ডেঙ্গুতে এক সপ্তাহে প্রাণ হারালেন ২৪ জন
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১…
মেলবোর্ন,১৬ সেপ্টেম্বর- নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইল বউবাজার এলাকার একটি সাততলা ভবনের ফ্ল্যাট থেকে এক দম্পতি এবং তাদের চার বছরের ছেলে সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে তিনটি মরদেহ তুলা হয়। নিহতরা হলেন হাবিবুল্লাহ শিপলু, তাঁর স্ত্রী মোহিনী আক্তার মীম এবং তাদের ছেলে আফরান। হাবিবুল্লাহর বয়স ৩৫, মীমের বয়স ২৫ এবং আফরানের বয়স চার বছর ছিল। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শিপলুর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দাবিরন গ্রামে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ বলছেন, ওই বাসায় দরজাটি ভেতর থেকে লক ছিল। স্থানীয়রা সন্ধান পাওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির উদ্দিন এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জামাল উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে ফোর্স নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ঘরে ঢুকলে দেখা যায় শিপলুকে সিলিং ফ্যানে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছে। অন্য কক্ষে মীম ও তাদের ছেলে বিছানায় অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন এবং তাঁদের মুখের ওপর বালিশ চাপানো ছিল।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, প্রাথমিক ধারণা হচ্ছে শিপলু প্রথমে স্ত্রী ও সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পরে নিজে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, হত্যা না আত্মহত্যা—এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত ও তদন্তের ফলের অপেক্ষা করতে হবে। আইনগত যতদিক থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে এবং সবদিক থেকে তদন্ত করা হচ্ছে।
শিপলুর বড় ভাই অলিউল্লাহ লাভলু ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পরে বলেন, রবিবার রাত থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। সোমবার বিকেলে স্বজনরা গিয়ে দরজা খোলে না দেখে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশকে খবর দেন। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকলে তার ভাই ঝুলে ছিলেন এবং বালিশ চাপানো অবস্থায় ভাতিজার মুখ দেখতে পান তারা। ভাইয়ের মৃত্যু দেখে পরিবারের লোকজন ভেঙে পড়েছেন, তিনি বলেন পুলিশ তদন্ত করে যা ফল পাওয়া যায় তা জানাবে।
পুলিশ এবং স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুসারে, শিপলু ‘রমজান সমিতি’ নামের একটি সমিতির ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছিলেন। সমিতিটি করোনা মহামারির সময় কার্যক্রম স্থগিত হয়। পরে সমিতির মালিক গ্রাহকদের জমা রাখা টাকার বড় অঙ্ক নিয়ে উধাও হয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্রাহকরা মালিক ও শিপলুর বিরুদ্ধে মামলা করেন। ধারনা করা হচ্ছে দীর্ঘ সময়ের চাপ, মানসিক অস্থিরতা ও আর্থিক সমস্যা শিপলুকে মানসিকভাবে প্রভাবিত করেছিল এবং এ কারণেই তিনি হতাশায় এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন। স্থানীয়রা বলেন, ঘটনায় গ্রাহকদের চাপও ছিল।
ওসি নাছির উদ্দিন বলেন, আমরা ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও ফরেন্সিক ফল পাওয়া গেলে হত্যাকাণ্ড না আত্মহত্যা—সেটা পরিষ্কার হবে। পুলিশের চশমায় সব সাম্যিক তথ্য জোড়া লাগিয়ে তদন্ত করা হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ অবস্থান বাড়িয়ে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব হয়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au