এই উৎসব ছিল ধর্মীয় আবহে ও সাংস্কৃতিক বর্ণিলতায় ভরপুর। ছবিঃ সরবরাহকৃত
মেলবোর্ন, ৬ অক্টোবর- অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়া (বিপিএ) আয়োজন করেছে দুই দিনব্যাপী দুর্গোৎসব। ৪ ও ৫ অক্টোবর Croydon Park-এর Korean Society of Sydney Australia কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এই উৎসব ছিল ধর্মীয় আবহে ও সাংস্কৃতিক বর্ণিলতায় ভরপুর।
উৎসবের প্রথম দিন অনুষ্ঠিত হয় সপ্তমী ও অষ্টমী। সকালে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণে দেবী দুর্গার পূজা, চণ্ডীপাঠ ও অন্নভোগে অংশ নেন হাজারো ভক্ত। বিকেলে শিশু-কিশোরদের পরিবেশনায় জমে ওঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সন্ধ্যার সান্ধ্য আরতিতে ঢাক-ঢোল, শঙ্খ-উলুধ্বনি ও ধুনুচি-নাচে মণ্ডপ মুখরিত হয়ে ওঠে।
দ্বিতীয় দিন ছিল মহানবমী ও বিজয়া দশমীর পূজা। সকালে হোম-যজ্ঞের মধ্য দিয়ে পূজা সম্পন্ন হয়। দুপুরে ছিল ‘কমিউনিটি মিলনমেলা’, যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলন ও স্বেচ্ছাসেবক নিবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে আলোচনাসভায় বক্তারা বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বন্ধ ও চিন্ময় প্রভুর মুক্তির দাবি জানান। রাতের বিজয়া আরতিতে ভক্তদের চোখে জল—প্রার্থনায় উচ্চারিত হয় শান্তি, কল্যাণ ও মানবিকতার বার্তা। প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণে দেবী দুর্গার পূজা, চণ্ডীপাঠ ও অন্নভোগে অংশ নেন হাজারো ভক্ত।
এবারের উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিপিএ’র বার্ষিক প্রকাশনা ‘অঞ্জলি’-র উন্মোচন, যা হয় ৩ অক্টোবর। এবারের সংখ্যায় ৩০টি লেখা প্রকাশিত হয়েছে, এর মধ্যে ১২টি নতুন প্রজন্মের তরুণ লেখকদের। তাঁদের উৎসাহ দিতে উপহার দেওয়া হয় গিফট কার্ড। প্রকাশনা সম্পাদক ড. সুভাষ সাহা বলেন, নতুন লেখকদের জন্য পরামর্শ ও মেন্টরশিপ চালু করা হয়েছে, যাতে প্রবাসে বাংলা সাহিত্যচর্চা আরও সমৃদ্ধ হয়।
বিপিএ সভাপতি সুকুমার ভক্ত বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু ধর্মীয় আচার নয়; প্রবাসে ঐক্য ও সংস্কৃতিকে লালন করা। যারা শ্রম ও ভালোবাসা দিয়ে এই আয়োজন সফল করেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।”
শতাধিক স্বেচ্ছাসেবকের নিরলস পরিশ্রমে আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়। মণ্ডপসজ্জা, নিরাপত্তা, খাবার পরিবেশনা ও সাংস্কৃতিক পর্বে ছিল প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ। শিশুদের শিল্পকলা কর্মশালা, ওপেন-মাইক, কবিতা পাঠ, ব্যান্ড সংগীত ও ধুনুচি নৃত্যে উৎসব পায় পূর্ণতা।
‘সবার জন্য উৎসব’—এই মূলমন্ত্রে বিপিএ-র দুর্গোৎসব প্রবাসে বাঙালির মিলনমেলাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। উৎসবে অংশ নেওয়া বিভিন্ন কমিউনিটির প্রতিনিধিরা ধর্মীয় সহাবস্থানের বার্তা তুলে ধরেন। বিজয়ার প্রার্থনায় প্রতিধ্বনিত হয়—অশুভ শক্তির বিনাশ হোক, মানবিকতা ও সহমর্মিতা জয়ী হোক।