৪৪০ সরকারি সেবার মাইগভ বন্ধ, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ
সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় ৪৪০টি সেবা পাওয়া যায় এমন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম মাইগভের ওয়েবসাইট বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। জরুরি নথি সত্যায়ন, জমিসংক্রান্ত সেবা, বিভিন্ন…
গোপালগঞ্জ পৌর পার্কে কনসার্ট আয়োজনের আগে পুলিশের অনুমতি না নেওয়া এবং অনুষ্ঠান চলাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় এফএনএফ কনভেনশন হল অ্যান্ড পার্টি সেন্টারের স্বত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান পিয়ালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে গোপালগঞ্জ সদর থানা-পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আগে করা একটি মামলায় হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলার এজাহার বা নির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত পুলিশ প্রকাশ করেনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার এফএনএফ কনভেনশন হল অ্যান্ড পার্টি সেন্টারের উদ্বোধন উপলক্ষে গোপালগঞ্জ পৌর পার্কে একটি কনসার্টের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেল। সন্ধ্যার দিকে কনসার্ট শুরু হওয়ার পর একপর্যায়ে দর্শকসারি থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দেওয়া শুরু হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আয়োজকদের পক্ষ থেকে স্লোগান বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়। মঞ্চ থেকেও ঘোষণা দিয়ে জানানো হয়, এটি কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়। এরপরও স্লোগান বন্ধ না হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে রাত সোয়া ৯টার দিকে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পুলিশের অভিযোগ, কনসার্ট আয়োজনের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। অনুষ্ঠানস্থলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মী-সমর্থকেরা সেখানে একত্রিত হয়েছিলেন বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হবীবুল্লাহ বলেন, পুলিশের অনুমতি না নিয়ে কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মী-সমর্থকেরা সেখানে একত্র হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে হাফিজুর রহমানকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বাদী ও এজাহার সম্পর্কে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, ‘মামলা তো আমরা বলি না, যেভাবে আমরা চালান দিই, সেভাবেই দিয়েছি।’
গোপালগঞ্জ সদর থানা সূত্রে জানা গেছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আগে করা একটি মামলায় হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ কনসার্টে স্লোগান দেওয়ার ঘটনার পর তাঁকে নতুন করে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, নাকি আগের মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যে বিস্তারিত পরিষ্কার হয়নি।
হাফিজুর রহমানের পারিবারিক পরিচয় নিয়েও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। তাঁর বাবা খালিদ হোসেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এবং বর্নি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বলে জানা গেছে।
কনসার্টে রাজনৈতিক স্লোগানকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠান বন্ধ এবং আয়োজক গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au