মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ২৪ সেপ্টেম্বর- সারা বিশ্ব থেকে মেধাবী পেশাজীবীদের আকৃষ্ট করতে ভিসা ফি কমানো কিংবা সম্পূর্ণ মওকুফ করার উদ্যোগ নিচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে সম্প্রতি ভিসা ফি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে, ঠিক সেই সময়ে ব্রিটেনের এই পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের উদ্যোগে গঠিত ‘গ্লোবাল ট্যালেন্ট টাস্ক ফোর্স’ এই প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে। এর মূল লক্ষ্য হলো—বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষাবিদ, ডিজিটাল প্রযুক্তিবিদ ও শিল্প-সংস্কৃতির মেধাবীদের যুক্তরাজ্যে এনে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো।
ডাউনিং স্ট্রিট ও ট্রেজারির ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবগুলোর মধ্যে একটি হলো শীর্ষ পেশাদারদের জন্য ভিসা ফি সম্পূর্ণ শূন্য করে দেওয়া। যেমন—বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা কিংবা মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মাননা পাওয়া ব্যক্তিরা সরাসরি এই সুবিধা পেতে পারেন।
একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা এমন মেধাবীদের আকৃষ্ট করতে চাই, যারা বিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সেরা।”
যুক্তরাজ্যের এই উদ্যোগের আলোচনা শুরু হয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফি ১ লাখ মার্কিন ডলার করার ঘোষণা আসার আগেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ যুক্তরাজ্যের ভিসা সংস্কার পরিকল্পনাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। কর্মকর্তারা মনে করছেন, নভেম্বরের বাজেট ঘোষণার আগে এটি প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর বড় সুযোগ হতে পারে।
এই সংস্কারের নেতৃত্বে রয়েছেন স্টারমারের ব্যবসায়িক উপদেষ্টা বরুণ চন্দ্র এবং বিজ্ঞানমন্ত্রী লর্ড প্যাট্রিক ভ্যালেন্স। তবে হোম অফিস, যার প্রধান লক্ষ্য অভিবাসন কমানো, এখনো সরাসরি আলোচনায় বসেনি। যদিও অভিবাসন ভিসার সব রুট নিয়মিত পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।
একজন ব্রিটিশ কর্মকর্তা বর্তমান গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা ব্যবস্থাকে “আমলাতান্ত্রিক দুঃস্বপ্ন” আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁরা ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করার পথ খুঁজছেন।
একজন সরকারি কর্মকর্তা ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, “এটি অভিবাসন বাড়ানোর উদ্যোগ নয়। বরং সবচেয়ে উজ্জ্বল এবং সেরা মেধাবীদের নিয়ে আসাই মূল লক্ষ্য।” একই সময়ে চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভস ট্যাক্স ব্যবস্থার সংস্কারেও কাজ করছেন, যাতে বৈশ্বিক প্রতিভা আকর্ষণে কোনো বাধা না থাকে।
২০২০ সালে চালু হওয়া গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসার আবেদন ফি বর্তমানে ৭৬৬ পাউন্ড। সঙ্গী ও সন্তানদের জন্যও একই ফি দিতে হয়। এর পাশাপাশি বছরে মাথাপিছু ১,০৩৫ পাউন্ড স্বাস্থ্য সারচার্জ দিতে হয়। তবে নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে এই খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে পুরোপুরি মওকুফও হতে পারে।
এই ভিসা মূলত একাডেমিক, গবেষণা, শিল্প-সংস্কৃতি ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য। যোগ্য আবেদনকারীদের হয় কোনো আন্তর্জাতিক পুরস্কার থাকতে হবে, নয়তো অনুমোদিত সংস্থা থেকে এনডোর্সমেন্ট নিতে হবে। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর সাধারণত ৩ সপ্তাহ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত আসে।
ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ ৫ বছর, নবায়নযোগ্য এবং ৩–৫ বছর পর স্থায়ী বসবাসের সুযোগও রয়েছে।
২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসার আবেদন ৭৬ শতাংশ বেড়ে ৩,৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে দক্ষ কর্মী ভিসার খরচ ও শর্ত কঠোর হওয়ায় ওই ভিসার আবেদন কমেছে।
ইউনিভার্সিটিজ ইউকে ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক জেমি অ্যারোস্মিথ বলেন, মার্কিন বিজ্ঞানীদের টানতে সরকার ইতিমধ্যেই ৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের গ্লোবাল ট্যালেন্ট ফান্ড চালু করেছে। তবে গবেষকদের অভিবাসন খরচ কমানো জরুরি। “আমাদের তহবিল, স্বায়ত্তশাসন এবং সহজ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে, যাতে বিশ্বসেরা প্রতিভারা যুক্তরাজ্যকে বেছে নেন।”
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au