ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনিজুয়েলা, মৃত্যু ১৪০০ ছাড়াল
মেলবোর্ন, ২৮ জুন- ভেনিজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বেড়ে ১ হাজার ৪৩০ জনে পৌঁছেছে। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩ হাজার ২৩৮ জন, আর…
মেলবোর্ন, ২১ অক্টোবর- ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অস্ট্রেলিয়া ও তার প্রধানমন্ত্রীকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য “এর চেয়ে ভালো মিত্র আর কখনো ছিল না।”
প্রায় ১০ মাস অপেক্ষার পর গত সোমবার হোয়াইট হাউসে সরাসরি এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো।
বৈঠকে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহু-বিলিয়ন ডলারের খনিজসম্পদ প্রক্রিয়াকরণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা মূলত চীনের এই খাতে বৈশ্বিক প্রভাব মোকাবিলা করার লক্ষ্য নিয়ে করা হয়েছে। ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে অকুস (AUKUS) নিরাপত্তা চুক্তির অধীনে অস্ট্রেলিয়া যে সাবমেরিন পাওয়ার কথা, তা তারা যথাসময়ে পাবে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া সফরের আমন্ত্রণও গ্রহণ করেছেন তিনি, যদিও বিষয়টি “গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে” বলেও উল্লেখ করেন।
তবে বৈঠকে এক পর্যায়ে পরিস্থিতি তিক্ত হয় সাবেক অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রে অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত কেভিন রাডকে নিয়ে। অতীতে ট্রাম্পকে নিয়ে দেওয়া তার সমালোচনামূলক পোস্টের প্রসঙ্গে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে ট্রাম্প ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলেন, “হয়তো তিনি এখন ক্ষমা চাইতে চাইবেন।” এরপর রাডের দিকে তাকিয়ে যোগ করেন, “আমি আপনাকেও পছন্দ করি না, আর সম্ভবত কখনো করব না।” অ্যালবানিজ বিষয়টিকে হেসে উড়িয়ে দিলে বৈঠক আবার স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে। পরে ক্যামেরা বন্ধ হওয়ার পর রাড ও ট্রাম্পের মধ্যে আরও সৌহার্দ্যপূর্ণ কথাবার্তা হয় বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
বৈঠকের শুরুতেই ট্রাম্প বলেন, অস্ট্রেলিয়া একটি অসাধারণ দেশ এবং তাদের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সম্মানিত একজন নেতা। “আমরা দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের মিত্র। যুদ্ধক্ষেত্রেও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছি। কখনো একে অপরের ওপর সন্দেহ করিনি,” যোগ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, “আপনাকে বন্ধু হিসেবে পাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানাতে পারা আমার জন্য গর্বের।”
খনিজসম্পদ নিয়ে হওয়া নতুন চুক্তি নিয়ে অ্যালবানিজ জানান, এটি প্রায় ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের সূচনা, যা অস্ট্রেলিয়ার খনিজ প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা আরও বাড়াবে। তিনি বলেন, শুধু খনিজ উত্তোলন করে রপ্তানি করাই নয়, বরং পুরো সরবরাহব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইন থেকে কীভাবে লাভবান হওয়া যায়, সেদিকেও অস্ট্রেলিয়া গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজসমৃদ্ধ হলেও সেগুলোর পরিশোধন ও প্রক্রিয়াকরণে এখনো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চীনের ওপর নির্ভর করতে হয়, আর সেই পরিস্থিতি বদলাতেই এই উদ্যোগ।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ, হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ স্যুসি ওয়াইলস ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বার্গাম উপস্থিত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ, রাষ্ট্রদূত কেভিন রাড, মন্ত্রী টিম অ্যায়ার্স, ম্যাডেলিন কিং ও প্রধানমন্ত্রীর চিফ অব স্টাফ টিম গারট্রেলসহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা।
এই বৈঠক ছিল ট্রাম্প ও অ্যালবানিজের প্রথম সরাসরি আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ। তবে এর আগে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনে তারা সংক্ষিপ্তভাবে দেখা করলে একটি সেলফিও তোলেন। ফোনেও তারা পূর্বে কথা বলেছেন।
সুত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au