মেলবোর্ন, ২৯ সেপ্টেম্বর- চীনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে সাবেক বিচারমন্ত্রী ফু ঝেংহুয়াকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় চাংচুন শহরের মধ্যবর্তী জনগণ আদালত রায় ঘোষণা করে। তবে সাজাটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে না; দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ফু ঝেংহুয়া দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ ঘুষ নিয়েছেন। এর বিনিময়ে তিনি পদোন্নতি, ব্যবসায়িক সুবিধা এবং মামলা নিষ্পত্তিতে প্রভাব খাটিয়েছেন।
চীনের আইনে, স্থগিত মৃত্যুদণ্ড মানে হলো সাজা ঘোষণার পর দুই বছর অভিযুক্ত ব্যক্তি ভালো আচরণ করলে সাজাটি সাধারণত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হয়। তবে যদি ওই সময়ের মধ্যে কোনো অপরাধে জড়িত হন, তবে সরাসরি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
৬৯ বছর বয়সী ফু ঝেংহুয়া চীনের একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি একসময় দেশটির নিরাপত্তা ও বিচার মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। বিখ্যাত “বো ঝিলাই” এবং “ঝৌ ইয়ংকাং” দুর্নীতি তদন্তে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। এমনকি দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে তাঁর কঠোর অবস্থানের জন্য একসময় প্রশংসিত হয়েছিলেন।
কিন্তু পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০১২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশজুড়ে “টাইগার অ্যান্ড ফ্লাই” (বাঘ ও মাছি) নামে পরিচিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করেন। এতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের উচ্চপদস্থ নেতা থেকে শুরু করে স্থানীয় কর্মকর্তারাও ধরা পড়েছেন।
ফু ঝেংহুয়া সেই অভিযানের অন্যতম বড় শিকার।
বিশ্লেষকদের মতে, ফু ঝেংহুয়ার সাজা চীনের উচ্চপর্যায়ে একটি কড়া বার্তা দিচ্ছে—দুর্নীতির দায়ে কেউই রেহাই পাবেন না, যত উচ্চপদস্থই হোন না কেন।
তবে আন্তর্জাতিক মহল বলছে, দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের আড়ালে রাজনৈতিক শুদ্ধি অভিযানও চালানো হচ্ছে। শি জিনপিংয়ের ভিন্নমতাবলম্বী ও সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের অনেককেই এই অভিযানের মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ফু ঝেংহুয়ার পাশাপাশি চীনের আরও কয়েকজন সাবেক উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তাকেও একই মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে কারও যাবজ্জীবন, কারও আবার দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড হয়েছে।
ফু ঝেংহুয়ার বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডাদেশ শুধু তাঁর পতনের প্রতীক নয়, বরং চীনের শাসনব্যবস্থায় দুর্নীতি দমনের নামে চলমান রাজনৈতিক খেলারও প্রতিফলন।
সুত্রঃ রয়টার্স