ফিচারটি ব্যক্তিগত সহকারীর মতো কাজ করবে। ছবি: জেডনেট
মেলবোর্ন, ২৯ সেপ্টেম্বর- প্রযুক্তি ডেস্ক: ব্যবহারকারীর আগ্রহ ও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিদিন সকালে ব্যক্তিগত তথ্য সরবরাহ করবে চ্যাটজিপিটির নতুন ফিচার ‘পালস’। বহুল আলোচিত এই ফিচারটি চালু করেছে ওপেনএআই, তবে আপাতত এটি কেবল প্রো সাবস্ক্রাইবারদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান ‘পালস’কে এখন পর্যন্ত তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ফিচার বলে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন—
“আজ আমরা চালু করছি আমার প্রিয় চ্যাটজিপিটি ফিচার—পালস। এটি প্রাথমিকভাবে প্রো গ্রাহকদের জন্য চালু করা হয়েছে।”
পালস রাতে ব্যবহারকারীর আগ্রহ, সাম্প্রতিক চ্যাট, সংযুক্ত অ্যাপ এবং ব্যক্তিগত কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করে। এরপর সকালে এটি তথ্য কার্ড আকারে একগুচ্ছ আপডেট সরবরাহ করে। প্রতিটি কার্ডে ব্যবহারকারীর জীবনধারা ও আগ্রহের সঙ্গে সম্পর্কিত টিপস, পরামর্শ বা তথ্য থাকবে।
উদাহরণস্বরূপ—
- আপনি যদি একদিন চ্যাটে বলেন, “আমি কক্সবাজার যেতে চাই”, তবে পালস পরবর্তীতে ভ্রমণ পরিকল্পনা, হোটেল বা পরিবহন সম্পর্কিত তথ্য সাজেস্ট করতে পারে।
- আবার কেউ যদি লেখেন, “আমার শিশুর বয়স ছয় মাস, বিকাশ সম্পর্কে জানতে চাই”, তবে পরের দিন সকালে পালস শিশু বিকাশ সম্পর্কিত পরামর্শ বা চিকিৎসক–প্রস্তাবিত নির্দেশনা দিতে পারে।
এভাবে ফিচারটি ব্যক্তিগত সহকারীর মতো কাজ করবে, ব্যবহারকারীর আগ্রহ ধরে রাখবে এবং প্রতিদিন সেই অনুযায়ী আপডেট দেবে।
পালসে শুধু আপডেট নয়, রয়েছে কিছু অতিরিক্ত সুবিধাও—
- কিউরেট বাটন: ব্যবহারকারীরা নিজেদের আগ্রহ অনুযায়ী পালস সাজিয়ে নিতে পারবেন।
- অপ্রয়োজনীয় সাজেশন বাদ দেওয়া: কোনো সাজেশন প্রাসঙ্গিক না হলে সহজেই মুছে ফেলা যাবে।
- জিমেইল ও গুগল ক্যালেন্ডার সংযোগ: পালস ব্যবহারকারীর ক্যালেন্ডারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মিটিং অ্যাজেন্ডা তৈরি বা ভ্রমণের পরিকল্পনা সাজেস্ট করতে পারবে।
- দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পূরণে সহায়তা: যেমন ফিটনেস প্ল্যান, শিক্ষার রোডম্যাপ, বা কর্মক্ষেত্রের কোনো প্রকল্পের ফলো-আপ।
- নিরাপত্তা যাচাই: প্রতিটি আপডেট একটি নিরাপত্তা চেকের মধ্য দিয়ে যায়। যদিও ওপেনএআই জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় কখনো কখনো সাজেশনে প্রাসঙ্গিকতার ঘাটতি থাকতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট এখন শুধু কথোপকথনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পালস প্রমাণ করছে, ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন জীবনধারা ও আগ্রহের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত হয়ে কাজ করাই এআই–এর পরবর্তী ধাপ। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি মূলত এআইকে ডিজিটাল পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্টে রূপান্তর করার কৌশল।
ওপেনএআই জানিয়েছে, পালস বর্তমানে কেবল প্রো গ্রাহকদের জন্য চালু হলেও ধীরে ধীরে এটি বৃহত্তর ব্যবহারকারী গোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী ভবিষ্যতে আরও নতুন ফিচার যুক্ত হবে।
প্রযুক্তি দুনিয়ায় পালসকে অনেকেই এক ধরনের “গুড মর্নিং ব্রিফিং অ্যাসিস্ট্যান্ট” হিসেবে দেখছেন—যা শুধু তথ্য দেয় না, বরং প্রতিদিনের জীবনের গতিপথকে আরও কার্যকর ও সংগঠিত করে তোলে।
সূত্র: দ্য ভার্জ