লোডশেডিং মোকাবেলায় বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ, জনদুর্ভোগে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ
মেলবোর্ন, ২৯ জুন- তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লোডশেডিং পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা…
মেলবোর্ন, ৮ অক্টোবর- বিশিষ্ট আলোকচিত্রী ও দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল আলম জানিয়েছেন, গাজামুখী মানবিক সহায়তাবাহী জাহাজে যাত্রাকালে ইসরায়েলি বাহিনী তাঁদের আটক করেছে এবং তাঁকে অপহরণ করেছে। বুধবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সকাল সোয়া ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ তথ্য দেন।
ভিডিও বার্তায় শহিদুল আলম বলেন, “আমি শহিদুল আলম, বাংলাদেশের একজন আলোকচিত্রী ও লেখক। আপনারা যদি এই ভিডিওটি দেখে থাকেন, তাহলে জানবেন—আমাদের সাগরে আটকে দেওয়া হয়েছে এবং আমাকে ইসরায়েলের দখলদার বাহিনী অপহরণ করেছে। এরা সেই বাহিনী, যারা যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা শক্তির সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় গাজায় জাতিগত নিধন চালাচ্ছে। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে আমি আমার সব সহযোদ্ধা ও বন্ধুর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
শহিদুল আলম আরও বলেন, তিনি যে জাহাজে ছিলেন, সেটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক ও চিকিৎসকসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গাজার দিকে এগোতেই ইসরায়েলি নৌবাহিনী জাহাজটি মাঝসমুদ্রে থামিয়ে দেয়। এরপর তাঁদের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়।
এই জাহাজটি ছিল ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামের একটি আন্তর্জাতিক মানবিক অভিযানের অংশ, যার উদ্দেশ্য ছিল ইসরায়েলি অবরোধ উপেক্ষা করে গাজায় জরুরি চিকিৎসা ও খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। সুমুদ ফ্লোটিলার অংশ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক ও সমাজকর্মীরা যোগ দিয়েছিলেন। তারা দাবি করেছিলেন, এই মিশন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও মানবিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছিল।
তবে ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে গাজা উপত্যকার ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। ২০০৭ সালে হামাস ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এই অবরোধ কার্যকর হয়, যার ফলে গাজায় খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানিসহ প্রায় সব ধরনের পণ্য প্রবেশে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দাবি, এই অবরোধ মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং একে “সমষ্টিগত শাস্তি” হিসেবে দেখা হয়।
শহিদুল আলমের এই ভিডিও প্রকাশের পর বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর নিখোঁজ বা আটকের বিষয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি উঠেছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, একজন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সাংবাদিক ও আলোকচিত্রীর এমন পরিস্থিতি বিশ্ব গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।
দুই বছর ধরে চলমান ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের সময় বিদেশি সাংবাদিকদের গাজায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বারবার গাজায় স্বাধীনভাবে কাজ করার অনুমতি চাইলেও তেলআবিব সরকার তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২৭০ জনের বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। অনেকে আহত বা ইসরায়েলি কারাগারে বন্দী রয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (RSF) ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে সাংবাদিক ও মানবিক কর্মীদের প্রতি নিপীড়নের বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাদেশে শহিদুল আলমের সহকর্মী, দৃক ও পাঠশালা পরিবারের সদস্যরাও তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক রেডক্রস, এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শহিদুল আলম দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার, সংবাদপেশার স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে সোচ্চার। তিনি বাংলাদেশের গণমাধ্যম, সংস্কৃতি ও নাগরিক আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত। তাঁর এই সাম্প্রতিক অপহরণের খবর বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au