১১তম ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মিসরের কায়রোর একটি হোটেলে বৈঠক করেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং শাহবাজ শরিফ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৪ অক্টোবর- বাংলাদেশের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই (ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স) এখন পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ও জামায়াতে ইসলামীর চাপে রয়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদসংস্থা আইএএনএস। সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, আইএসআই ও জামায়াত বাংলাদেশে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য একটি অনুগত নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করতে চাইছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিজিএফআই গঠনের শুরুতে আইএসআইয়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল এবং ভারতের ভেতরে অনুপ্রবেশ বাড়িয়ে জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের পরিকল্পনায় অংশ নিয়েছিল। আইএসআইয়ের নির্দেশে এই কাজে জামায়াতে ইসলামীকেও সম্পৃক্ত করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ডিজিএফআই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে সফলতা পায়।
এতে আইএসআই অসন্তুষ্ট হয়, কারণ তারা বাংলাদেশে একটি বড় মিত্র হারায়। গত কয়েক বছরে ডিজিএফআই সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছে, বিশেষ করে উলফা (ULFA)-এর বিরুদ্ধে। ডিজিএফআইয়ের এই ভূমিকা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতীক সন্ত্রাসবাদ থেকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করেছে।
আইএএনএসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই সাফল্য উগ্রপন্থী গোষ্ঠী ও আইএসআইয়ের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। ফলে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ডিজিএফআইকে ভেঙে নতুন একটি সংস্থা গঠনের পরিকল্পনা করছে, যা আইএসআইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনী ভেঙে ‘ইসলামিক রেভল্যুশন আর্মি’ (আইআরএ) নামের নতুন বাহিনী গঠনের বিষয়েও চাপ রয়েছে। এই বাহিনী ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) আদলে গঠিত হবে এবং রাষ্ট্রের চেয়ে সরকারের প্রতি অনুগত থাকবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইউনূস সরকার ইতিমধ্যে ডিজিএফআই ও সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার পদক্ষেপ নিয়েছে। আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে নিষিদ্ধ করার পর এখন একাধিক সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তা এবং ডিজিএফআই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।
চার্জশিটে সাবেক ডিজিএফআই মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদীন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল টাবরেজ শামস চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক, মেজর জেনারেল তোহিদুল ইসলাম ও মেজর জেনারেল সরওয়ার হোসেনের নাম রয়েছে। একই অভিযোগপত্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সূত্র: আইএএনএস