বিশ্ব

সুদানের হাসপাতালে আরএসএফের হামলায় নিহত অন্তত ৪৬০

  • 7:48 pm - October 30, 2025
  • পঠিত হয়েছে:১৬৮ বার
সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৩০ অক্টোবর- সুদানের দারফুর অঞ্চলে একটি হাসপাতালে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে অন্তত ৪৬০ জনকে হত্যা করেছে আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, রবিবার এল-ফাশের শহর দখলের পর আরএসএফ ওই শহরের প্রধান হাসপাতালটিতে হামলা চালায়। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক এক বিবৃতিতে জানায়, মঙ্গলবার আরএসএফ সদস্যরা হাসপাতালে ঢুকে উপস্থিত সবাইকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করে। তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি কোনো রোগী, আত্মীয়স্বজন কিংবা হাসপাতালের কর্মী। সংগঠনটি জানায়, শহরের চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো এখন “মানব কসাইখানায়” পরিণত হয়েছে।

সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আরএসএফ চারজন চিকিৎসক, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন নার্সসহ মোট ছয় স্বাস্থ্যকর্মীকে অপহরণ করেছে এবং তাদের মুক্তির জন্য দেড় লাখ ডলারের বেশি মুক্তিপণ দাবি করেছে।

মঙ্গলবারের হত্যাযজ্ঞের বিষয়টি স্থানীয় এল-ফাশের রেজিস্ট্যান্স কমিটিও নিশ্চিত করেছে। তারা জানায়, এ হত্যার পর শহরজুড়ে নেমে আসে ভয়াবহ নীরবতা।

প্রায় ১৮ মাসের অবরোধ, অনাহার ও গোলাবর্ষণের পর রবিবার আরএসএফ দারফুরের এল-ফাশের দখল নেয়। এটি ছিল ঐ অঞ্চলে সুদান সেনাবাহিনীর শেষ ঘাঁটি।

২০২৩ সালের এপ্রিলে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে আরএসএফ ও তাদের মিত্র আরব মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে অ-আরব জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা, ধর্ষণ ও জাতিগত নিধনের অভিযোগ উঠেছে। তবে আরএসএফ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এল-ফাশের দখলের পর জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো শহরে আটকে থাকা প্রায় আড়াই লাখ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংঘর্ষ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সম্প্রতি প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, আরএসএফ সদস্যরা নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের গুলি করে হত্যা করছে। সহায়তা সংস্থাগুলোর মতে, শহর ও আশপাশের এলাকায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনো প্রকাশ পায়নি।

কিছু বেঁচে থাকা মানুষ প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে পাশের টাওইলা শহরে পালিয়ে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তাদের একজন বিবিসি আরবিকে বলেন, “শনিবার গোলাবর্ষণ এতই ভয়ানক ছিল যে আমাদের পালানো ছাড়া উপায় ছিল না। পথে আরএসএফ সদস্যরা আমাদের মারধর করে, জিনিসপত্র কেড়ে নেয়, অনেককে ধরে মুক্তিপণ দাবি করে। কয়েকজনকে পরে গুলি করে হত্যা করা হয়।”

জাতিসংঘের সাবেক মানবিক সহায়তা কর্মকর্তা ইয়ান এগেল্যান্ড পরিস্থিতিকে “পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এখানে গণহত্যার পর গণহত্যা চলছে অনাহার, চিকিৎসাহীনতা, মৃত্যু। সব মিলিয়ে এটি মানবতার এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি।”

সুত্রঃ রয়টার্স ও বিবিসি

এই শাখার আরও খবর

নতুন হামলার জেরে হরমুজ প্রণালিতে কমেছে জাহাজ চলাচল

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই:  যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও…

সাত মাসের শিশু কন্যাকে আছড়ে হত্যার মামলায় বাবা গ্রেপ্তার

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: রাজধানীর উত্তরার সিরাজ মার্কেট এলাকায় সাত মাস বয়সী শিশুকন্যাকে আছড়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাবা কবির ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন…

জাবি মেডিক্যাল সেন্টারে ২১ দিনে প্রায় ২০ হাজার ওষুধের গরমিল

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিক্যাল সেন্টারে মাত্র ২১ দিনের ব্যবধানে প্রায় ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধের গরমিল ধরা পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ ক্রয় কমিটির…

৯ জেলায় বন্যার শঙ্কা, আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টায় প্লাবিত হতে পারে নিম্নাঞ্চল

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের অন্তত ৯ জেলায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। একই সঙ্গে…

মন্দিরে নেওয়ার কথা বলে কিশোরীকে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, নারীসহ গ্রেপ্তার ৩

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই:  ভারতের কর্নাটকের দেবনাহাল্লিতে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে অপহরণের পর জোরপূর্বক মদ খাইয়ে এক নির্মাণাধীন ভবনে সারা রাত সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা…

দিল্লিতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক, মোদীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ

মেলবোর্ন, ২২জুলাই- ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au