মেলবোর্ন, ৩০ সেপ্টেম্বর- ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর দমন অভিযান চালিয়ে লাখ লাখ মানুষকে বিতাড়িত করার পর মিয়ানমার সেনাবাহিনী পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের গ্রাম ও ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস করে সেখানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে। জাতিসংঘের সমর্থনে পরিচালিত একটি নতুন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের উদ্যোগে ২০১৮ সালে গঠিত ইনডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার (আইআইএমএম) আজ সোমবার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, স্যাটেলাইট ছবি, ভিডিও ফুটেজ ও সরকারি নথি ব্যবহার করা হয়েছে।
২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে পুলিশ চৌকিতে সশস্ত্র হামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১২ জন সদস্য নিহত হওয়ার পর সেনাবাহিনী ব্যাপক দমন অভিযান শুরু করে। এতে কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গা ঘরবাড়ি ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। জাতিসংঘ এই অভিযানে সংঘটিত সহিংসতাকে ‘জাতিগত নিধনের আদর্শ উদাহরণ’ বলে অভিহিত করে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী জানত রোহিঙ্গাদের জমির মালিকানা ও অধিকার আছে। তবুও সরকারি চুক্তির আওতায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিকদের দিয়ে রোহিঙ্গা বসতি, মসজিদ, কবরস্থান ও কৃষিজমি ধ্বংস করা হয়। এরপর সেসব স্থানে নতুন সড়ক, স্থায়ী ভবন, নিরাপত্তা কম্পাউন্ড ও এমনকি হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে ইন দিন গ্রামকে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে রোহিঙ্গা বসতি ধ্বংস করে সামরিক স্থাপনা তৈরি করা হয়। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে রয়টার্স জানিয়েছিল যে ইন দিন গ্রামে ১০ জন রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছিল।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের কাছে প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি সাড়া দেননি। তবে মিয়ানমার সেনারা আগেও দাবি করেছে, তারা গণহত্যা চালায়নি, কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়ে অপরাধ হয়ে থাকতে পারে।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর মিয়ানমার জুড়ে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। বর্তমানে রাখাইন রাজ্যে সংঘাত আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে। এতে রোহিঙ্গারা ফের সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকির মুখে পড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিপীড়নের শিকার হয়ে সংখ্যালঘু এই জনগোষ্ঠীর কিছু অংশ এখন অস্ত্র হাতে তুলে নিচ্ছে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আগের দিন। বৈঠকে বাংলাদেশের শরণার্থীশিবিরে ক্রমবর্ধমান চাপ ও রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অচলাবস্থা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে
সুত্রঃ রয়টার্স