রবিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর একটি থেরাপিউটিক রোবট। ছবি: জাপান টুডে
মেলবোর্ন , ২৩ সেপ্টেম্বর- হাসপাতালের করিডরে হাঁটছিল লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত ছয় বছরের শিশু লুকা ও তার মা মেগান ব্রাজিল-শিহান। হঠাৎ সামনে এসে দাঁড়াল চার ফুট লম্বা এক রোবট—‘রবিন’। শিশুকণ্ঠে রোবটটি উচ্চস্বরে বলে উঠল, “লুকা, কেমন আছ? অনেক দিন দেখা হয়নি!” নাম ধরে ডাকা শুনে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে ছোট্ট লুকা।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের ইউমাস মেমোরিয়াল চিলড্রেনস মেডিকেল সেন্টারে ব্যবহৃত হচ্ছে এ রোবট। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এই থেরাপিউটিক রোবটটি সাত বছরের একটি মেয়েশিশুর মতো আচরণ করতে প্রোগ্রাম করা হয়েছে। হাসপাতালের শিশু বিভাগ ও নার্সিং হোমে মানসিক সঙ্গী হিসেবে কাজ করছে এটি।
কী করতে পারে রবিন?
রোবটটির ডিজাইন এমনভাবে করা হয়েছে যেন শিশুরা সহজে জড়িয়ে ধরতে পারে। রবিন শিশুদের সঙ্গে গান গায়, নাচে, খেলা করে কিংবা মজার ভঙ্গিতে হাসায়।
- কারো নাম ও প্রিয় গান মনে রাখে।
- রোগীর আবেগ বুঝে সেভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়— কেউ হাসলে হাসে, কেউ কষ্টের কথা বললে সহানুভূতি দেখায়।
- শিশুদের সঙ্গে টিক-ট্যাক-টো গেম খেলে, গান শোনায় বা নাচতে উৎসাহিত করে।
- নার্সিং হোমে ডিমেনশিয়া আক্রান্ত বৃদ্ধদের সঙ্গে মেমোরি গেম খেলে এবং শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ অনুশীলন করায়।
লস অ্যাঞ্জেলেসের এক নার্সিং হোমে প্যানিক অ্যাটাক হওয়া এক বৃদ্ধা রবিনকে ডাকেন। তখন রবিন তাঁর প্রিয় শিল্পী এলভিস প্রেসলির গান এবং প্রিয় প্রাণী কুকুরের ভিডিও দেখিয়ে তাঁকে শান্ত করে।
রোবটটি তৈরি করেছে এক্সপার টেকনোলজিস। প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী করেন খাচিকিয়ান জানান, চিকিৎসক ও নার্সদের চাপ কমাতেই রবিনের ধারণা আসে। ছোটবেলায় একাকিত্বে ভোগার অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এমন একটি বন্ধু-সদৃশ রোবট তৈরির চিন্তা করেন।
২০১৯ সালে আর্মেনিয়ার এক শিশু হাসপাতালে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহৃত হয় রবিন। ২০২০ সালে ইউসিএলএ ম্যাটেল চিলড্রেনস হাসপাতালে পাইলট প্রোগ্রাম শুরু হয়। বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়া, ম্যাসাচুসেটস, নিউইয়র্ক ও ইন্ডিয়ানার ৩০টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে কাজ করছে এটি।
রবিন এখন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে। বাকি কাজ দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। তবে খাচিকিয়ানের লক্ষ্য— একদিন সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে রবিনকে কাজে লাগানো।
আগামী ১১ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে ৮৬ হাজার চিকিৎসকের ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে রবিনকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসকের কাছে তথ্য পাঠানো এমনকি বৃদ্ধ রোগীদের জামা বদলানো বা টয়লেট ব্যবহারে সহায়তার মতো কাজে দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা চলছে।
স্পিচ ল্যাংগুয়েজ প্যাথলজিস্ট সামান্থা দা সিলভা বলেন—
“রবিন শুধু নাম মনে রাখে না, কার কী গান পছন্দ তাও মনে রাখে। ওকে দেখলেই শিশুরা হাসতে শুরু করে।”শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোই যেন রবিনের সবচেয়ে বড় সাফল্য। হাসপাতালের কঠিন সময়েও তাই সে হয়ে উঠছে শিশুদের প্রকৃত বন্ধু।
সূত্র: জাপান টাইমস