আইফোন ১৭ চারটি রঙে পাওয়া যাচ্ছে। ছবি: অ্যাপল
মেলবোর্ন, ২১ সেপ্টেম্বর- অ্যাপলের সর্বশেষ প্রজন্মের স্মার্টফোন আইফোন ১৭ বাজারে আসার আগেই সাড়া ফেলেছে। বিপুল প্রি-অর্ডারের কারণে টেক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটি বেসিক মডেলের উৎপাদন অন্তত ৩০ শতাংশ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে সরবরাহকারীদের। গত শুক্রবার মার্কিন গণমাধ্যম দ্য ইনফরমেশন এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধারণার চেয়েও বেশি গ্রাহক ৭৯৯ ডলারের আইফোন ১৭ বেস মডেল বেছে নিচ্ছেন। অথচ এত দিন অ্যাপলের মূল আকর্ষণ ছিল প্রিমিয়াম প্রো মডেলগুলো, যেগুলোর দাম শুরু হয় ১,০৯৯ ডলার থেকে। এসব প্রো ডিভাইসে ব্যবহৃত হয় উন্নত প্রসেসর, ক্যামেরা, ডিসপ্লে ও প্রিমিয়াম ম্যাটেরিয়াল।
চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লাক্সশেয়ার, যারা অ্যাপলের প্রধান সংযোজনকারীদের একজন, তাদের প্রতিদিনের উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অ্যাপল এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, আইফোন ১৭ সিরিজে যুক্ত হওয়া নতুন মডেল ‘আইফোন এয়ার’, যা আগের তুলনায় পাতলা ও হালকা, গ্রাহকদের আকৃষ্ট করেছে।
তাছাড়া, প্রথমবারের মতো বেসিক আইফোন ১৭ মডেলেই যুক্ত হয়েছে কিছু প্রিমিয়াম ফিচার—যেমন উন্নত ক্যামেরা ও স্ক্রিন প্রযুক্তি, যা আগে কেবল প্রো সিরিজেই সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে গ্রাহকদের কাছে প্রো ও বেস মডেলের পার্থক্য অনেকটাই কমে এসেছে।
বছরের পর বছর অ্যাপল তাদের গ্রাহকদের উচ্চমূল্যের ডিভাইসের দিকে আকৃষ্ট করতে চাইত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় স্মার্টফোন বিক্রি স্থবির হয়ে পড়েছে, কারণ নতুন সংস্করণগুলোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছিল না। এ কারণে গ্রাহকেরা আপগ্রেডে অনীহা দেখাচ্ছিলেন।
এবার অ্যাপল মূল্য সংবেদনশীল বাজারের চাপ মাথায় রেখে কৌশল বদলাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা সতর্ক করছেন, নিম্নমূল্যের মডেলের বিক্রি বাড়লে অ্যাপলের লাভের মার্জিন কমে যেতে পারে। তবে একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে বাজার দখলের লড়াইয়ে সুবিধা এনে দিতে পারে।