এআই প্রযুক্তির কারণে বাড়ছে সাইবার ঝুঁকি, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে সফটওয়্যারের গোপন নিরাপত্তাত্রুটি আগের চেয়ে অনেক দ্রুত শনাক্ত হচ্ছে। এতে একদিকে সফটওয়্যারকে আরও নিরাপদ করার সুযোগ তৈরি…
মেলবোর্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক দেখা দিয়েছে। প্রার্থীদের অভিযোগ, হলভিত্তিক গণনা ও কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত ফলাফলে উল্লেখযোগ্য অমিল রয়েছে। অনেকের ভোট কমিয়ে আবার অনেকের ভোট বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রার্থীরা।
গত ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে প্রার্থী মোহাম্মদ সাকিব হলভিত্তিক গণনায় ৩ হাজার ৯৬২ ভোট পেলেও কেন্দ্রীয় ফলাফলে তার ভোট দেখানো হয় ৩ হাজার ৯২২। এ নিয়ে ফেসবুকে ক্ষোভ জানিয়ে তিনি লিখেছেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ব্যর্থতাকে আমি দালিলিক প্রমাণ হিসেবে রাখলাম।” একইভাবে সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে মো. লানজু খানের প্রকৃত ভোট ছিল ১ হাজার ৫৭১, কিন্তু ফলাফলে উল্লেখ করা হয় ১ হাজার ৫৩১। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় তিনি লিখেছেন, “আমার ভোট কমিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে, ধন্যবাদ ঢাবি প্রশাসনকে।”
এ পদে আরেক প্রার্থী ফারিয়া মতিন অভিযোগ করেন, তার মোট ভোট হওয়া উচিত ২ হাজার ১৬১, কিন্তু কেন্দ্রীয় ফলে তা দেখানো হয় ২ হাজার ১৪৭। সদস্য পদে প্রার্থী আবিদ আবদুল্লাহর প্রকৃত ভোট ছিল ২ হাজার ৪২৩, অথচ ঘোষণায় উল্লেখ করা হয় ২ হাজার ৩৮৩। আবির হাসানের ভোট ৩ হাজার ২২৬ থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার ৩২৬ দেখানো হয়।
সহসভাপতি পদে রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ মোট ৬টি ভোট পেলেও ফলাফলে দেখানো হয় ৮টি। সহসাধারণ সম্পাদক পদে আশরেফা খাতুনের প্রকৃত ভোট ছিল ৮৯০, অথচ ফলাফলে দেখানো হয় ৯০০। সমাজসেবা সম্পাদক পদে তাওহিদুল ইসলামের ভোট ২ হাজার ৪৪ হলেও ফলাফলে ছিল ২ হাজার ৪৫। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ফাতিন ইশরাকের ভোট ২ হাজার ১১-এর পরিবর্তে ২ হাজার ২১ দেখানো হয়।
ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদেও অমিল দেখা যায়। বিজয়ী প্রার্থী আসিফ আবদুল্লাহর প্রকৃত ভোট ছিল ৯ হাজার ১০১, অথচ ফলাফলে দেখানো হয় ৯ হাজার ৬১। একই পদে মাহাথির খান নিনাদ ও মো. রায়হানের ভোট যথাক্রমে ৬৯৪ ও ৩০৫ হলেও ফলাফলে তা ১০টি করে বাড়িয়ে ৭০৪ ও ৩১৫ করা হয়। ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক পদে নির্বাচিত মাজহারুল ইসলামের ভোট ছিল ৯ হাজার ৮৪৪, কিন্তু ঘোষণায় তা কমিয়ে ৯ হাজার ৩৪৪ উল্লেখ করা হয়। ক্রীড়া সম্পাদক পদে ছাত্রদল সমর্থিত চিম চিম্যা চাকমার প্রকৃত ভোট ছিল ৩ হাজার ৮৮৮, অথচ ফলাফলে ৩ হাজার ৭৮৮ দেখানো হয়।
সবচেয়ে বড় অমিল দেখা যায় সদস্য পদে সর্বমিত্র চাকমার ক্ষেত্রে। তার প্রাপ্ত ভোট ছিল ৯ হাজার ৫৪৮, কিন্তু ফলাফলে তা কমিয়ে ৮ হাজার ৯৮৮ উল্লেখ করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা ছড়িয়ে পড়লে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক জসীম উদ্দিন ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “হলের ঘোষণাটিই চূড়ান্ত ফলাফল। যোগফল বা টাইপিংয়ে ভুল হতে পারে। ওয়েবসাইটে ইতিমধ্যে ভুল সংশোধন করে সঠিক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।”
তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে এ ধরনের ভুল ক্ষমার অযোগ্য এবং এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বহীনতার প্রমাণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন, “ভোট গণনায় এমন অমিল থাকলে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।”
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au