শরীর ম্যাসাজের কথা বলে রুমে ডেকে বলাৎকার, পালিয়ে বেরাচ্ছেন মাদ্রাসা শিক্ষক
রংপুরের কাউনিয়ায় একটি মাদ্রাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের আবাসিক এক শিক্ষার্থীকে শরীর ম্যাসাজ করে দেওয়ার কথা বলে কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক…
মেলবোর্ন,৮ অক্টোবর- নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বড় ধরনের মোড় নিয়েছে ‘জেন-জি আন্দোলন’। এবার পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল (প্রচণ্ড)–এর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মামলা দায়ের করেছে আন্দোলনকারী তরুণদের সংগঠন জেন-জি ইউনিয়ন অব নেপাল (JGUN)।
গত আগস্টে দেশজুড়ে তরুণদের বিক্ষোভের পর ক্ষমতাচ্যুত হন প্রচণ্ড। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, সরকার ব্যাপক দুর্নীতি, বেকারত্ব ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
এরপর থেকেই নেপালের তরুণ প্রজন্ম—যারা নিজেদের ‘জেন-জি আন্দোলন’ বলে পরিচয় দেয়—রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে রাজপথে রয়েছে।
জেন-জি ইউনিয়নের আইনজীবীরা সোমবার নেপালের সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনটি প্রধান অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে—
মামলাকারী সংগঠনের মুখপাত্র রিয়ান শ্রেষ্ঠা বলেন, “আমরা চাই, নেপালের রাজনীতি থেকে দুর্নীতি ও দমননীতি চিরতরে নির্মূল হোক। দেশের তরুণরা আর চুপ করে থাকবে না।”
নেপালের সুপ্রিম কোর্ট অভিযোগগুলো গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি দেবী প্রসাদ শর্মা বলেছেন,“কোনো ব্যক্তিই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। প্রাথমিকভাবে অভিযোগ যথেষ্ট গুরুতর এবং তা বিচারযোগ্য।”
এদিকে, প্রচণ্ডের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তিনি অভিযোগগুলো “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করেছেন এবং আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
নেপালে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন একটি সামাজিক পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। দেশজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়, সামাজিক সংগঠন ও প্রবাসী নেপালি তরুণদের মধ্যে আন্দোলনটি ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলার মধ্য দিয়ে জেন-জিরা কেবল প্রতিবাদের নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রেও প্রভাব বিস্তার করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মণীষা গুরুঙ বলেন, “এটি নেপালের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তরুণরা এখন শুধু স্লোগান নয়, বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমেও জবাবদিহি চাইছে।”
জাতিসংঘের নেপাল মিশন মামলার বিষয়টি “গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ” করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক বিবৃতিতে বলা হয়,
“আইনি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তরুণদের গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ নেপালের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”
নেপালের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, যদি আদালত এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়, তাহলে তা দেশটির রাজনৈতিক সংস্কারে এক নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।
এদিকে, জেন-জিরা ঘোষণা দিয়েছে—“ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”
সূত্র : এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au