নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর গর্ত থেকে শিশু বিথি রায়ের মরদেহ উদ্ধার
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় আট ঘণ্টা পর বিথি রায় নামে ছয় বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ৮টার দিকে…
লন্ডনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) কাজের মূল দর্শন তুলে ধরে সংগঠনটির সরসংঘচালক মোহন ভাগবত বলেছেন, তীব্র ঘৃণা নয়, ‘শুদ্ধ সাত্ত্বিক প্রেম’ই আরএসএসের কর্মকাণ্ডের ভিত্তি। পারস্পরিক আপনত্ব, একাত্মবোধ এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধের ওপরই সংগঠনের কাজ পরিচালিত হয় বলে দাবি করেন তিনি।
রোববার লন্ডনে ‘সেলিব্রেশন অব ওয়াননেস’ বা ‘একাত্মতার উদযাপন’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মোহন ভাগবত। সেখানে তিনি বলেন, অনেকে মনে করেন তীব্র ঘৃণাই আরএসএসের কাজের চালিকাশক্তি। তবে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁর ভাষায়, ‘শুদ্ধ সাত্ত্বিক প্রেমই আমাদের কাজের ভিত্তি।’ তাঁর দাবি, এক শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও এই দর্শন আরএসএসের স্বয়ংসেবকদের আচরণ ও সংগঠনের পরিবেশে অটুট রয়েছে।
বক্তব্যে ‘আপনত্ব’ বা ‘আপনাপন’-এর ধারণার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন ভাগবত। তাঁর মতে, এই বোধ শুধু ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যক্তি থেকে পরিবার, পরিবার থেকে সমাজ এবং সমাজ থেকে সমগ্র মানবতার সঙ্গে একাত্মতার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। হিন্দু সভ্যতার দর্শনেও এই চিন্তার প্রতিফলন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হিন্দুরা শুধু প্রকৃতির উপাসনা করেন না, প্রকৃতিকে ভালোওবাসেন এবং তার সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।
বর্তমান বিশ্বের সংঘাত, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সংকট এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে হিন্দু সভ্যতা বিশ্বকে কী দিতে পারে, সেই প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আরএসএস প্রধান। তিনি বলেন, হিন্দু চিন্তার অন্যতম মূল ভিত্তি হলো ‘সমস্ত অস্তিত্ব এক’। পৃথিবীতে বৈচিত্র্য স্বাভাবিক এবং সেই বৈচিত্র্যকে সম্মান করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বৈচিত্র্যের মধ্যকার মৌলিক ঐক্যের কথাও মনে রাখতে হবে।
মোহন ভাগবতের মতে, মানুষ যদি একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী বা শত্রু হিসেবে না দেখে পারস্পরিক প্রয়োজনের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে, তাহলে সংঘাত অনেকটাই কমানো সম্ভব। ‘আমি পাব, অন্যজন পাবে না’ ধরনের মানসিকতার পরিবর্তে ‘আমি এবং অন্যজন দুজনেই পাব’ এমন চিন্তা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। এতে প্রতিযোগিতা ও বৈরিতার পরিবর্তে সবার জন্য গ্রহণযোগ্য ‘উইন-উইন’ সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানব উন্নয়নকেও একই সূত্রে দেখার কথা বলেন ভাগবত। তাঁর বক্তব্য, উন্নয়নের নামে প্রকৃতিকে ধ্বংস করা যেতে পারে না। মানুষের অগ্রগতি এবং প্রকৃতির অগ্রগতি পরস্পরের পরিপূরক হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব বা ‘গ্রিন সলিউশন’-এর মাধ্যমে মানুষের প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি প্রকৃতিকেও সুরক্ষিত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ব্যক্তির অধিকার ও সামাজিক দায়িত্ব, মানব উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মতো আপাতবিরোধী বিষয়গুলোর মধ্যেও ভারসাম্য তৈরি করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন ভাগবত। তাঁর মতে, এসব বিষয়কে এক সূত্রে যুক্ত করে যে নীতি কাজ করে, তা হলো ‘অস্তিত্বের ঐক্য’। বিশ্বের সবকিছু পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত, এই উপলব্ধি ভবিষ্যতের জন্য নতুন পথ দেখাতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ভাগবত বলেন, অতীতেও হিন্দু সভ্যতা এই দর্শনকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করেছে। তবে বর্তমান বিশ্বের পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন মডেল তৈরি করে সেই চিন্তার ভিত্তিতে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার প্রয়োজন রয়েছে।
আরএসএসের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে বিদেশে সংগঠনটির কার্যক্রম ও দর্শন তুলে ধরার ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে লন্ডনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। হিন্দু স্বয়ংসেবক সংঘ ইউকের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে ব্রিটেনের তিন শতাধিক হিন্দু ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
নিউইয়র্ক ও টরন্টো সফরের পর তিন শহরব্যাপী শতবর্ষের প্রচার কর্মসূচির শেষ পর্বে লন্ডনে পৌঁছেছেন মোহন ভাগবত। অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্যে আরএসএসের সাংগঠনিক দর্শন, সামাজিক দায়িত্ব, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের ধারণা বিশেষভাবে উঠে আসে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au