ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উপকণ্ঠে শনিবার রাতে রাশিয়ার হামলায় বিধ্বস্ত একটি আবাসিক ভবন। ছবি: এএফপি
মেলবোর্ন, ২৯ সেপ্টেম্বর- ইউক্রেনজুড়ে ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রাজধানী কিয়েভকে প্রধান লক্ষ্য বানিয়ে শনিবার রাতভর এ হামলা চলে। ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে মোট ৫৯৫টি ড্রোন ও ৪৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এর মধ্যে ৫৬৮টি ড্রোন ও ৪৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা সম্ভব হলেও অন্তত চারজন নিহত ও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন।
হামলা ১২ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হয়। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, আক্রমণের মূল কেন্দ্র ছিল কিয়েভ। হামলার সময় প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড নিজেদের দক্ষিণাঞ্চলের দুটি শহরের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় এবং আকাশে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দে শহর কেঁপে ওঠে, আকাশে রুশ ড্রোন দেখা যায় এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাল্টা হামলায় আকাশ আলোকিত হয়ে ওঠে। রবিবার সকালেও বেশ কিছু ভবন থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।
রাশিয়া এই হামলার কথা স্বীকার করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করেই এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বেসামরিক এলাকায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মস্কো। বাস্তবে এখন পর্যন্ত হাজারো বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং বহু আবাসিক এলাকা ধ্বংস হয়েছে।
এই ব্যাপক হামলার পর জেলেনস্কি বলেন, সীমিত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এখন তীব্র চাপে রয়েছে। তিনি জানান, ইসরায়েল থেকে আনা একটি অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে এবং আগামী শরতে আরও দুটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইউক্রেন এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক মিত্রদের কাছে আরও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছে।
টেলিগ্রামে দেওয়া বার্তায় জেলেনস্কি পশ্চিমা দেশগুলোকে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের আয়ের ওপর কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “এই আয়ই রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রকে চালিয়ে রাখছে। এখনই যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, জি-৭ ও জি-১০ দেশগুলোর কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।”
ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়ার এ হামলা গত কয়েক মাসের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ বলে মনে করা হচ্ছে।
সুত্রঃ রয়টার্স