ব্যক্তিগত মোবাইল হটস্পট এক বা দুই দিনের জন্য উপযোগী হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৬ সেপ্টেম্বর- আধুনিক জীবনের মূল চালিকাশক্তি এখন ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ। শিক্ষা, অফিস, চিকিৎসা, বিনোদন—সবকিছুই এই দুটির ওপর নির্ভরশীল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যান্ত্রিক ত্রুটি, সাইবার হামলা কিংবা জাতীয় সংকটের কারণে দীর্ঘমেয়াদি ইন্টারনেট বা বিদ্যুৎ বিভ্রাট অস্বাভাবিক নয়। বিদ্যুৎ ছাড়া ইন্টারনেটও ব্যবহার করা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ বা ইন্টারনেট বিভ্রাট সাধারণত হয়—
প্রাকৃতিক দুর্যোগ (ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, বজ্রপাত)।গ্রিড বিপর্যয় বা জাতীয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যান্ত্রিক ত্রুটি।সাবমেরিন ক্যাবল বা মোবাইল টাওয়ার নষ্ট হওয়া,সাইবার হামলা বা আন্তর্জাতিক কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বা ইন্টারনেট না থাকলে নিচের প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে—
ব্যক্তিগত মোবাইল হটস্পট এক বা দুই দিনের জন্য সহায়ক হতে পারে। তবে বড় আকারের বিভ্রাটে মোবাইল টাওয়ারও সমস্যায় পড়তে পারে। তাই অনেক প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক বা অন্যান্য স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা গ্রহণের দিকে ঝুঁকছে।
হটস্পটের মাধ্যমে মোবাইল ফোনকে ওয়াই-ফাই রাউটারের মতো ব্যবহার করা যায়। এতে ল্যাপটপ বা ট্যাবলেট ইন্টারনেটে যুক্ত থাকতে পারে।
জরুরি ডকুমেন্ট, ম্যানুয়াল বা শিক্ষামূলক কনটেন্ট অফলাইনে সংরক্ষণ করুন। এতে ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও প্রয়োজনীয় কাজ করা সম্ভব হবে।
যদি মোবাইল ফোনও বন্ধ হয়ে যায়, তথ্য পাওয়ার একমাত্র উপায় হতে পারে রেডিও। তাই হ্যান্ডহেল্ড রেডিও ব্যবহার করা জরুরি।
যোগাযোগ ও তথ্যরক্ষা জন্য নিন—
- পাওয়ার ব্যাংক – মোবাইল ফোন বা হটস্পট চার্জ রাখতে কার্যকর।
- পোর্টেবল পাওয়ার স্টেশন – ছোট ডিভাইস চালু রাখতে সহায়ক।
- জেনারেটর – বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে; কার্বন মনোঅক্সাইড বিষক্রিয়া হতে পারে।
- টর্চলাইট – রাতের জন্য জরুরি।
- ব্যাটারিচালিত রেডিও – নেট না থাকলেও খবর রাখার মাধ্যম।
দূরে থেকে কাজ করলে ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে কোন কাজগুলো অফলাইনে করা যাবে তা তালিকা করুন। ইন্টারনেট আসার পর দ্রুত আপলোডের প্রস্তুতি নিন। ক্লায়েন্টদের আপনার অবস্থান ও পরিস্থিতি জানিয়ে দিন।
শিক্ষার্থীদের বই, নোটস ইত্যাদি ছাপানো ফরম্যাটে প্রস্তুত রাখুন।
ইলেকট্রনিক পেমেন্ট বন্ধ থাকলে নগদ অর্থই ভরসা। এছাড়া আইডি কার্ড, ব্যাংক তথ্য, স্বাস্থ্যবিমার কপি প্রিন্ট করে রাখা জরুরি।