ঢাকা ওয়াসার সাবেক এমডি আব্দুস সালাম। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১০ মার্চ- ঢাকা ওয়াসার সদ্য সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আব্দুস সালাম ব্যাপারী ও তার স্ত্রী মাহবুবুন্নেছার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করার পর তাদের বিদেশ যাত্রা বন্ধে এই আদেশ দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ সিআইডির করা আবেদনের শুনানি শেষে এ নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সিআইডি তাদের আবেদনে উল্লেখ করেছে যে মো. আব্দুস সালাম ব্যাপারী ও তার স্ত্রী মাহবুবুন্নেছার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের বিদেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় তারা দেশত্যাগ করলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এসব বিবেচনায় আদালতের কাছে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আবেদন জানানো হয়। শুনানি শেষে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।
ইউনূস সরকারের শেষ সময়ে মো. আব্দুস সালাম ব্যাপারীকে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে তিনি সংস্থাটিতে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন সময়েই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সম্প্রতি গত ৩ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে কানাডার তথাকথিত ‘বেগমপাড়া’ এলাকায় আব্দুস সালামের স্ত্রীর নামে একটি বিলাসবহুল বাড়ি থাকার তথ্য উঠে আসে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ার পেছনে অর্থ পাচারের সম্ভাবনা রয়েছে। এর পরপরই বিষয়টি নিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করে।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আব্দুস সালাম ব্যাপারী ও তার পরিবারের সম্পদের উৎস, দেশ-বিদেশে সম্পত্তির তথ্য এবং ব্যাংক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াও চলছে।
মো. আব্দুস সালাম ব্যাপারী ১৯৯১ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ঢাকা ওয়াসায় চাকরিজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে ধাপে ধাপে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এবং পরে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদে উন্নীত হন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, চাকরিজীবনে বেতন ও ভাতাসহ তার মোট আয় প্রায় আড়াই কোটি টাকার মতো। তবে তার বর্তমান সম্পদ ও জীবনযাত্রার ধরন এই আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অনুসন্ধানকারীরা মনে করছেন।
এ অবস্থায় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সিআইডির অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি ও তার স্ত্রী দেশত্যাগ করতে পারবেন না বলে আদালতের আদেশে বলা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।