ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ
ইতালির মেস্ট্রেতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায়…
যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির পার্লামেন্ট সদস্য টিউলিপ সিদ্দিক বলেছেন, তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে যে অভিযোগ ওঠেছে, তা সম্পূর্ণ “ভুয়া”। এই মন্তব্য তিনি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের অনলাইন সংস্করণে বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর করেছেন। একই দিনে প্রথম আলোও শীর্ষ শিরোনামে জানায়, “প্রথম আলো ও দ্য টাইমস-এর যৌথ অনুসন্ধান: টিউলিপ এখনো বাংলাদেশের ভোটার, আছে পাসপোর্ট, এনআইডি।”
টিউলিপ দৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন, বর্তমানে তার কোনো বাংলাদেশি পাসপোর্ট নেই। তিনি স্বীকার করেছেন যে, দুর্নীতির অভিযোগের মুখোমুখি রয়েছেন, কিন্তু পাসপোর্ট সংক্রান্ত অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা জাল নথিপত্র ব্যবহার করে আমাকে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রমাণ করার চেষ্টা করছে।”
দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে টিউলিপের নামে যে নথিপত্র প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে দেখা গেছে, তিনি ২০০১ সালে ১৯ বছর বয়সে বাংলাদেশি পাসপোর্ট পেয়েছিলেন এবং ২০১১ সালে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পেয়েছিলেন। এছাড়া ঢাকার আগারগাঁও পাসপোর্ট কার্যালয়ে ২০১১ সালে পাসপোর্ট নবায়নের জন্য আবেদন করেছিলেন।
কিন্তু টিউলিপের ঘনিষ্ঠ সূত্র এবং তার আইনজীবী দল নথিপত্রগুলির নানা অসঙ্গতি ও অনিয়ম তুলে ধরেছেন। যেমন, নথিপত্রে টিউলিপের ঠিকানা হিসেবে ঢাকার একটি বাড়ির কথা উল্লেখ আছে, যা তার খালা এবং বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মালিকানাধীন। তাঁর ঘনিষ্ঠদের মতে, টিউলিপ কখনো ঢাকায় বসবাস করেননি। তারা জোর দিয়ে দাবি করেছেন, তিনি কখনো বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করেননি এবং শৈশবের পর থেকে কোনো বাংলাদেশি পাসপোর্টও রাখেননি।
ঘনিষ্ঠরা আরও বলেছেন, নথিপত্রগুলো স্মার্ট কার্ড ফরম্যাটে তৈরি হয়নি, যা সাধারণত সহজে যাচাই করা যায়। তাই এই নথিপত্রগুলির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে। বিষয়টি বিশেষ করে উদ্বেগজনক মনে করছেন তারা, কারণ চলমান একটি দুর্নীতির মামলায় এই নথিপত্রগুলি ব্যবহার হতে পারে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, টিউলিপ তার খালাকে প্রভাবিত করে মা, ভাই ও বোনের জন্য প্লট বরাদ্দ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির এই এমপির একজন মুখপাত্র দ্য টেলিগ্রাফকে জানান, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ প্রায় এক বছর ধরে টিউলিপের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “তারা আমাদের আইনজীবী দলের সঙ্গে কথা বলার কোনো আগ্রহ দেখায়নি এবং তাদের ভিত্তিহীন দাবির জন্য কোনো প্রমাণ প্রদান করেনি। এখন তারা এমন নথিপত্র জাল করেছে, যার সব প্রমাণ স্পষ্টভাবে ভুয়া।”
টিউলিপের আইনজীবী সংস্থা স্টিফেনসন হারউডের এক মুখপাত্রও চলতি বছরের শুরুর দিকে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, টিউলিপ কখনো বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি রাখেননি। শৈশবের পর থেকে তিনি কোনো বাংলাদেশি পাসপোর্টও বহন করেননি।
টিউলিপের পরিবারের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, তার মা-বাবা বাংলাদেশি নাগরিক। তাই তার কাছে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ—দুই দেশের নাগরিকত্ব থাকার সুযোগ রয়েছে। তবে টিউলিপ স্পষ্ট করেছেন, বাংলাদেশের পাসপোর্ট সংক্রান্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এই ঘটনায় টিউলিপ সিদ্দিক বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের অভিযোগ তুলেছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন, যে কোনো নথিপত্র যেটি তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে তা ভুয়া। তিনি এবং তার আইনজীবী দল নথিপত্রের সত্যতা নিয়ে কঠোর প্রশ্ন তুলছেন।
সংক্ষেপে, টিউলিপ সিদ্দিক বাংলাদেশের পাসপোর্ট এবং জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত অভিযোগকে ‘ভুয়া’ হিসেবে নাকচ করেছেন এবং বলেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই ধরনের কাগজপত্র তৈরি করা হচ্ছে।
সুত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au