কাড়াকাড়ি করে প্রশাসনে লোক নিয়োগ করিয়েছে বিএনপি-জামায়াত: তথ্য উপদেষ্টা (সূত্র: প্রথম আলো)
মেলবোর্ন, ২৯ সেপ্টেম্বর- আজ প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণ পড়তে গিয়ে আমার চোখ আটকালো তথ্য উপদেষ্টার দেয়া গতকালের বক্তব্যে। “কাড়াকাড়ি করে প্রশাসনে লোক নিয়োগ করিয়েছে বিএনপি-জামায়াত” শিরোনামে প্রথম আলোর খবরটা মনযোগ দিয়ে পড়লাম। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘গণমাধ্যমের স্ব-নিয়ন্ত্রণ ও অভিযোগ ব্যবস্থাপনা: রাজনৈতিক ও নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক সংলাপে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম আবারও তাঁর স্ববিরোধী ও আত্মস্বীকৃত ব্যর্থতার রাজনীতি উপস্থাপন করলেন।
বক্তব্যে তিনি স্বীকার করেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর বিএনপি ও জামায়াত প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে কাড়াকাড়ি করে লোক নিয়োগ দিয়েছে। একই সময়ে তিনি দাবি করেছেন, তারা নাকি সংস্কারের জন্য সরকারকে সময় দিতে চেয়েছিল। নিয়োগ সম্পন্ন হবার পরপরই তারা অসহযোগ আন্দোলনে নেমেছে। এই বক্তব্যই প্রমাণ করে, অন্তর্বর্তী সরকারের তথাকথিত সংস্কার প্রক্রিয়া আসলে ছিল এক প্রহসন, যার আড়ালে রাষ্ট্রযন্ত্র দখলের নগ্ন চেষ্টা চলেছে।
মাহফুজ আলম আরও বলেন, বাংলাদেশে সবাই নাকি গোষ্ঠীস্বার্থে কাজ করে, জাতীয় স্বার্থ কেউ দেখে না। কিন্তু প্রশ্ন হলো জাতীয় স্বার্থের সংজ্ঞা কি? কে নির্ধারণ করবে? আমার মতে জাতীয় স্বার্থ মানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা। তবে কেন সেই স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে জামায়াতের মতো মৌলবাদী শক্তিকে প্রশাসনে প্রবেশাধিকার দেওয়া হলো?
তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্য আসলে এই সরকারের অসহায়ত্ব নয়, বরং তাদের অপরাধেরই স্বীকারোক্তি। তিনি অভিযোগ করেছেন, সামরিক–বেসামরিক আমলাতন্ত্র, মিডিয়া, সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর মধ্যে স্বার্থসংশ্লিষ্ট সহযোগিতা অটুট রয়েছে। গণমাধ্যমকে তিনি দোষারোপ করলেও স্পষ্ট যে অন্তর্বর্তী সরকারই গণমাধ্যমকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে, ভয় দেখিয়েছে, আর একাংশকে কিনে নিয়েছে।
নিজের বক্তব্যে মাহফুজ আলম বারবার ব্যর্থতা স্বীকার করেছেন, অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন, আবার কখনও সেনা-আমলা-মিডিয়াকে দায়ী করেছেন। অথচ সত্য হলো—জুলাই অভ্যুত্থানের অবৈধ জন্ম থেকেই এই সরকারের পতনের বীজ বপন করা ছিল। গণতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধতা ছাড়া কোনো সরকার দীর্ঘস্থায়ী হয় না। আজ স্পষ্ট যে, তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বক্তব্য তাদের ষড়যন্ত্রের নীলনকশাই প্রকাশ। অন্তর্বর্তী সরকার এখন যে অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে, সেটি তাদেরই ব্যর্থ নেতৃত্ব, দোদুল্যমান নীতি এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে প্রশ্রয় দেওয়ার পরিণাম। বাংলাদেশের মানুষ জানে যে সরকার জাতীয় স্বার্থকে উপেক্ষা করে মৌলবাদী স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছে এবং দিচ্ছে। সাংবাদিক নির্যাতন, ভুয়া স্বাধীনতার বুলি এবং জামায়াত-শিবিরের সাথে অঘোষিত সমঝোতার কথাও তার বক্তব্যে উঠে এসেছে। জুলাই ষড়যন্ত্র কেবল রাজনৈতিক অস্থিরতা নয়, এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে পুনর্বাসনের এক দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা।
প্রদীপ রায়, সম্পাদক, ওটিএন বাংলা