লোডশেডিং মোকাবেলায় বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ, জনদুর্ভোগে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ
মেলবোর্ন, ২৯ জুন- তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লোডশেডিং পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা…
মেলবোর্ন, ৮ অক্টোবর- চলতি বছর রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন দেশের তিন বিজ্ঞানী—জাপানের কিউটো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুসুমু কিতাগাওয়া, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিচার্ড রবসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলির অধ্যাপক ওমর এম. ইয়াগি। তাঁরা ধাতব জৈব কাঠামো বা মেটাল অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্কস (Metal-Organic Frameworks, MOF) উন্নয়নের জন্য এ বছরের নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
বাংলাদেশ সময় বুধবার বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে সুইডেনের স্টকহোম থেকে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস ২০২৫ সালের রসায়নে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করে।
নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীরা পাবেন একটি স্বর্ণপদক, একটি সনদপত্র এবং মোট ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা) পুরস্কার হিসেবে। যেসব বিভাগে একাধিক পুরস্কারপ্রাপ্ত থাকেন, তাঁদের মধ্যে এ অর্থ ভাগ করে দেওয়া হবে।
প্রতিবছর পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে নোবেল ঘোষণা করে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস, আর চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল ঘোষণা করে স্টকহোমের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট।
অণুর স্থাপত্যে নতুন যুগের সূচনা
২০২৫ সালের রসায়নে নোবেলজয়ীরা এমন এক নতুন অণু-নকশা তৈরি করেছেন, যার ভেতরে রয়েছে রাসায়নিক বিক্রিয়ার জন্য ফাঁকা স্থান—যেন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘর। এই কাঠামোর মাধ্যমে গ্যাস ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ প্রবাহিত হতে পারে।
তাঁদের তৈরি মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্কস (MOF) ব্যবহার করে মরুভূমির বাতাস থেকে পানি সংগ্রহ, কার্বন ডাই–অক্সাইড শোষণ, বিষাক্ত গ্যাস সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া ত্বরান্বিত করা সম্ভব।
নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান হেইনার লিঙ্কে বলেন, “মেটাল–অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্কস নতুন উপাদান তৈরির এক বিশাল সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে। এগুলো বিজ্ঞানের এক নতুন দিগন্তে নিয়ে যাচ্ছে।”
গবেষণার পটভূমি
এই ধারণার সূচনা হয় ১৯৮৯ সালে। ব্রিটিশ বিজ্ঞানী রিচার্ড রবসন তখন পরমাণুর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা শুরু করেন। তিনি ধনাত্মক চার্জযুক্ত কপার আয়নকে চার বাহুবিশিষ্ট একটি অণুর সঙ্গে যুক্ত করেন, যার প্রতিটি বাহুর প্রান্তে ছিল কপার আকর্ষণকারী রাসায়নিক অংশ।
এ দুটি উপাদান যুক্ত হয়ে তৈরি হয় একটি সুশৃঙ্খল ও প্রশস্ত স্ফটিক কাঠামো—যেন এক হীরার মতো, যার ভেতর অসংখ্য ক্ষুদ্র গহ্বর রয়েছে। তবে কাঠামোটি অস্থিতিশীল হওয়ায় দ্রুত ভেঙে যেত।
পরে জাপানের সুসুমু কিতাগাওয়া ও জর্ডানের ওমর ইয়াগি ১৯৯২ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে আলাদাভাবে একাধিক যুগান্তকারী আবিষ্কার করেন। কিতাগাওয়া দেখান, কাঠামোর ভেতরে গ্যাস প্রবাহিত হতে পারে এবং MOF-কে নমনীয় করা সম্ভব। ইয়াগি তৈরি করেন একটি অত্যন্ত স্থিতিশীল MOF এবং দেখান, এটিকে নকশা অনুযায়ী পরিবর্তন করে নতুন বৈশিষ্ট্য যোগ করা যায়।
তাঁদের এই আবিষ্কারের পর বিশ্বজুড়ে রসায়নবিদরা এখন পর্যন্ত দশ হাজারেরও বেশি ধরনের MOF তৈরি করেছেন। এগুলোর কিছু ইতিমধ্যেই পরিবেশ ও প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে—যেমন পানি থেকে ক্ষতিকর PFAS আলাদা করা, পরিবেশে ওষুধের অবশিষ্টাংশ ভাঙা, কার্বন ডাই–অক্সাইড আটকানো বা মরুভূমির বাতাস থেকে পানি আহরণ।
পুরস্কারপ্রাপ্তদের সংক্ষিপ্ত পরিচয়
সুসুমু কিতাগাওয়া: জন্ম ১৯৫১ সালে কিয়োতো, জাপান। পিএইচডি (১৯৭৯), কিয়োতো বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে অধ্যাপক, কিয়োতো বিশ্ববিদ্যালয়।
রিচার্ড রবসন: জন্ম ১৯৩৭ সালে গ্লাসবার্ন, যুক্তরাজ্য। পিএইচডি (১৯৬২), অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে অধ্যাপক, মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়া।
ওমর এম. ইয়াগি: জন্ম ১৯৬৫ সালে আম্মান, জর্ডান। পিএইচডি (১৯৯০), ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা-শ্যাম্পেইন, যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে অধ্যাপক, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলি।
সুত্রঃ দ্য নোবেল প্রাইজ ওয়েবসাইট
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au