যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (হোয়াইট হাউসের স্টেট ডাইনিং রুমে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করার সময় প্রশ্ন করার জন্য হাত তুলছেন সংবাদকর্মীরা।ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ২ অক্টোবর- গাজায় যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। তিনি একে অভিহিত করেছেন “মানবসভ্যতার ইতিহাসের অন্যতম মহান দিন” হিসেবে। গত সোমবার হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এ পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।
ইসরায়েল যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ২৫০ ফিলিস্তিনি এবং যুদ্ধ শুরুর পর আটক ১ হাজার ৭০০ বন্দীকে মুক্তি দেবে।এর বিনিময়ে হামাস ৪৮ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্ত করবে, যাদের মধ্যে প্রায় ২০ জন জীবিত আছেন বলে ধারণা।
ইসরায়েল ধীরে ধীরে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে।আরব দেশগুলোর নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ)গাজার নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে।‘পিস বোর্ড’ নামে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার তত্ত্বাবধানে গাজার অস্থায়ী প্রশাসন গঠন হবে।ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ ও স্বনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবে হামাসকে অস্ত্র ত্যাগ ও ভবিষ্যতে গাজার শাসনে অংশগ্রহণ না করার শর্ত দেওয়া হয়েছে। তাদের সব অবকাঠামো ধ্বংস করার প্রস্তাবও পরিকল্পনায় আছে। এটি হামাসের ঘোষিত “রেড লাইন” অতিক্রম করে।
হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ঘাজি হামাদ বলেছেন, “আমরা কখনো আত্মসমর্পণ করব না। হামাসের অস্ত্র বৈধ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবহার হবে।”
নেতানিয়াহু পরিকল্পনাটিকে সমর্থন করেছেন, তবে মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন। তিনি ধারণা করছেন, হামাস পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করবে। এতে ইসরায়েল ট্রাম্পের পূর্ণ সমর্থন নিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে।
যদি হামাস প্রস্তাব গ্রহণ করে, তবে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠবে। জিম্মিদের মুক্তি ও যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে জনসমর্থন থাকলেও তাঁর ডানপন্থী মিত্ররা সরকার ছাড়তে পারে। এতে তাঁর ক্ষমতা টলে যেতে পারে।
আটটি আরব ও মুসলিম দেশ যৌথ বিবৃতিতে পরিকল্পনাটিকে সমর্থন করেছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষও প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। তবে বিশ্ব সম্প্রদায় একই সঙ্গে হামাসকে অস্ত্র ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে।
হামাস না বললে: ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে পারবে, আন্তর্জাতিকভাবে চাপও কমবে।
হামাস হ্যাঁ বললে: যুদ্ধ থামবে, জিম্মিরা ফিরবে, তবে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।
ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা এখনো আলোচনাধীন। কাতার, মিসর ও তুরস্ক হামাসের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করছে। ফলে গাজার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে হামাসের চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়ার ওপর।
সুত্রঃ সিএনএন