করতে চেয়েছিল, তারা ব্যর্থ হয়েছে”, তবুও বিশ্লেষকেরা বলছেন—এই বিক্ষোভ ফ্রান্সে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

সূত্রঃ রয়টার্স

এই শাখার আরও খবর

নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর গর্ত থেকে শিশু বিথি রায়ের মরদেহ উদ্ধার

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় আট ঘণ্টা পর বিথি রায় নামে ছয় বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ৮টার দিকে…

যুক্তরাজ্যে ফিরলেও রাজপরিবারের দায়িত্বে ফিরছেন না হ্যারি-মেগান

যুক্তরাজ্যে প্রিন্স হ্যারি ও তাঁর স্ত্রী মেগান মার্কেলের ফেরার খবরে রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই হ্যারি ও মেগানের…

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর স্বাধীন নজরদারি প্রতিষ্ঠান গঠনের আহ্বান ফলকার টুর্কের

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি এবং তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার…

গণপতি পরিবারের ছয়-সাত ভরি স্বর্ণ গেল কোথায়? উদ্ধার সম্ভব নয় কেন বলছে পুলিশ?

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় একাধিক প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো, হত্যার…

ডেঙ্গুতে ৪২ হাজারের বেশি আক্রান্ত, মৃত্যু ১১৭

বাংলাদেশে চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪২ হাজার ৫৯০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে…

সুন্দরবন ও বাঘ সংরক্ষণে বাংলাদেশ-ভারতের পরবর্তী বৈঠক বাংলাদেশে

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগার রক্ষায় বাংলাদেশ ও ভারত বিদ্যমান সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় পরবর্তী বৈঠকগুলো বাংলাদেশে আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তসীমান্ত…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au