শিক্ষক-কর্মচারীদের সরাতে গিয়ে পুলিশ লাঠিপেটা করে, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ছোড়ে। ছবিঃ ইত্তেফাক
মেলবোর্ন, ১২ অক্টোবর- বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চলমান আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অবস্থান কর্মসূচিতে দুপুরের দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বাড়িভাড়া ভাতা ও অন্যান্য দাবিতে প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের সরাতে গিয়ে পুলিশ লাঠিপেটা করে, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ছোড়ে। এতে কয়েকজন সাংবাদিকসহ শিক্ষক-কর্মচারী আহত হন বলে জানা গেছে।
সরকার ঘোষিত বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধিকে ‘অপর্যাপ্ত ও অবাস্তব’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীরা। তারা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা দেড় হাজার টাকা এবং কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ করার দাবি জানিয়ে আসছেন। আজ সকাল ৮টা থেকে ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট’-এর ব্যানারে প্রেস ক্লাবের সামনে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন তারা। বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী অংশ নেওয়ায় এলাকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

আন্দোলন দমাতে পুলিশের জলকামান নিক্ষেপ। ছবিঃ ইত্তেফাক
দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা শহীদ মিনারে চলে যান, পাঁচ মিনিট সময় দেওয়া হলো। পাঁচ মিনিট পর আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। আপনাদের নেতারা শহীদ মিনারে চলে গেছেন, তাই আপনারাও রাস্তা অবরোধ করবেন না।” কিন্তু আন্দোলনরত শিক্ষকরা রাস্তা ছাড়তে অস্বীকার করেন। শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাস্তা ছাড়ব না।”
পুলিশ এরপর সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের সরাতে গেলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকজন শিক্ষক লাঠিপেটায় আহত হন। পরে শিক্ষকরা প্রেস ক্লাব এলাকা থেকে সরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নেন। সেখানে গিয়েই তারা লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

রোববার সকাল থেকে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘লাগাতার অবস্থান’ কর্মসূচি শুরু করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। ছবিঃ সংগৃহীত
এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী সাংবাদিকদের বলেন, “জনদুর্ভোগ এড়াতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি এখন থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চলবে। দাবি বাস্তবায়নের প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত এখান থেকেই আমরা কর্মসূচি চালিয়ে যাব।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের নেতারা ইতিমধ্যে শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়েছেন। যারা এখনো প্রেস ক্লাবে আছেন, তাদের অনুরোধ করছি, মিছিলসহ শহীদ মিনারে যোগ দিতে। আলোচনার মাধ্যমে এবং সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা প্রজ্ঞাপন নিয়েই শ্রেণিকক্ষে ফিরব।”
প্রেস ক্লাব এলাকা থেকে শিক্ষকদের সরাতে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও লাঠিপেটার ঘটনায় শিক্ষক সমাজে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের সংঘর্ষ বা গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।