মেলবোর্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর- মিয়ানমার ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে অস্ত্র বাণিজ্য রোধে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এ পদক্ষেপের আওতায় দুই দেশের পাঁচ কর্মকর্তা ও একটি প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, মিয়ানমারের কিছু কর্মকর্তা উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র আমদানি করছেন। একই সঙ্গে তারা উত্তর কোরিয়ার সহযোগিতায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পরিচালনা করছেন।
সন্ত্রাসবাদ ও আর্থিক গোয়েন্দা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জন কে হার্লি বলেন,“উত্তর কোরিয়ার অবৈধ অস্ত্র কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য সরাসরি হুমকি। তাই এই নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর যুক্তরাষ্ট্র।”
যাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা
- মিয়ানমারের রয়্যাল শিউন লেই কোম্পানি লিমিটেড
- পরিচালক অউং কো কো উ
- শীর্ষ কর্মকর্তা কিয়াও থু মিয়ো মিন্ত
- প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিন মিয়ো অউং
- উত্তর কোরিয়ার কোমিডের উপপরিচালক কিম ইয়ং জু
- কর্মকর্তা ন্যাম চোল উং
বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কোমিড (কোরিয়া মাইনিং ডেভেলপমেন্ট ট্রেডিং করপোরেশন) মিয়ানমারের সামরিক সরকারের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে আসছে।
২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে মিয়ানমারের জনগণ ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তবে জান্তা সরকার নির্বিচারে বিমান ও কামান হামলা চালাচ্ছে। স্কুল, হাসপাতাল ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলায় বহু বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
রয়্যাল শিউন লেই কোম্পানি ২০২২ সালে কোমিডের সঙ্গে প্রথম অস্ত্র চুক্তি করে। ২০২৩ সালে কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা কিয়াও থু মিয়ো মিন্ত ও সিইও টিন মিয়ো অউং চীন সফরে গিয়ে কোমিড প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে বোমা ও আকাশ পর্যবেক্ষণ যন্ত্র কেনার ব্যাপারেও আলোচনা হয়।
মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এ পদক্ষেপের ফলে—
মিয়ানমারের অস্ত্র কেনা ব্যাহত হবে।উত্তর কোরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তহবিল প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নিষেধাজ্ঞা মিয়ানমার জান্তার ওপর আরও আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করবে এবং উত্তর কোরিয়ার গোপন অস্ত্র বাণিজ্যকেও কঠিন করে তুলবে।