ওপেনএআই স্মার্টফোন বা ঐতিহ্যবাহী কম্পিউটারের ওপর নির্ভরতা ছাড়াই মানুষের হাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পৌঁছে দিতে চায়। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২০ সেপ্টেম্বর- বিশ্বখ্যাত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই প্রযুক্তি জগতে নতুন বিপ্লবের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি অ্যাপলের আইফোন ও এয়ারপডের অন্যতম সরবরাহকারী চীনা কোম্পানি লাক্সশেয়ারের (Luxshare) সঙ্গে চুক্তি করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, ওপেনএআইয়ের তৈরি হতে যাওয়া নতুন এআই ডিভাইসের উৎপাদনের দায়িত্ব নেবে লাক্সশেয়ার। এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ইনফরমেশন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিভাইসটি বর্তমানে প্রোটোটাইপ পর্যায়ে রয়েছে। এটি হবে পকেট আকারের ও কনটেক্সট-অ্যাওয়ার (প্রসঙ্গ বুঝে কাজ করতে সক্ষম) প্রযুক্তিনির্ভর। সরাসরি ওপেনএআইয়ের শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করবে ডিভাইসটি।
ওপেনএআইয়ের লক্ষ্য, স্মার্টফোন বা ঐতিহ্যবাহী কম্পিউটারের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি মানুষের হাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি অ্যাপল, স্যামসাং ও গুগলের মতো জায়ান্ট প্রযুক্তি সংস্থার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে চায়।
শুধু লাক্সশেয়ার নয়, ওপেনএআই আরও এক চীনা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গোয়েরটেকের (Goertek) সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে। গোয়েরটেক মূলত অ্যাপলের এয়ারপড, হোমপড ও অ্যাপল ওয়াচের বিভিন্ন উপাদান তৈরি করে। ওপেনএআই চাইছে, গোয়েরটেক তাদের ডিভাইসের জন্য স্পিকার মডিউলসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সরবরাহ করুক।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি ওপেনএআইয়ের সবচেয়ে বড় ও সাহসী উদ্যোগ। কারণ এই প্রথম প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্টভাবে হার্ডওয়্যার তৈরির পথে নামছে, যেখানে আগে পর্যন্ত স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের ওপরই নির্ভর করতে হয়েছে।
এ ছাড়া কয়েক মাস আগে ওপেনএআই আইফোনের কিংবদন্তি ডিজাইনার জনি আইভ প্রতিষ্ঠিত হার্ডওয়্যার স্টার্টআপ ‘আইও প্রোডাক্টস’কে ৬৫০ কোটি ডলারে অধিগ্রহণ করে। সেই সময় জানানো হয়েছিল, জনি আইভ ও তার সাবেক অ্যাপল ডিজাইন টিম ওপেনএআইতে যোগ দিয়ে নতুন প্রজন্মের এআইভিত্তিক কনজ্যুমার হার্ডওয়্যার তৈরি করবেন। বর্তমানে জনি আইভই এই প্রকল্পের সৃজনশীল নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
ওপেনএআইয়ের পরিকল্পনা, ২০২৬ সালে বাজারে প্রথম এআই ডিভাইসটি উন্মোচন করা হবে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান বিশ্বাস করেন, বাজারে আসার পর তারা এই ডিভাইসের ১০ কোটির বেশি ইউনিট বিক্রি করতে সক্ষম হবেন।
প্রশ্ন হচ্ছে— এই উদ্ভাবনী ডিভাইস কি সত্যিই স্মার্টফোনের যুগের সমাপ্তি টেনে দেবে? এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।