হৃদরোগে মারা গেলেন ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী সুদিব্য কুমার সোনু
ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের উচ্চ ও কারিগরি শিক্ষা, নগর উন্নয়ন এবং পর্যটনমন্ত্রী সুদিব্য কুমার সোনু হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা, জেএমএমের প্রবীণ এই…
মেলবোর্ন, ১৭ সেপ্টেম্বর- বাংলাদেশের প্রধান তৈরি পোশাক শিল্প সংগঠন বিজিএমইএ (BGMEA) সোমবার ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে। দলটির নেতৃত্বে ছিলেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার জন্য মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ। আলোচনায় মূল বিষয় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অতিরিক্ত ২০ শতাংশ “পারস্পরিক” শুল্ক কমানো।
বিজিএমইএ জানায়, বৈঠক ছিল ফলপ্রসূ এবং এতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি উচ্চ শুল্ক কমানোর বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ৩৭ শতাংশ “লিবারেশন ডে” শুল্ক ধার্য করেছিল, যা পরে কমে দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশে। এখনকার ২০ শতাংশ হার তুলনামূলক স্বস্তি দিলেও তা এখনও ভারী বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার, যা দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, “আমরা ২০ শতাংশ শুল্ক কমাতে পেরেছি, যা ইতিবাচক। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে গড়ে ১৬.৫ শতাংশ এমএফএন শুল্ক রয়েছে। তার সঙ্গে ২০ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক যোগ হয়ে মোট বোঝা দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৩৬.৫ শতাংশ। এটি আমাদের রপ্তানির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।”
তিনি লিঞ্চকে আহ্বান জানান শুল্ক আরও কমানোর জন্য, যাতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি খাতের নিয়োগদাতা—প্রায় ৪১ লাখ শ্রমিক ও চার হাজার কারখানা—টিকে থাকতে পারে। খান প্রস্তাব দেন অতিরিক্ত শুল্ক “স্তূপীকরণ” সীমিত করার।
উভয় পক্ষ একটি নির্বাহী আদেশ নিয়েও আলোচনা করে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল অন্তত ২০ শতাংশ ব্যবহার করা হলে পারস্পরিক শুল্ক মওকুফ হতে পারে। বাংলাদেশ সরকারও যুক্তরাষ্ট্রে তুলা রপ্তানি বাড়ানোর আগ্রহ দেখিয়েছে, যা ৬.২ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সহায়ক হবে।
লিঞ্চ বৈঠকে বাংলাদেশের ২০০৬ সালের শ্রম আইনকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার সুপারিশ করেন। জবাবে খান জানান, শিল্পখাত সংস্কারে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ইতিমধ্যেই সংশোধনের প্রস্তাব জমা দিয়েছে।
বাংলাদেশে এখনও শ্রমিক অসন্তোষ বিরাজ করছে—কম মজুরি, অতিরিক্ত কাজের সময় এবং শোষণমূলক আচরণের কারণে। এসব থেকে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে এবং বিভিন্ন ফৌজদারি মামলাও হয়েছে। ২০১৩ সালের রানা প্লাজা ধসে (যেখানে এক হাজার ১৩০ জনের বেশি শ্রমিক নিহত হন) এর পর বারাক ওবামা প্রশাসন বাংলাদেশের জন্য জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে। যদিও এখন কর্মসূচি সব দেশের জন্যই শেষ হয়েছে, বাংলাদেশের সুবিধা এখনও ফেরেনি।
শুধু শুল্ক নয়, ব্যাংক সংকটও পোশাক শিল্পকে বিপর্যস্ত করছে। বিজিএমইএ স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, ব্যাংকিং সমস্যার কারণে অন্তত ৪০০ কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। সমস্যায় থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের নাম উঠে এসেছে। শুধু এক্সিম ব্যাংকের মাধ্যমেই ২৫০ রপ্তানিকারক লেনদেন করে, আর তাদের বেশিরভাগই বিপদে পড়েছে।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, “২০০-র বেশি রপ্তানিকারক সমস্যায় রয়েছে কারণ ব্যাংকগুলো তাদের অর্থ পরিশোধ করতে পারছে না। ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি মেটানো যাচ্ছে না, রপ্তানিকারকরাও অর্থ পাচ্ছে না।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ এখন দাঁড়িয়েছে ৪.২ লাখ কোটি টাকা (৩৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি), যা বড় ধরনের তারল্য সংকট তৈরি করেছে এবং শ্রমিক অসন্তোষের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
গত সপ্তাহে বিজিএমইএ দাবি জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোকে পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সহায়তা করার জন্য নীতিগত সহায়তা দিতে হবে। তারা প্রস্তাব করেছে খেলাপি ঋণের পরিশোধের সময়সীমা তিন বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হোক। এছাড়া উদ্যোক্তাদের জন্য সহজতর “প্রস্থান নীতি” দরকার, যাতে তারা মর্যাদার সঙ্গে ব্যবসা ছাড়তে পারেন।
সুত্রঃ এমএসএন নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au