ফিলিপাইনে ভূমিকম্পের পর চলছে উদ্ধারকাজ।ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ১ অক্টোবর- ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬.৯। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটে সেবু দ্বীপের উত্তর প্রান্তে বোগো শহরের কাছে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। ধসে পড়া বহু ভবনের নিচে এখনো মানুষ আটকা থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রায় ৯০ হাজার মানুষের শহর বোগোতে চার শিশুসহ নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, নিহতদের মধ্যে তিনজন ভূমিধসে চাপা পড়েছিলেন। বোগোর পাশের সান রেমিগিও এলাকায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে একটি খেলাধুলার স্থান থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে তিনজন ফিলিপাইন কোস্টগার্ডের সদস্য। একই এলাকায় ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাবুয়েলানে এলাকায়ও একজন মারা গেছেন।
উদ্ধার দলের কর্মকর্তা উইলসন রামোস জানান, ধসে পড়া ভবনের নিচে আরও মানুষ চাপা পড়ে থাকতে পারে। তবে ঠিক কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। রাতের আঁধার এবং ভূমিকম্প-পরবর্তী পরাঘাতের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
ভূমিকম্পে সড়ক ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে সেবু শহরসহ আশপাশের এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। তবে মধ্যরাতের পর ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করে বলে জানিয়েছে ফিলিপাইনের ন্যাশনাল গ্রিড করপোরেশন।
বানতাইয়ান শহরের বাসিন্দা মারথাম প্যাসিলান ভূমিকম্পের সময় ক্ষতিগ্রস্ত একটি গির্জার কাছে ছিলেন। তিনি জানান, হঠাৎ গির্জা থেকে বিকট শব্দে পাথর ভেঙে পড়তে দেখেন। তিনি বলেন, “আমি একই সঙ্গে হতবাক ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। শরীর নাড়াতে পারছিলাম না, কেবল কম্পন থামার অপেক্ষায় ছিলাম।”
কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মৃতদেহ পাওয়া যেতে পারে। উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।
সুত্রঃ এএফপি