স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল মুন্সীগঞ্জে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলছিলেন, ২৪শে এপ্রিলের ছবি
মেলবোর্ন, ২৬ এপ্রিল- টিকা সংকট নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলাকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জে একাধিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছেন সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তার এই পদক্ষেপকে ঘিরে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার ঢাকার কাছের জেলা মুন্সীগঞ্জ সফরে গিয়ে একটি সরকারি হাসপাতালে জলাতঙ্ক টিকার সংকটের বিষয়ে কথা বলায় সংশ্লিষ্ট এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার এবং জেলার সিভিল সার্জনসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন মন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, টিকা সংকটের বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে।

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় থাকা হামসহ অন্যান্য টিকার মজুত কতটা আছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে , ছবি : সংগৃহীত
তবে শনিবার পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রত্যাহার বা বরখাস্তের আদেশ পাননি বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও গণমাধ্যম কোনো প্রতিক্রিয়া পায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে মুন্সীগঞ্জের হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা না থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে কিনে আনতে বাধ্য হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। ওই হাসপাতালে দায়িত্বরত তত্ত্বাবধায়ক ডা. আহাম্মদ কবীর টিকার সংকটের কথা স্বীকার করেছিলেন। এরপরই মন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থান সামনে আসে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৫ সালের শুরু থেকেই দেশে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকার সংকট দেখা দেয়। জাতীয় কর্মসূচির আওতায় আগে বিনামূল্যে দেওয়া হলেও সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ক্ষেত্রেই রোগীদের নিজ খরচে টিকা সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এছাড়া সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু টিকার মজুত নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
যদিও স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, দেশে টিকার কোনো সামগ্রিক সংকট নেই এবং প্রয়োজনীয় মজুত রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বাস্তবে অনেক জেলায় চাহিদা অনুযায়ী টিকা সরবরাহ হচ্ছে না। কিছু ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয়ভাবে বরাদ্দ না থাকায় বিকল্প ব্যবস্থা নিতে বলা হলেও তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন কামরুল জমাদ্দার জানিয়েছেন, জেলায় প্রতি মাসে প্রায় ২৬০০ ভায়েল জলাতঙ্ক টিকার প্রয়োজন হলেও সরবরাহ তার তুলনায় অনেক কম। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি আগেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ মন্ত্রীর ঘোষণাকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন। তাদের মতে, টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ নিশ্চিত করার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় পর্যায়ের, সেখানে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ওপর দায় চাপানো হলে তা পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি জেলার টিকা সংকট নয়, বরং সারাদেশের স্বাস্থ্যখাতে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ের দুর্বলতাকেই সামনে এনে দিয়েছে।
সুত্রঃ বিবিসি