শরীর ম্যাসাজের কথা বলে রুমে ডেকে বলাৎকার, পালিয়ে বেরাচ্ছেন মাদ্রাসা শিক্ষক
রংপুরের কাউনিয়ায় একটি মাদ্রাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের আবাসিক এক শিক্ষার্থীকে শরীর ম্যাসাজ করে দেওয়ার কথা বলে কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক…
মেলবোর্ন, ১৩ অক্টোবর- বাংলাদেশে শুরু হয়েছে সারাদেশব্যাপী টাইফয়েড প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি, যার লক্ষ্য কয়েক কোটি শিশুকে এই প্রাণঘাতী ব্যাধি থেকে সুরক্ষা দেওয়া। অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী টাইফয়েডের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মধ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার শুরু হওয়া এক মাসব্যাপী এই কর্মসূচির আওতায় ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় ৫ কোটি শিশুকে এক ডোজ টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) দেওয়া হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) অনুমোদিত এই টিকা পাঁচ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে সক্ষম এবং এটি সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)–এর আওতায় বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় ওষুধ প্রতিরোধী টাইফয়েড দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় এই প্রচারণা চালু করা হয়েছে। পাকিস্তান ২০১৬ সাল থেকে এমন এক ধরনের টাইফয়েডের বিরুদ্ধে লড়ছে, যা প্রায় সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি প্রতিরোধী—মাত্র একটি ওষুধ ছাড়া।
বাংলাদেশে স্বাস্থ্যকর্মীরা স্কুল, ক্লিনিক এবং ঘরে ঘরে গিয়ে টিকা দিচ্ছেন। বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে শহরের বস্তি ও দুর্গম গ্রামীণ এলাকায়। এই কর্মসূচি চলবে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত। এরপর টিসিভি দেশটির নিয়মিত টিকাদান সূচিতে যুক্ত করা হবে।
টাইফয়েডের সংক্রমণ ও ঝুঁকি
স্যালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়ার কারণে টাইফয়েড হয়, যা দূষিত খাদ্য ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। এতে জ্বর, পেটব্যথা, বমিভাব দেখা দেয় এবং চিকিৎসা না পেলে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু টাইফয়েড ব্যাকটেরিয়া এখন সেফট্রিয়াক্সন অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতিও প্রতিরোধী হয়ে উঠছে—যা উদ্বেগজনক, কারণ এই ওষুধটি টাইফয়েডের শেষ কার্যকর চিকিৎসাগুলোর একটি।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এই প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া টাইফয়েড নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠিন করে তুলবে। টিকা জোট ‘গাভি’র সহায়তায় নেওয়া এই প্রচারণার লক্ষ্য সংক্রমণের হার কমানো এবং ওষুধ প্রতিরোধের বিস্তার রোধ করা।
টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করে সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, “এখনও বাংলাদেশে শিশুরা টাইফয়েডে মারা যাচ্ছে, এটি দুঃখজনক।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ যেমন ডায়রিয়া ও রাতকানা জয় করেছে, তেমনি টাইফয়েডকেও পরাজিত করবে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানান, পাকিস্তান, নেপাল ও ভারতের মুম্বাইসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে এই টিকা কার্যক্রমে কোনো বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি, যা এর নিরাপত্তার প্রমাণ দেয়।
সুত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au