এই বিপ্লবী প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা হয়েছে সিজিয়াম পরমাণু। ছবি: ক্যালটেক
মেলবোর্ন, ৩০ সেপ্টেম্বর- কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে বৈপ্লবিক অগ্রগতি অর্জন করেছেন ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (ক্যালটেক) একদল পদার্থবিদ। তাঁরা তৈরি করেছেন ৬ হাজার ১০০ কিউবিটের বিশাল অ্যারে, যা এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোয়ান্টাম সিস্টেম। এর আগে সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল মাত্র এক হাজার কিউবিট।
এই সাফল্যে কিউবিট হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে সিজিয়াম পরমাণু। অত্যন্ত সূক্ষ্ম আলোকরশ্মি বা ‘অপটিক্যাল টুইজার’ দিয়ে এসব পরমাণুকে স্থির রাখা হয়েছে। গবেষকদের মতে, স্থিতিশীল পরমাণু কিউবিট কার্যকারিতা ও নির্ভুলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রচলিত কম্পিউটারের বিট কেবল এক বা শূন্যে সীমাবদ্ধ হলেও কিউবিট পারমাণবিক কণার সুপারপজিশন অবস্থায় থেকে অসংখ্য সম্ভাবনা হিসাব করতে সক্ষম। এর ফলে এমন জটিল সমস্যার সমাধান সম্ভব, যা প্রচলিত কম্পিউটারে কল্পনাও করা যায় না।
এই গবেষণায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির একটি হলো—কিউবিটগুলোকে প্রায় ১৩ সেকেন্ড পর্যন্ত সুপারপজিশনে রাখা, যা আগের রেকর্ডের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি। পাশাপাশি প্রতিটি কিউবিট ৯৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ নির্ভুলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। গবেষকদের ভাষায়, এটি কোয়ান্টাম প্রযুক্তির ব্যবহারযোগ্যতার পথে এক বিশাল মাইলফলক।
ক্যালটেকের পদার্থবিদ মানুয়েল আন্দ্রেস বলেন,“এটি নিউট্রাল-অ্যাটম কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এখন বড় আকারের, ত্রুটিমুক্ত কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির পথ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।”
গবেষক গিওহেই নোমুরা জানান, কেবল কিউবিটের সংখ্যা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, মান নিশ্চিত করাও জরুরি। নতুন এই গবেষণায় সংখ্যা ও মান—দুটো ক্ষেত্রেই যুগান্তকারী উন্নতি ঘটেছে।
গবেষকেরা বলছেন, এখন তাঁদের লক্ষ্য কিউবিটগুলোর মধ্যে ‘এনট্যাঙ্গলমেন্ট’ বা বিজড়ন অবস্থা কাজে লাগানো। এতে কোয়ান্টাম কম্পিউটার শুধু তথ্য সংরক্ষণ নয়, বাস্তবে প্রসেসিংয়ের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে।
কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের এই অগ্রগতিকে বিজ্ঞানীরা এমন এক ধাপ হিসেবে দেখছেন, যা নতুন বস্তু, পদার্থ ও এমনকি পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্র আবিষ্কারেও ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষক হান্না মানেটসচ বলেন,“আমরা এমন এক যন্ত্র তৈরি করছি, যা আমাদের মহাবিশ্ব সম্পর্কে একেবারেই নতুন জ্ঞান দিতে পারবে। আর এটি সম্ভব হচ্ছে কোয়ান্টাম মেকানিক্স দিয়েই।”
অভূতপূর্ব এই সাফল্যের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম খ্যাতনামা বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার–এ।