আগামীকাল হংকংয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশের নারীরা
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- নারী এশিয়ান গেমস বাছাই পর্বে গ্রুপের শেষ ম্যাচকে সামনে রেখে দারুণ আত্মবিশ্বাসে আছে বাংলাদেশ নারী হকি দল। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা-এ অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচে আগামীকাল…
মেলবোর্ন, ১৬ সেপ্টেম্বর- অস্ট্রেলিয়া শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের আইন কার্যকরের আগে বয়স যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ডিসেম্বর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হলেও সব ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করতে বলা যাবে না।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রেলিয়া সরকার টিকটক, ফেসবুক, স্ন্যাপচ্যাট, রেডিট, এক্স এবং ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বিশ্বের প্রথমবারের মতো শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধের আইন আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে। তবে সব ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করা হবে অযৌক্তিক।
অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্রান্ট, যিনি এ নির্দেশিকা প্রস্তুত করেছেন, বলেন, “আমরা মনে করি সব ব্যবহারকারীর বয়স পুনরায় যাচাই করা অযৌক্তিক হবে।” তার ভাষায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে ইতোমধ্যেই পর্যাপ্ত তথ্য থাকে যা ব্যবহারকারীর বয়স ১৬ বছরের বেশি কিনা তা যাচাই করতে সক্ষম।
তিনি আরও বলেন, “এই প্ল্যাটফর্মগুলো বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে আমাদের নির্ভুলভাবে লক্ষ্য করতে পারে। সুতরাং একটি শিশুর বয়স শনাক্ত করাও নিশ্চয়ই তাদের পক্ষে সম্ভব।”
অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্ট গত বছরই এই আইন পাস করে, যা কার্যকরের জন্য প্ল্যাটফর্মগুলোকে এক বছরের সময় দেওয়া হয়েছিল। আইন অনুযায়ী, ১৬ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট রাখতে না দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে প্রতিটি প্ল্যাটফর্মকে সর্বোচ্চ ৫০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।
তবে সমালোচকরা বলছেন, এই আইন কার্যকর হলে সব ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, কারণ প্রত্যেককেই প্রমাণ করতে হবে যে তারা ১৬ বছরের বেশি বয়সী।
এই সমালোচনার জবাবে ইনম্যান গ্রান্ট বলেন, “সব ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করতে হবে” — এ ধরনের দাবি একটি ভয় দেখানোর কৌশল।
অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস বলেন, সরকার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের তথ্য যতটা সম্ভব গোপন রাখতে চায়। তিনি বলেন, “এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো আমাদের সম্পর্কে আগেই অনেক কিছু জানে। আপনি যদি ২০০৯ সাল থেকে ফেসবুক ব্যবহার করে থাকেন, তবে তারা নিশ্চিতভাবেই জানে আপনি ১৬ বছরের বেশি।”
ওয়েলস এবং ইনম্যান গ্রান্ট আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে সফরে যাবেন, যেখানে তারা প্ল্যাটফর্মগুলোর মালিকদের সঙ্গে এ নির্দেশিকা নিয়ে আলোচনা করবেন।
ইনম্যান গ্রান্ট আরও জানান, প্ল্যাটফর্মগুলোকে ও তাদের সংস্থাকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা ১৬ বছরের কম বয়সীদের বাদ দেওয়ার জন্য “যৌক্তিক পদক্ষেপ” নিচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি না যে ১০ ডিসেম্বরের পর হঠাৎ করে সব ১৬ বছরের নিচের অ্যাকাউন্ট অদৃশ্য হয়ে যাবে। আমরা লক্ষ্য করব প্রযুক্তি, নীতি ও প্রক্রিয়া প্রয়োগে কোথাও বড় ধরনের ব্যর্থতা আছে কিনা।”
মেলবোর্নের আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ লিসা গিভেন বলেন, সরকারের এ উদ্যোগ বয়স যাচাই প্রযুক্তির ত্রুটি থাকতে পারে তা স্বীকার করছে। তিনি আরও বলেন, “প্রত্যেক প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর করছে তারা কীভাবে এই আইন মানবে। এখন দেখা যাবে তারা ‘যৌক্তিক পদক্ষেপের’ সংজ্ঞার সীমা কোথায় পর্যন্ত পরীক্ষা করে।”
সুত্রঃ নাইন নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au