গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র প্রায় সব নৌযান আটক করেছে ইসরায়েল। ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ১ অক্টোবর- ইসরায়েলি অবরোধ ভেঙে গাজার মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে যাত্রা করা “সুমুদ ফ্লোটিলা” এখন পৌঁছেছে ভূমধ্যসাগরের “চরম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়”। গাজা উপকূল থেকে প্রায় ১২০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছে এই ছোট ছোট ত্রাণবাহী নৌযানগুলো। আল–জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এর আগে যতবার এই এলাকায় ফ্লোটিলা পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে, প্রতিবারই ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার মুখে পড়েছে তারা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানবাধিকারকর্মীরা এসব নৌকায় আছেন। তারা খাবার, ওষুধ, কাপড়সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী নিয়ে সাগরপথে গাজার দিকে এগোচ্ছেন। উদ্দেশ্য—ইসরায়েলের অবরোধ উপেক্ষা করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের হাতে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।
জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সিসকা আলবানিজ, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো, অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ম্যাট থিসলথওয়াইট, তুরস্কের তরুণ আইনপ্রণেতা জেহরানুর আয়দেমিরসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ও মানবাধিকার নেতারা ফ্লোটিলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ত্রাণবাহী এই অভিযানে হামলা চালানো মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হবে।
স্পেন ও ইতালি থেকে আসা মানবাধিকারকর্মীরা ফ্লোটিলার নেতৃত্বে রয়েছেন। ইতোমধ্যে তারা আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রবেশ করেছেন। ফ্লোটিলার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে তুরস্কের ড্রোন, এবং নিরাপত্তার জন্য কয়েকটি নৌকা থেকে সরাসরি সম্প্রচারও করা হচ্ছে।
ইসরায়েল অবশ্য এই ফ্লোটিলা থামানোর ঘোষণা দিয়েছে। তাদের দাবি, গাজার ওপর অবরোধ “আইনসিদ্ধ” এবং ফ্লোটিলার স্বেচ্ছাসেবীরা সেই অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধ বা অবরোধ পরিস্থিতিতেও মানবিক ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার অধিকার স্পষ্টভাবে স্বীকৃত।
বাংলাদেশ সময় দুপুর পৌনে দুইটার দিকে ফ্লোটিলা অভিযানের আয়োজক ডেভিড অ্যাডলার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, “আশঙ্কা করছি, এটি হয়তো আমার শেষ বার্তা। আমরা এখন গাজার উপকূল থেকে প্রায় ১২০ নটিক্যাল মাইল দূরে। গত রাতে ইসরায়েলি নৌবাহিনীর কয়েকটি জাহাজ আমাদের হুমকি দিয়েছে, আমাদের জাহাজে আক্রমণ করেছে এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে।”
ডেভিডের আশঙ্কা, ইসরায়েলি বাহিনী তাদের আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকেই অপহরণ করতে পারে। তাই অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের মোবাইল ফোন ও সিসিটিভির মাধ্যমে ভিডিও ধারণ করে তা বিশ্বব্যাপী প্রচার করছেন, যাতে সম্ভাব্য আক্রমণের প্রমাণ প্রকাশ্যে থাকে।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ম্যাট থিসলথওয়াইট বলেছেন, ফ্লোটিলার ওপর ড্রোন হামলার খবর উদ্বেগজনক। ছয়জন অস্ট্রেলীয় নাগরিক এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন। তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, “সব পক্ষই যেন আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার নীতিমালা মেনে চলে এবং সংঘাত থেকে বিরত থাকে।”
ফ্লোটিলার অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ দিয়ে তুরস্কের আইনপ্রণেতা জেহরানুর আয়দেমি এক্সে লিখেছেন, “আমাদের চোখ, কান ও হৃদয় সুমুদ ফ্লোটিলার সঙ্গে আছে।”
ফ্লোটিলা যত গাজার দিকে অগ্রসর হচ্ছে, পরিস্থিতি ততই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন গভীর উদ্বেগের সঙ্গে অপেক্ষা করছে—ইসরায়েল এবারও কি মানবিক সহায়তার পথে অস্ত্র তুলবে?
সূত্র: আল–জাজিরা