এইচএসসি পরীক্ষা শুরু বৃহস্পতিবার, সব শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্র
মেলবোর্ন,১ জুলাই- আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সারা দেশে একযোগে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। এবার দেশের সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে…
মেলবোর্ন, ২০ সেপ্টেম্বর- ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের দেশ পর্তুগাল। আগামী রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্বীকৃতি দেওয়া হবে। এর পরদিন, সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA) অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
পর্তুগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করছে যে, পর্তুগাল ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে ২১ সেপ্টেম্বর, রোববার।”
পর্তুগিজ দৈনিক Correio da Manha জানিয়েছে, কেন্দ্র-ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রো এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাষ্ট্রপতি ও সংসদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এর মধ্য দিয়ে দেশটির সংসদে প্রায় ১৫ বছরের বিতর্কের অবসান ঘটছে। ২০১১ সালে বামপন্থী দল লেফট ব্লক প্রথম এ প্রস্তাব দিয়েছিল।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
পর্তুগালের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময় এলো যখন সম্প্রতি জাতিসংঘের এক ঐতিহাসিক তদন্তে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ কার্যত গণহত্যার শামিল। গত বছরের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৫ হাজার ১৪১ জন নিহত এবং ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯২৫ জন আহত হয়েছেন। আরও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত জুলাই মাসে পর্তুগিজ সরকার প্রথম জানায় যে, তারা ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে অগ্রসর হচ্ছে। তারা তখন বলেছিল, “সংঘাতের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, মানবিক বিপর্যয় অব্যাহত এবং ইসরায়েল নিয়মিত ফিলিস্তিনি ভূমি দখলের হুমকি দিচ্ছে।”
যোগ দিচ্ছে আরও দেশ
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর এক উপদেষ্টা শুক্রবার জানান, অ্যান্ডোরা, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা ও সান মারিনো ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথভাবে সোমবার নিউইয়র্কের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।এছাড়া কানাডা ও যুক্তরাজ্যও একই ঘোষণা দিয়েছে।
এভাবে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ১৫৭-এ, যা জাতিসংঘের মোট সদস্য রাষ্ট্রের প্রায় ৭৫ শতাংশ।
জাতিসংঘে বিশেষ পদক্ষেপ
শুক্রবার জাতিসংঘে ভোটাভুটিতে পর্তুগালও ১৪৫টি দেশের সঙ্গে পক্ষে ভোট দিয়েছে, যাতে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কের সাধারণ পরিষদে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র আব্বাসকে ভিসা না দেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, নাউরু, পালাউ ও প্যারাগুয়ে এর বিরোধিতা করে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমালোচনা
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগে তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফ্রান্সের ঘোষণাকে “বেপরোয়া সিদ্ধান্ত” বলে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, “এটি কেবল হামাসের প্রচারণাকে শক্তিশালী করবে।”
ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ গত বছর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “যে দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে, তার প্রতিদান হিসেবে দখলকৃত পশ্চিম তীরে নতুন অবৈধ বসতি স্থাপন করা হবে।”
লুক্সেমবার্গের প্রধানমন্ত্রী লুস ফ্রিডেন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাভিয়ার বেটেল জানিয়েছেন, তারাও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবেন এবং সংসদে প্রস্তাব পেশ করবেন যাতে প্রয়োজনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যায়।
১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ফিলিস্তিন বিভক্ত করার পরিকল্পনায় ভূমির ৪৫ শতাংশ আরব রাষ্ট্রকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তখন জাতিসংঘে মাত্র ৫৭টি সদস্য রাষ্ট্র ছিল, যাদের অনেকেই ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে থাকায় ভোট দিতে পারেনি।
সুত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au