বাংলাদেশ

বাংলাদেশে সার নিয়ে আসলে কী চলছে?

  • 4:40 am - September 09, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৬ বার
সার সংকটে বাংলাদেশের কৃষকরা। ছবিঃ আল-জাজিরা

আমন মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষক। কোথাও সার পাওয়া যাচ্ছে না, কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। আবার কোথাও সার পাওয়ার জন্য কৃষকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটছে।

কুড়িগ্রামের মোগলবাসা ইউনিয়নের কৃষক ছবির উদ্দিন বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘কাজকাম বাদ দিয়ে গতকাল সারাদিন সার খুঁজতেছি। টাকা দিয়েও কোথাও পাঁচ কেজি সার পাইনি। এখন আমার অবস্থাটা কী হবে?’

একই পরিস্থিতির কথা জানাচ্ছেন দেশের অন্যান্য এলাকার কৃষকরাও। মাগুরার কৃষক প্রহ্লাদ দাস বলেন, ‘কয়দিন আগে ডিজেল নিয়ে ঝামেলায় পড়ছিলাম, এবার সার নিয়ে পড়ছি। কী যে একটা যন্ত্রণা শুরু হইছে। বেশি টাকা দিয়ে সার কিনলে কি পুষাবে?’

রাজশাহী, নীলফামারী, ঝিনাইদহ, যশোরসহ বিভিন্ন জেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে সার নিয়ে এমন অস্থিরতার চিত্র পাওয়া গেছে।

তবে মাঠের এই চিত্রের সঙ্গে সরকারি হিসাবের বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। সরকারের দাবি, দেশে সারের কোনো সংকট নেই। বরং গত বছরের তুলনায় এবার মজুত ও সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, গত বছর একই সময়ে সরকারি পর্যায়ে সারের মজুত ছিল প্রায় ১২ লাখ মেট্রিক টন। বর্তমানে সেই মজুত ১৩ লাখ মেট্রিক টনের কাছাকাছি।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, চলতি বছর দেশে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও অন্যান্য সারের মোট চাহিদা প্রায় ৫৮ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন। এর বাইরে প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিক টন সার নিরাপত্তা মজুত হিসেবে রাখা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি এবং সরবরাহে সাময়িক ঘাটতি দেখা দিলে এই মজুত ব্যবহারের কথা।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব, মরক্কো, কানাডা ও রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সার আমদানির চুক্তি রয়েছে। পাশাপাশি তিউনিসিয়া, চীন ও মিশরের সঙ্গেও সার আমদানির চুক্তি প্রক্রিয়াধীন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের দাবি, প্রতি মাসের প্রয়োজন অনুযায়ী যে পরিমাণ সার বরাদ্দ দেওয়ার কথা, সেই পরিমাণ সার সরকারের হাতে রয়েছে। এমনকি তিন থেকে চার মাসের আগাম মজুতও রয়েছে।

তাহলে প্রশ্ন উঠছে, সরকারি গুদামে সার থাকার পরও মাঠপর্যায়ে কৃষক কেন সার পাচ্ছেন না?

কেনই বা কোথাও কৃষকদের সড়ক অবরোধ করতে হচ্ছে, কোথাও ডিলারের গুদাম থেকে সার লুটের ঘটনা ঘটছে?

মাঠপর্যায়ে কৃষক, সার ডিলার, জেলা প্রশাসন এবং কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সার নিয়ে চলমান অস্থিরতার পেছনে কয়েকটি কারণের কথা জানা গেছে।

ডিলার নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা

বাংলাদেশে সারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উপকরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে সার উৎপাদন, আমদানি, সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থা সরকারি পর্যায়ে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।

সাধারণত দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে নির্দিষ্ট সংখ্যক মাস্টার ডিলার এবং তাদের অধীনে সাব-ডিলার সার বিতরণের দায়িত্ব পালন করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ ব্যবস্থাপনায় নতুন নীতিমালা করা হয়েছে। এতে ডিলার নিয়োগের যোগ্যতা, দায়িত্ব এবং বিতরণ কাঠামোয় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিভিন্ন অনিয়মে অভিযুক্ত ডিলারদের তালিকা করা হচ্ছে। নীতিমালা ভঙ্গকারী ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সংসদেও অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া কিছু ডিলারের কারসাজির কারণে সার বিতরণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

তবে মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় অনেক এলাকায় এখনো পুরোনো ডিলারদের মাধ্যমেই সার বিতরণ করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পরিবর্তনের সময়টিই এবার সংকটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ সংক্রান্ত নতুন নীতিমালাটি মূলত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বর্তমান সরকার নীতিমালাটিতে বেশ কিছু পরিবর্তন ও সংশোধন আনে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ছিল, সারের চাহিদা কম থাকা সময়ে অর্থাৎ অফ-পিক মৌসুমে নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন করে ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ করা হবে।

কিন্তু নীতিমালায় একাধিকবার পরিবর্তন ও সংশোধনের কারণে নির্ধারিত সময়ে সেই প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হয়নি।

ফলে আমন মৌসুমে সারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পরই নতুন ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন শুরু হয়। একই সময়ে সামনে চলে আসে রবি মৌসুমের বাড়তি চাহিদাও।

বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন, ডিলার নিয়োগের এই দীর্ঘসূত্রতা বর্তমান অস্থিরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

সার বিতরণে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ

সার নিয়ে অস্থিরতার সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতির সম্পর্ক নিয়েও নানা অভিযোগ উঠেছে।

কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি ডিলারের গুদাম থেকে সার লুটের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও সার না পেয়ে কৃষকেরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।

স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর ভাষ্য, এসব ঘটনার পেছনে কৃষকদের প্রকৃত ক্ষোভের পাশাপাশি রাজনৈতিক স্বার্থও কাজ করতে পারে।

তাদের অভিযোগ, একদিকে পুরোনো ডিলারদের নিয়ন্ত্রণ ভাঙার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে নতুন একটি গোষ্ঠী সার বিতরণ ব্যবস্থার ওপর নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুড়িগ্রামের কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী জানান, নতুন করে ডিলার নিয়োগ না হওয়ায় জেলার অনেক এলাকায় এখনো পুরোনো ডিলারদের হাতেই সার বিতরণ ব্যবস্থা রয়েছে।

ফলে তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে স্থানীয়ভাবে নানা ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

একই সঙ্গে পুরোনো কিছু ডিলার বর্তমানে ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে সমঝোতা করে চলছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়া প্রকৃত ডিলারের কাছ থেকে সার সংগ্রহ করে খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করার অভিযোগও রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুড়িগ্রামের একজন সার ডিলার বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘সার গুদামে আসার পর নির্দিষ্ট সংখ্যক বস্তা তাদের দিতে হচ্ছে। তারা নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে। না দিয়ে উপায় নেই। কিন্তু সরকারি হিসেবে অনিয়ম করছি আমি।’

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার জেলায় বেশি সার দেওয়া হয়েছে। তারপরও কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি খুচরা ডিলার, যার লাইসেন্স নেই, টাকা জমা দেয়নি বা এবার হবে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য তাদেরও আমরা একটু একটু করে সার দিচ্ছি। আরও অতিরিক্ত সার আনাচ্ছি। তারপরও এখানে চাহিদা থেকেই যাচ্ছে।’

শুধু সরবরাহ কম নয়, চাহিদাও বেড়েছে

ডিলার নিয়োগের জটিলতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগের পাশাপাশি সারের চাহিদা বেড়ে যাওয়াকেও বর্তমান পরিস্থিতির একটি কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী জেলার সচিব মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের মতে, সরকার প্রতি মাসে জেলাভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী সার বরাদ্দ দেয়। কিন্তু বর্তমানে অনেক কৃষক আমন মৌসুমের প্রয়োজনের পাশাপাশি সামনে আসা রবি মৌসুমের জন্যও আগাম সার সংগ্রহ করছেন।

ফলে কোনো কোনো এলাকায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে।

সরকারি হিসাবে সার চাহিদা নির্ধারণের পদ্ধতিতেও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

হাবিবুর রহমান বলেন, ‘কেবল রাজশাহী জেলায় প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে মৎস্য চাষ হয়। সেখানেও তো কিছু সার যায়, যেটা সরকারের হিসাবের মধ্যে নেই।’

এছাড়া কৃষকেরা অনেক সময় ফসলের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী ফসলভেদে নির্দিষ্ট পরিমাণ সার ব্যবহারের কথা থাকলেও অনেক কৃষক তার চেয়ে দ্বিগুণ পর্যন্ত সার প্রয়োগ করেন।

হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সরকারিভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয় ফসলভেদে ২০ থেকে ৩০ কেজি সার দেওয়ার। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দ্বিগুণ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে সার নষ্ট হচ্ছে এবং জমিও নষ্ট হচ্ছে।’

বরাদ্দ আছে, কিন্তু মাঠে পৌঁছাচ্ছে তো?

বাংলাদেশের সার বিতরণ ব্যবস্থায় কেন্দ্র থেকে জেলা, জেলা থেকে ডিলার এবং ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোর কথা।

কৃষি মন্ত্রণালয় সাধারণত কোনো মাসে যে পরিমাণ সার প্রয়োজন হবে, সেই পরিমাণ সার আগের মাসের মাঝামাঝি সময়ে বরাদ্দ দেয়।

অর্থাৎ অক্টোবরে কোনো জেলার যত পরিমাণ সার প্রয়োজন, সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিখের মধ্যেই সেই বরাদ্দ নির্ধারণ করার কথা।

এরপর জেলা পর্যায়ে সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি, যার প্রধান জেলা প্রশাসক, ডিলারভিত্তিক উপ-বরাদ্দ নির্ধারণ করে।

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোন ডিলার কত পরিমাণ সার উত্তোলন করবেন এবং কোথায় কত সার যাবে, তা আগেই নির্ধারিত হওয়ার কথা।

কিন্তু বাস্তবে এই পুরো ব্যবস্থার তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে সার বিতরণ ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের একটি অংশ যথাযথভাবে তদারকি করছেন না।

ইউনিয়ন পর্যায়ে সার বিতরণ পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর থাকলেও অনেক এলাকায় জনবল সংকট রয়েছে।

একটি ইউনিয়নে সাধারণত তিনজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন। তাদের ওপর কৃষি বিভাগের অন্যান্য কাজের চাপও থাকে।

ফলে প্রতিটি ডিলারের গুদাম থেকে সার ঠিকমতো বিতরণ হচ্ছে কি না, কৃষকের কাছে নির্ধারিত দামে সার পৌঁছাচ্ছে কি না, কিংবা মজুত করে রাখা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

‘মজুত আছে’ বলেই সরকারের দায় শেষ নয়

কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইদুর রহমানের মতে, সরকারি গুদামে সার থাকলেও যদি কৃষক তা না পান, তাহলে শুধু মজুতের হিসাব দিয়ে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা যায় না।

তিনি বলেন, ‘যদি রাস্তা থেকে সার লুট করে কেউ নিয়ে যেত, তাহলে না হয় বলা যেত এটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কিন্তু এটা যদি না হয়, তাহলে যাদের মাধ্যমে বিতরণটা হয় তারা তো এমন নয় যে বিরোধী দল। ব্যবস্থাপনার প্রটোকলটাও তো আমাদের জানা।’

তার মতে, সারের সরবরাহ ব্যবস্থায় কোথায় সমস্যা হচ্ছে তা শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

কারণ কৃষকের কাছে সময়মতো সার পৌঁছানো না গেলে সরকারি গুদামে বিপুল পরিমাণ সার মজুত থাকার পরও তার সুফল কৃষক পাবেন না।

গ্যাস সংকটেও বাড়ছে উদ্বেগ

সারের বর্তমান অস্থিরতার আরেকটি কারণ হিসেবে গ্যাস সংকটের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

গ্যাসের অভাবে দেশের কয়েকটি সার কারখানা নিয়মিত উৎপাদনে থাকতে পারছে না। ফলে দেশীয় উৎপাদন কমে গিয়ে আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে থাকা সার কারখানাগুলো নিয়মিত উৎপাদনে রাখতে পারলে দেশীয় ইউরিয়া উৎপাদনের মাধ্যমে চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করা সম্ভব।

কিন্তু গ্যাস সংকটে দেশের বেশিরভাগ সার কারখানা বন্ধ বা সীমিত সক্ষমতায় চলায় অভ্যন্তরীণ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, বর্তমানে দেশের মোট ইউরিয়া চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে।

ফলে আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। আর আন্তর্জাতিক বাজার, পরিবহন, জাহাজীকরণ বা আমদানি প্রক্রিয়ায় সামান্য কোনো সমস্যা দেখা দিলেও দেশের বাজারে তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

টিএসপি ও ডিএপি উৎপাদনেও সীমাবদ্ধতা

ইউরিয়ার পাশাপাশি টিএসপি ও ডিএপি সারের দেশীয় উৎপাদন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

বাংলাদেশে টিএসপি ও ডিএপি উৎপাদনের জন্য কারখানা থাকলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কারখানা দীর্ঘদিন ধরেই দেশের মোট চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারছে না।

ফলে এসব সারের ক্ষেত্রেও আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়।

অর্থাৎ দেশে পর্যাপ্ত মজুত থাকার সরকারি দাবি থাকলেও সার সরবরাহের পুরো ব্যবস্থাটি আসলে নির্ভর করছে আমদানি, সরকারি গুদাম, ডিলার নিয়োগ, জেলা পর্যায়ের বরাদ্দ, স্থানীয় বিতরণ এবং মাঠপর্যায়ের তদারকির ওপর।

এই চেইনের যেকোনো একটি পর্যায়ে সমস্যা তৈরি হলে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত কৃষকের ওপরই পড়ে।

সংকট আসলে কোথায়?

সারের বর্তমান পরিস্থিতিকে তাই কেবল ‘সার নেই’ এমন সংকট হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।

একদিকে সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত মজুত থাকার দাবি রয়েছে। অন্যদিকে কৃষকের অভিযোগ, তারা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না।

এই দুই বাস্তবতার মাঝখানে রয়েছে ডিলার নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা, পুরোনো ও নতুন ডিলারদের মধ্যে নিয়ন্ত্রণের দ্বন্দ্ব, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ, আগাম সার কেনার প্রবণতা, অতিরিক্ত সার ব্যবহার, চাহিদা নির্ধারণে সীমাবদ্ধতা, মাঠপর্যায়ে তদারকির ঘাটতি এবং গ্যাস সংকটে দেশীয় উৎপাদন কমে যাওয়া।

ফলে সারের সংকটটি সরবরাহের চেয়ে বেশি করে এখন হয়ে উঠেছে বিতরণ ও ব্যবস্থাপনার সংকট।

কৃষকের কাছে সময়মতো এবং নির্ধারিত দামে সার পৌঁছানো নিশ্চিত করতে না পারলে সরকারি গুদামে কত টন সার রয়েছে, সেই হিসাব দিয়ে মাঠের পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।

কারণ আমন মৌসুমের চাহিদা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। এর পরেই শুরু হবে রবি মৌসুম।

এ অবস্থায় বর্তমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান না হলে সামনে সারের চাহিদা আরও বাড়তে পারে। আর তখন গুদামে পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও কৃষক যদি বাজারে সার না পান, তাহলে প্রশ্নটি আরও বড় হয়ে উঠবে: বাংলাদেশে আসলে সার সংকট নেই, নাকি সংকটটা সার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থায়?

সূত্রঃ বিবিসি

এই শাখার আরও খবর

ডেঙ্গুতে এ বছর একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৫৭১

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার…

গোপালগঞ্জে কনসার্টে শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আয়োজক গ্রেপ্তার

গোপালগঞ্জ পৌর পার্কে কনসার্ট আয়োজনের আগে পুলিশের অনুমতি না নেওয়া এবং অনুষ্ঠান চলাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় এফএনএফ কনভেনশন হল অ্যান্ড…

বেদখল হচ্ছে ঝিলংজা কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের জায়গা, ক্ষুব্ধ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের জায়গা দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শ্মশানসংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারীদের কেউ কেউ নিজেদের বসতি সম্প্রসারণের জন্য শ্মশানের…

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সময় সঙ্গে থাকতে পারেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে ফেরার সময় তাঁর সঙ্গে একদল আন্তর্জাতিক স্বাধীন পর্যবেক্ষককে রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের…

ব্যালন ডি’অর ২০২৬: মনোনয়ন প্রকাশ শুরু, সেরা হওয়ার দৌড়ে যারা

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের ২০২৬ সালের মনোনয়ন প্রকাশ শুরু হয়েছে। মূল পুরস্কারের পাশাপাশি সেরা গোলরক্ষক, সেরা তরুণ খেলোয়াড়, সেরা কোচ ও…

ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস: শিগগিরই মিলছে চালুর নির্দিষ্ট তারিখ

ঢাকা-কলকাতা রুটে বন্ধ থাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে শিগগিরই সুখবর দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ট্রেনটি কবে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au