শরীর ম্যাসাজের কথা বলে রুমে ডেকে বলাৎকার, পালিয়ে বেরাচ্ছেন মাদ্রাসা শিক্ষক
রংপুরের কাউনিয়ায় একটি মাদ্রাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের আবাসিক এক শিক্ষার্থীকে শরীর ম্যাসাজ করে দেওয়ার কথা বলে কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক…
মেলবোর্ন, ৮ অক্টোবর- ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ভারতের দিক থেকে ভেসে এসেছে হাজার হাজার গাছের গুঁড়ি। গত কয়েক দিনে এই গাছের গুঁড়ি কুড়িগ্রামের বিভিন্ন নদীতে ছড়িয়ে পড়েছে। বাকল ও শিকড়বিহীন, লালচে রঙের এসব গাছ দেখতে অনেকটা চন্দন কাঠের মতো হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে শুরু হয়েছে কাড়াকাড়ি। কেউ এগুলোকে ‘লাল চন্দন’ ভেবে বিক্রি করছেন চড়া দামে।
রোববার বিকেল থেকে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ঢলডাঙা ও শালঝোড় এলাকায় কালজানী নদী দিয়ে গাছের গুঁড়ি ভেসে আসতে থাকে। স্থানীয়রা জানান, দৃশ্যটি অনেকটা ভারতের জনপ্রিয় সিনেমা ‘পুষ্পা’র মতো মনে হয়েছে। সোমবারের মধ্যে সেই কাঠ কালজানী নদী পেরিয়ে দুধকুমার হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে পৌঁছায়। এতে ভূরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম সদর, উলিপুর ও চিলমারী উপজেলার শত শত মানুষ নদীপথে নেমে পড়েন। কেউ নৌকা, কেউ বাঁশের ভেলা, আবার কেউ টায়ার-টিউব ব্যবহার করে কাঠ সংগ্রহ করতে থাকেন। অনেক জায়গায় নদীর তীরে অস্থায়ী হাট বসে যায়, যেখানে এই কাঠ বিক্রি হচ্ছে হাজার থেকে লাখ টাকায়।
একটির দাম দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত
মঙ্গলবার বিকেলে নাগেশ্বরী উপজেলার দামালগ্রাম এলাকায় দেখা গেছে, প্রতিটি গাছের গুঁড়ি ২০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও দাম আরও বেশি। রায়গঞ্জ ইউনিয়নের দামালগ্রামে একটি বড় গাছের গুঁড়ির দাম ধরা হয়েছে দেড় লাখ টাকা। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মোতালেব বলেন, “আমরা চারজন মিলে প্রায় ৫০ ফুট লম্বা একটা গুঁড়ি তুলেছি। দেখতে একদম চন্দন কাঠের মতো। দাম চেয়েছি দেড় লাখ টাকা, তবে ১ লাখ ২০ হাজারে ছাড় দেব।”
কাঠ ব্যবসায়ী আজাদ হোসেন জানান, তাঁর খড়ির দোকানের জন্য একেকটি গুঁড়ি ১২ হাজার টাকায় কিনেছেন। পরে কেটে জ্বালানি কাঠ হিসেবে বিক্রি করবেন। ছিটমাইলানী গ্রামের সবুজ মিয়া বলেন, তিনি পরিবারের সবাইকে নিয়ে নদী থেকে প্রায় ৫০০ মণ কাঠ তুলেছেন। রান্নার জন্য কিছু রাখবেন, বাকিটা বিক্রি করবেন।

রোববার বিকেল থেকে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ঢলডাঙা ও শালঝোড় এলাকায় কালজানী নদী দিয়ে গাছের গুঁড়ি ভেসে আসতে থাকে। ছবিঃ ওটিএন বাংলা
চন্দন নয়, সাধারণ কাঠই লালচে হয়েছে
কুড়িগ্রাম জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাদিকুর রহমান বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাঠগুলো পরীক্ষা করেছি। এগুলো চন্দন কাঠ নয়। দীর্ঘদিন পানিতে ভিজে থাকার কারণে রং লালচে হয়ে গেছে। শ্বেতচন্দন বা রক্তচন্দনের কোনো নমুনা পাওয়া যায়নি।”
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও উদ্ভিদবিদ মীর্জা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, কাঠে থাকা ট্যানিন ও ফেনলিক যৌগ পানিতে দীর্ঘদিন ভিজে থাকার পর বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে জারণ ঘটায়। ফলে কাঠ লালচে বা বাদামি রঙ ধারণ করে। এটি একটি প্রাকৃতিক রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া, যার সঙ্গে চন্দনের কোনো সম্পর্ক নেই।
তিনি বলেন, “চন্দন কাঠের বিশেষ গন্ধ থাকে। শুকনো কাঠ কেটে ঘষলেই সেই গন্ধ পাওয়া যায়। কিন্তু এই কাঠগুলোর কোনো গন্ধ নেই। এতে পরিষ্কার, এগুলো সাধারণ গাছের কাঠ।”
স্থানীয়দের উৎসবমুখর পরিবেশ
নদীর পাড়ে এখন এক ধরনের উৎসবের আমেজ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষ নেমে পড়ছেন নদীতে কাঠ সংগ্রহে। কেউ নিজের ব্যবহারের জন্য রাখছেন, কেউ বিক্রি করছেন। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে অনেকেই জানিয়েছেন, এই কাঠ কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে ভারতের দিক থেকে ভেসে এল—সেটা এখনো স্পষ্ট নয়।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে ভারতের আসাম বা এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে নদীপথে এসব গাছ ভেসে এসেছে। বন্যার স্রোতে ভেসে আসা এসব কাঠ এখন স্থানীয় মানুষের কৌতূহল ও অর্থনৈতিক আশার উৎস হয়ে উঠেছে।
সুত্রঃ প্রথম আলো
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au