সরকার পতনের জন্য ফেডারেল সরকারের ২ কোটি ৯৫ লাখ ডলার কারা পেয়েছিলেন
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- ‘ বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকার পতনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে’ এমন গুরুতর অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক…
মেলবোর্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর- অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল পার্টিতে অভিবাসন ইস্যুতে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ভারতীয় অভিবাসীদের ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন রূপ নিয়েছে পার্টির অবস্থান ও নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের লড়াইয়ে।
দলের একাংশ যুক্তরাজ্যে নাইজেল ফারাজের উত্থানের মতো কড়া অভিবাসনবিরোধী অবস্থান নিতে চাইছে। অন্যদিকে আরেক পক্ষ মনে করে, অস্ট্রেলিয়ার পরিস্থিতি ব্রিটেনের মতো নয়, তাই এমন চরম অবস্থান ক্ষতির কারণ হতে পারে।
ইতোমধ্যেই এ নিয়ে প্রকাশ্যে বিভাজন দেখা যাচ্ছে। সিনেটর জাসিন্তা ন্যাম্পিজিনপা প্রাইস “বড় আকারের অভিবাসন” বন্ধের আহ্বান জানালেও, দলের ফ্রন্টবেঞ্চার পল স্কার বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান অভিবাসন পরিস্থিতিকে ‘Mass Migration’ বলা ভুল। তাঁর মতে, “Mass Migration” বলতে ১৯৪০–এর দশকে ভারত-পাকিস্তানের বিভাজনের সময় বা ইউরোপ থেকে আমেরিকায় যাওয়া বিশাল জনগোষ্ঠীর স্থানান্তরকে বোঝানো হয়।
তবে প্রাইসসহ অনেকে মনে করেন, এই শব্দটাই ব্যবহার করা উচিত। কারণ “mass” শব্দটি মানুষের মনে অনিয়ন্ত্রিত ও বিপজ্জনক ঢলের ধারণা জাগায়। এ নিয়ে শুধু ভাষাগত তর্ক নয়, বরং পার্টির ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণ হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যে বর্তমানে অভিবাসনবিরোধী জনরোষ বাড়ছে, যা ফারাজকে শক্তি জোগাচ্ছে। সম্প্রতি কনজারভেটিভ পার্টি ব্যাপক আসন হারিয়েছে এবং চরম দক্ষিণপন্থার দিকে ঝুঁকতে গিয়ে নিজেদের ঐতিহ্য হারাচ্ছে। লিবারেল পার্টির রক্ষণশীল অংশ আশঙ্কা করছে, অভিবাসন ও জলবায়ু নীতি নিয়ে চরমপন্থী অবস্থান না নিলে অস্ট্রেলিয়ায়ও তারা একই পরিণতির মুখে পড়তে পারে।
এমন সময়ে লন্ডনে অভিবাসনবিরোধী এবং ইসলামবিরোধী কর্মী টমি রবিনসনের নেতৃত্বে বিশাল সমাবেশ হয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের হিসেবে, অন্তত ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ এতে অংশ নেয়, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় জাতীয়তাবাদী সমাবেশ। সেখানে মুসলিমবিরোধী বক্তৃতা ও বর্ণবাদী ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়ানো হয়। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষও ঘটে। এই প্রেক্ষাপট অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল পার্টির বিতর্ককে আরও উসকে দিচ্ছে।
লেবার পার্টি বিষয়টি ভালোভাবে বুঝছে। তাই তারা সীমান্তে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। সম্প্রতি নাউরু চুক্তি এরই প্রমাণ। লিবারেলদের রক্ষণশীল অংশ এখন সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যু থেকে সরে গিয়ে বৈধ অভিবাসীর সংখ্যার ওপর বিতর্ক তুলতে চাইছে।
২০১৫ সালে প্যারিসে হামলার পর তৎকালীন মন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার সিরীয় শরণার্থী কর্মসূচিতে খ্রিস্টানদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। যদিও সরকার দ্রুত পরিষ্কার করে জানায়, শরণার্থী বাছাই হবে সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ ও বৈষম্যহীন ভিত্তিতে।
এবারের বিতর্কেও দেখা যাচ্ছে একই ধারা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট লিখেছেন, “অভিবাসীবান্ধব হওয়া মানেই ক্রমবর্ধমান বৈচিত্র্যময় অভিবাসন কর্মসূচিকে সমর্থন করা নয়।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে, অভিবাসীর সংখ্যা যতটা নয়, তাঁদের বৈচিত্র্যই আসল প্রশ্ন।
লিবারেল পার্টির ভেতরে অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে এ ধারণার সঙ্গে একমত, যা মূলত অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘদিনের বৈষম্যহীন অভিবাসননীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সব মিলিয়ে, অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল পার্টি এখন অভিবাসন ইস্যুতে কোন পথে যাবে—কঠোর সীমাবদ্ধতার দিকে, নাকি বহুমুখী ও বৈচিত্র্যময় অভিবাসননীতির ধারায়—তা নিয়েই তীব্র দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে।
সুত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au