মেলবোর্ন, ২৮ সেপ্টেম্বর- নেপালে কে পি শর্মা অলির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে জেন–জি প্রজন্মের তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া গণ–আন্দোলনের নেতা সুদান গুরুং ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। জনগণের সরকার গঠনের জন্য ‘শেষ পর্যন্ত লড়াই’ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
স্টার্ট হেয়ারের সান্ড্রা গাথম্যানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গুরুং বলেন, প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে ‘পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন’ নামে নতুন সংগঠন গড়ে সমর্থকদের সংগঠিত করছেন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘যদি তাঁরা (রাজনীতিকরা) রাজনীতি চান, তবে তা–ই পাবেন। আমরা নির্বাচনে লড়ব, কারণ আমরা আর পিছু হটব না।’
৩৬ বছর বয়সী গুরুং নেপালের তরুণ প্রজন্মের গণ–আন্দোলনের অন্যতম মুখ। সরকারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বার্তা বিনিময়ের প্ল্যাটফর্মগুলো (ফেসবুক, এক্স, ইউটিউব ইত্যাদি) বন্ধের সিদ্ধান্তের পর তরুণেরা রাজপথে নামেন। এই বিক্ষোভ দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় সহিংসতা ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ আন্দোলনে রূপ নেয়। এতে বহু তরুণ নিহত ও হাজারো মানুষ আহত হন।
গুরুং বলেন, নেপাল পরিচালনায় তাঁরা প্রস্তুত। স্বেচ্ছাসেবকেরা আইন ও যোগাযোগ কমিটি গঠন করছে এবং ডিসকর্ড ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে দেশজুড়ে নীতিগত দাবি সংগ্রহ করছে। তাঁদের লক্ষ্য, ‘নেপালের প্রতিটি মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা যায়’ তা নিশ্চিত করা।
তিনি জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নয়, বরং দলবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। একক প্রার্থী হিসেবে নয়, সমষ্টিগত শক্তি নিয়ে এগোলে তরুণদের ক্ষমতা কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
গুরুংয়ের দলের পরিকল্পনায় দুর্নীতিবিরোধী এজেন্ডার পাশাপাশি নেপালের পর্যটন খাত চাঙা করা এবং বাইরের হস্তক্ষেপ ছাড়াই ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করাও রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের তাদের সম্মান করতে হবে, তাদেরও আমাদের সম্মান করতে হবে।’
গুরুং চান, মার্চের নির্বাচনে পুরোনো রাজনৈতিক নেতারা যেন অংশ নিতে না পারেন। এ জন্য বিক্ষোভকারীদের হত্যা ও দুর্নীতির দ্রুত তদন্ত করতে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কারকির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
নিজে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা প্রসঙ্গে গুরুং বলেন, ‘আমি এখনই বলব না যে আমি সঠিক ব্যক্তি। কিন্তু জনগণ যদি আমাকে বেছে নেয়, আমি অবশ্যই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।’
তাঁকে চুপ করানোর চেষ্টা করা হয়েছে উল্লেখ করে গুরুং বলেন, ‘আমি ভয় পাই না। শুধু আমাকে হত্যা করে কিছু হবে না। আমাকে আমার দেশকে বাঁচাতে হবে। কারণ এখনই সময়, নইলে আর কখনো নয়।’
সুত্রঃ আল–জাজিরা